কাঁদতে কাঁদতে অভিনেত্রী বললেন, জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে
জ্যোতিকা জ্যোতি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:১৩ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৩১
দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি এবার ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কাজ না পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, পেশাগত বৈষম্য ও আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে একঘরে করে রাখা হয়েছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমার আর শক্তি নেই। এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে ভুল করেছি।’
সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক লাইভে জ্যোতিকা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। তার অভিযোগ, শুধু অনলাইনেই নয়, অভিনয়জীবনেও নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অভিনেত্রীর দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাকে পরিকল্পিতভাবে কাজ থেকে দূরে রাখছে। বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে নতুন কোনো কাজ পাচ্ছেন না। এমনকি অনেক নির্মাতা তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান বলেও তাকে জানিয়েছেন। তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
জ্যোতিকা বলেন, ‘আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না। আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে।’
লাইভে তিনি আরও জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তার হাতে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ নেই। এর ফলে আর্থিক সংকটও তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকেও সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিচ্ছে।
বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘এর একটা শেষ করেন, প্লিজ।’
জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তিনি বহুল আলোচিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ–সমর্থক শিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে তার দাবি। তার ভাষ্য, ওই সময়ের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি, হুমকি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরেও আলোচনায় এসেছিলেন জ্যোতিকা। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে অফিসকক্ষে আটকে রাখার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার নিজের বর্ণনা দেন। তখনও কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতির কারণে তাঁকে অফিসে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তবু দায়িত্ববোধ থেকে অফিসে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মুখোমুখি হন। পরে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে বের হওয়ার সময় পরিচিত মানুষদের আচরণ তাঁকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল বলে জানান।
সর্বশেষ ফেসবুক লাইভের একেবারে শেষ দিকে আবেগাপ্লুত হয়ে জ্যোতিকা বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। আমার মনে হচ্ছে, আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’
২০০৪ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন জ্যোতিকা জ্যোতি। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এই অভিনেত্রী টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি ‘আয়না’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলি’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ এবং কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
- বিষয় :
- জ্যোতিকা জ্যোতি