প্রাকৃতিক শ্যাম্পু
আসমাউল হুসনা
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২২ | ২৩:৫৮
ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত শ্যাম্পু ব্যবহার না করে ঘরেই তৈরি করতে পারেন। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এ শ্যাম্পু চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে। লিখেছেন আসমাউল হুসনা
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সব শ্যাম্পু সবার ত্বক ও চুলের জন্য ভালো নয়। সেসব শ্যাম্পুতে অনেক সময় অতিরিক্ত প্যারাবিন, ফরমালডিহাইড, সালফেট ও পলিথিলিন গ্লাইকলের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এসব উপাদান মাথার ত্বকের ক্ষতি করে। উপকারের বদলে বরং অপকার হয়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘরেই বানাতে পারেন কেমিক্যালমুক্ত শ্যাম্পু। হাতের কাছে থাকা খুব অল্প উপাদানেই তৈরি করতে পারবেন স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, 'চুলের ঘনত্ব বাড়াতে এবং চুল ঝরে পড়া রোধ করতে প্রাকৃতিক শ্যাম্পু অত্যন্ত কার্যকরী। প্রাকৃতিক উপাদানের শ্যাম্পু প্রাণহীন চুলকে করে তুলবে ঝলমলে। ত্বকে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থাকলে প্রাকৃতিক শ্যাম্পু সে ক্ষেত্রে আরাম দেবে। চুল নরম ও কোমল করবে প্রাকৃতিক শ্যাম্পু। রং করা চুলের জন্যও এটি অনেক উপকারী।'
যেভাবে তৈরি করবেন প্রাকৃতিক শ্যাম্পু
নারকেল দুধের শ্যাম্পু :নারকেল দুধ দিয়ে সহজেই তৈরি করে নিতে পারেন শ্যাম্পু। এ জন্য ১ কাপ নারকেল দুধ, ৪ টেবিল চামচ লিকুইড সাবান, আধা চামচ ভিটামিন-ই অয়েল, ১ চামচ এসেনশিয়াল অয়েল এবং শুস্ক চুলের জন্য আধা চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবহার করে ফেলুন। এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
টি-ব্যাগের শ্যাম্পু :টি-ব্যাগ দিয়ে শ্যাম্পু তৈরি করার জন্য প্রথমে আধা কাপ পানির সঙ্গে ২টি টি-ব্যাগ দিন। এরপর এটিকে অন্তত ১০ মিনিট ফোটান। চায়ের এ মিশ্রণের মধ্যে ডাভ সাবানের ছোট ছোট কয়েক টুকরা দিন। সাবান সম্পূর্ণ গলে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এর মধ্যে এবার গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। একটি বোতলে এ শ্যাম্পু তুলে রেখে অনেক দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
রিঠার শ্যাম্পু :৫০০ মিলিলিটার পানিতে ৬-৭টি শিকাকাই, ৫-৬টি রিঠা এবং কয়েকটি আমলকী সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে মিশ্রণটি চুলায় দিন। ফুটে গেলে চুলা নিভিয়ে দিন। এটি ঠান্ডা হয়ে গেলে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এটি তৈরির সময় খেয়াল করবেন উপাদানগুলো থেকে প্রচুর ফেনা তৈরি হয়েছে। এবার মিশ্রণটি শ্যাম্পুর মতো ব্যবহার করুন।
যদি এত ঝামেলায় যেতে না চান তাহলে আমলকী, রিঠা ও শিকাকাই সারারাত ভিজিয়ে রাখুন, পরের দিন এ পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটিও শ্যাম্পুর মতো কাজ করবে। অথবা রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে সেটির পেস্ট তৈরি করে নিন। এর সঙ্গে শিকাকাই গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি চুলে ব্যবহার করুন, আপনি চাইলে এর সঙ্গে শ্যাম্পু মিশিয়ে নিতে পারেন।
মসুর ডালের শ্যাম্পু :মসুর ডাল মিহি করে বেটে এতে দুই চা-চামচ বেকিং সোডা, একটি পুরো লেবু মিশিয়ে চুল পরিস্কার করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো প্রাকৃতিক শ্যাম্পু।
অ্যালোভেরা ও লেবুর রসের শ্যাম্পু :অ্যালোভেরা জেল, লেবুর রস ও কয়েক টুকরা ডাভ সাবান দিয়ে চটপট বানিয়ে ফেলুন ঘরোয়া শ্যাম্পু।
সাধারণত শ্যাম্পু করার পর চুল রুক্ষ ও শুস্ক হয়ে যায়। রুক্ষ ও শুস্ক চুল মানেই ড্যামেজের ইঙ্গিত। তাই চুলের নমনীয়তা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ময়েশ্চারাইজার। চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে কন্ডিশনার। চুলের ফ্রিকশন ও ফ্রিজিনেস দূর করতে কন্ডিশনার উপকারী।
যেভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করবেন কন্ডিশনার
অ্যাপল সিডার ভিনেগার :চুলের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে অ্যাপল সিডার ভিনেগার। ২ কাপ পানির সঙ্গে আধা কাপ অ্যাপল সিডার ভিনেগার, ১ টেবিল চামচ যে কোনো কেরিয়ার অয়েল (অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, জোজোবা তেল, আমন্ড তেল), ১০ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চুল ধোয়ার পর এই মিশ্রণ দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে নিতে হবে। নিয়মিত মিশ্রণটি দিয়ে চুল ধুয়ে নিলে ঝলমলে হবে। খুশকিও দূর হবে।
মধু :মধু খুশকি দূর করতে খুবই উপকারী। একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ মধু, ৪ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল নিন। এটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। খুব স্মুথ টেক্সচার হলে আপনার চুল দুই ভাগে ভাগ করে সেই অনুযায়ী মিশ্রণ লাগান। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল আটকে ফেলুন। ৪০-৪৫ মিনিট পর চুল ভালোভাবে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ মিশ্রণটি সপ্তাহে একবার আর মুাসে কমপক্ষে দু'বার ব্যবহার করুন। এ দুটিই চুলে পুষ্টি জোগাবে।
- বিষয় :
- প্রাকৃতিক শ্যাম্পু
- শ্যাম্পু