ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘরে বানান কন্ডিশনার

ঘরে বানান কন্ডিশনার
×

নাজমুন নাহার সুলতানা

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ২২:৩০

কন্ডিশনার রুক্ষ ও নির্জীব চুল সতেজ করে। কোঁকড়ানো ভাব দূর করে চুল করে কোমল ও প্রাণবন্ত। বাজারে বিভিন্ন ধরনের কন্ডিশনার পাওয়া যায়। সে সবে মেশানো থাকে রাসায়নিক উপাদান। এই ক্ষতিকর উপাদান চুলের ক্ষতি করে। চাইলে ঘরেও বানাতে পারেন কন্ডিশনার। প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া কন্ডিশনার ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

মধু ও জলপাই তেল :মধু ও জলপাই তেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এটি মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং ত্বককে সতেজ রাখে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে মাথার ত্বকে চুলকানি ও খুশকি হতে পারে, যা শীতকালে বেড়ে যায়। মধু এই খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। কন্ডিশনার তৈরি করতে প্রয়োজন ২ টেবিল চামচ মধু এবং ৪ টেবিল চামচ জলপাই তেল।

একটি বাটিতে মধু ও জলপাইয়ের তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এর পর চুলগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে আলতো হাতে সম্পূর্ণ চুলে মিশ্রণটি লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ মুড়ে নিন। এভাবে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এর পর সালফেট ও প্যারাবন ফ্রি কোনো শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু'বার এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিম ও জলপাই তেল :ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে উপকারী ফ্যাট থাকে, যা মাথার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। চুল পড়া কমাতে, চুলের আগা ফাটা রোধেও ডিমের সাদা অংশ কার্যকর। এর জন্য প্রয়োজন ২টি ডিমের সাদা অংশ, ২ চামচ জলপাই তেল এবং পরিমাণমতো পানি। একটি বাটিতে ডিমের সাদা অংশ ও জলপাইয়ের তেল নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। অল্প পানি যোগ করুন। এতে মিশ্রণটি ব্যবহার করতে সুবিধা হবে। মিশ্রণটি হয়ে গেলে সম্পূর্ণ চুল দুই ভাগে ভাগ করে নিয়ে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভালোভাবে লাগান। অপেক্ষা করুন এক থেকে দেড় ঘণ্টা। এর পর সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে নিন। যাঁদের চুল শুস্ক, এই মিশ্রণটি তাঁদের জন্য খুবই উপকারী।

নারকেল তেলের কন্ডিশনার :নারকেল তেল চুলে কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড, যা চুলে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়ায় আপনার প্রয়োজন ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল ও তোয়ালে।

ডবল বয়েলিং পদ্ধতিতে তেলটুকু কুসুম গরম করে নিন। একটি কটন প্যাড অথবা হাতের তালু দিয়ে সম্পূর্ণ মাথার ত্বকে ও চুলে তেল লাগিয়ে নিন। তোয়ালেটি গরম পানিতে ভিজিয়ে তা চিপে নিয়ে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। যা পার্লারের স্টিমের মতো কাজ করবে। এভাবে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এর পর সালফেট ফ্রি কোনো শ্যাম্পু ও প্রতিদিনের ব্যবহার করা কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এটি সপ্তাহে দু-তিন দিন ব্যবহার করতে পারবেন।

কলা ও জলপাই তেল :কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সিলিকা। সিলিকা চুল পড়া কমাতে, চুলকে সতেজ করতে সাহায্য করে। এটি চুলকে কন্ডিশনিং করে, চুলের ক্ষয় রোধ এবং আগা ফাটা দূর করে। চুলকে কোমল ও ঘন করতেও কলার জুড়ি নেই। এই মিশ্রণটি তৈরি করতে প্রয়োজন ১টি পাকা কলা, ২ টেবিল চামচ জলপাই তেল ও ১ টেবিল চামচ মধু। কলা চটকে নিন। এতে জলপাই তেল ও মধু পরিমাণমতো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি সম্পূর্ণ চুলে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন। ৩০ মিনিট পর সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে এক দিন এটি ব্যবহার করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার :আপেল সিডার ভিনেগার চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে চুল ঝরঝরে করে। ২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এক জগ পানির সঙ্গে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। চুলে শ্যাম্পু করার পর ভিনেগার মিশ্রিত পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। ৫ মিনিট অপেক্ষা করে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন। তবে না ধোয়াই শ্রেয়। যখনই শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন, তখন কন্ডিশনার হিসেবে ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। 

মডেল :আরোহী; মেকওভার :বিন্দিয়া
ছবি :ফাহিম

আরও পড়ুন

×