ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কমছে জন্মহার

হুমকির মুখে বৈশ্বিক জনসংখ্যা

হুমকির মুখে বৈশ্বিক জনসংখ্যা
×

শাহরিয়ার জাওয়াদ

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০

গত ১০০ বছরে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যায় বেশ নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। মাত্র ৭০ বছর আগেও যেখানে গোটা পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ছিল ২৫০ কোটি; ২০২২ সালে এসে ৮০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে সে সংখ্যা। তবে এর মধ্যেই চিন্তার ভাঁজ গাঢ় হয়ে উঠেছে বিশ্বের কর্তাব্যক্তিদের কপালে।

আনুষঙ্গিক নানা বিষয় পর্যালোচনা করে শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন বিশেষজ্ঞরা। এক শতাব্দী জনসংখ্যার এই দ্রুত বৃদ্ধির পর এখন দ্রুত কমছে জন্মহার। যে তথ্য ইঙ্গিত দেয়, একসময় আপনাআপনিই কমতে শুরু করবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা।

জাতিসংঘের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই হাজার একশ সালের মধ্যেই পুরোপুরি থেমে যাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। তারপর থেকেই বিশ্ববাসী প্রবলভাবে প্রত্যক্ষ করবে জনসংখ্যার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার ঘটনা। এর মাঝেই নিম্ন জন্মহারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলোতে। ইউরোপিয়ান পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৬০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ইউরোপে গড়ে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০ লাখ করে। কিন্তু ২০০৫ থেকে ২০২২ সালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হার নেমে এসেছে মাত্র ৭ লাখে।

এ বছরের শুরুতে, জানুয়ারি মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এখন বেশি সন্তান জন্মদান উপলক্ষে নগদ অর্থ পুরস্কারসহ বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান সরকার। ১৯৯১ সালে দেশে জন্মহার ছিল প্রায় ২.১৭ শতাংশ। ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী জন্মহারের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ১.২২ শতাংশে। গত তিন দশকে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।

জনসংখ্যা কমে যাওয়ার এই যে সমস্যা— তার কারণ যেমন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক পরিবর্তন; তেমনি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশদূষণও এর প্রধানতম প্রভাবকগুলোর একটি। এই নীরব প্রভাবকের মূল ভুক্তভোগী হলো পুরুষরা। অথচ বিষয়টি নিয়ে চর্চা খুব সামান্যই হয়। যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক রেবেকা ব্ল্যানচার্ড এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। ব্ল্যানচার্ড দেখিয়েছেন, চারপাশের পরিবেশে থাকা বিভিন্ন কার্বন যৌগ, ভারী ধাতু যেমন সিসা, ক্যাডমিয়াম প্রভৃতি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাকে নষ্ট করছে। পর্যাপ্ত হরমোন উৎপন্ন না হওয়া, সজীব শুক্রাণুর পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়াসহ ঘটছে শুক্রাণুর ডিএনএ ফ্র‍্যাগমেন্টেশন।

এসব কারণে ক্রমান্বয়ে কমছে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা। জেরুজালেম হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজির অধ্যাপক হ্যাগাই লেভিন পুরুষের শুক্রাণু আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার ব্যাপারে গেল বছর প্রকাশ করেছেন গবেষণা প্রবন্ধ। লেভিন দেখিয়েছেন, কীভাবে গত এক দশকে শুক্রাণুর পরিমাণ কমে এসেছে পুরুষের শরীরে। দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, কর্মক্ষেত্র, টেকনোলজির ব্যবহার এবং সেসব যন্ত্র থেকে উৎপন্ন নিরবচ্ছিন্ন তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি বিষয় প্রভাবিত করছে মানবদেহের স্বাভাবিক ডিএনএ কণাগুলোকে। এর ফলে ঘটছে জিনগত পরিবর্তন। মানুষ হারাচ্ছে তার প্রজনন ক্ষমতা।

লেখক: শিক্ষানবিশ গবেষক

আরও পড়ুন

×