যন্ত্রে-মন্ত্রে হোয়াটসঅ্যাপ
আলাউদ্দিন আলাদিন
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৩ | ০৫:২২
চ্যাটিং বা মেসেজিং করার অনলাইন প্ল্যাটফর্মই হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। জ্যান কৌম ও ব্রায়ান অ্যাক্টন– দু’জনে মিলে ২০০৯ সালে অ্যাপ নিয়ে প্রথম ভাবেন। আর তা দ্রুত তৈরিও হয়ে যায়। জরিপ বলছে, বিশ্বে এখন প্রায় ১৮০টি দেশের ২০০ কোটির বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক সক্রিয়ভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছেন
ডিজিটাল দুনিয়ায় খুদে বার্তা প্রেরণ বা অডিও-ভিডিওকলের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার প্রশ্নে সবার আগে যে অ্যাপ সামনে আসে, তা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।
ইতিহাস বলছে
হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠাতা জ্যান কৌম ও ব্রায়ান অ্যাক্টন অ্যাপটি তৈরির আগে সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহুতে কাজ করতেন। তারা ইয়াহু থেকে চাকরি ছাড়ার পর ফেসবুকে চাকরির জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে তারা বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি, অর্থাৎ সুযোগই পাননি। তবে জ্যান কৌম ছিলেন নাছোড়বান্দা। চাকরি না পাওয়ায় জীবন তাঁকে বড় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। তিনি চেয়েছিলেন, কাছে থাকা অর্থ দিয়ে এমন কিছু করতে, যার মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় তাঁর নাম ছড়িয়ে যাবে।
জ্যান ও ব্রায়ানের কাছে কিছু পুঁজি ছিল, যা দিয়ে তারা আইফোন কেনেন। তারা দু’জনে আইফোনের জন্য নতুন অ্যাপ বানানোর প্রস্তাব রাখেন বন্ধু অ্যালেক্স ফিসম্যানের কাছে। অ্যালেক্স তাদের আরেক বন্ধু, যে কিনা আইফোন ডেভেলপার, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেন। তখন জ্যান সম্ভাব্য অ্যাপের জন্য দ্রুত নাম ঠিক করেন, যা ইংরেজি শব্দ ‘হোয়াটসঅ্যাপ’-এর সঙ্গে মিল ছিল।
প্রথম সংস্করণ
২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের প্রথম সংস্করণ সবার জন্য উন্মোচিত হয়। কিন্তু অ্যাপটি যখন যাত্রা শুরু করে, তখন নিবন্ধিত গ্রাহকের অনেকেই তাঁর ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠাতা দু’জনই দারুণ অর্থকষ্টের মধ্যে পড়ে যান। তখন ব্রায়ান ও জ্যান তাঁর আগের কর্মস্থল ইয়াহুতে কর্মরত বহু কর্মচারীকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজের অফার করেন। সবাইকে তিনি দুই লাখ ডলার বিনিয়োগের অনুরোধ করেন। বহু সহকর্মী এমন প্রস্তাবে চটজলদি রাজি হয়ে যান। শুরু হয় দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ।
দ্বিতীয় সংস্করণ
ব্রায়ান ও জ্যান তাদের দলের সবাই মিলে অভিযুক্ত ত্রুটি (বাগ) সমাধান করেন। ওই বছরেই তারা দ্বিতীয় সংস্করণ (২.০) হোয়াটসঅ্যাপ অবমুক্ত করেন। নতুন সংস্করণে তারা পুরোনো ফিচারের সঙ্গে আরও কিছু অভিনব ফিচার যুক্ত করেন। ফিচারগুলো অ্যাপভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণে দারুণভাবে সফল হয়। ফলে সহজেই দুই লাখ নতুন অ্যাপ গ্রাহক নিবন্ধন করেন।
মালিকানায় রদবদল
সামান্য ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার করে সহজেই হোয়াটসঅ্যাপে অডিও-ভিডিওকল ও মেসেজ দেওয়া যেত। ফলে নতুন কিছু সুবিধার কারণে হুহু করে বাড়তে থাকে গ্রাহকের সংখ্যা। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারের বিকল্প হিসেবে অনেকেই বেছে নেন হোয়াটসঅ্যাপ। কারণ, ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহারের জন্য ফেসবুকে আগে অ্যাকাউন্ট খুলে তার পর মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে আলাদাভাবে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন ছিল না। বলতে গেলে তখন মেসেঞ্জারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে হোয়াটসঅ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব ফিচারগুলো নজরে আসে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের। ২০১৪ সালে ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ কিনতে অফার করে বসে। বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। মার্ক জাকারবার্গের প্রস্তাবে হোয়াটসঅ্যাপ নির্মাতা ব্রায়ান ও জ্যান দু’জনই রাজি হয়ে যান। ফলে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মকে নিজের করে নেয় ফেসবুক।
অনন্য ফিচার
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা যে কোনো সেবামূলক মেসেজ অ্যাপ থেকে হোয়াটসঅ্যাপকে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। ডিজিটাল কোনো কথোপকথনে যদি তৃতীয় কোনো পক্ষ অনুপ্রবেশ করতে চায়, তাহলে অনুপ্রবেশকারী কোনো মেসেজ পড়তে পারবে না বা কল শুনতে পারবে না। ফলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর বা অন্য কেউ কারও মেসেজে অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি কেউ যদি মেসেজে অনুপ্রবেশ করেও, তার পরও মেসেজ পড়ার যোগ্য (রিডেবল) থাকবে না।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
সাইলেন্স কল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক, স্ট্যাটাস হাইড, অচেনা ব্যক্তিদের ব্লক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ, দুই ধাপের ভেরিফিকেশন ছাড়াও বহু ফিচারে সমৃদ্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

মার্ক জাকারবার্গ
সিইও, মেটা
আমি অনেক দিন ধরেই হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠাতা জ্যানকে চিনি। বিশ্বের সবাইকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে জ্যান, ব্রায়ান ও তাঁর টিমের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আমি পুলকিত অনুভব করছি।

জ্যান কৌম
সহপ্রতিষ্ঠাতা, হোয়াটসঅ্যাপ
কিছুদিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করে চ্যাট লক ফিচার। আগে পুরো হোয়াটসঅ্যাপ লক করে রাখার ফিচার চালু ছিল। এখন নির্দিষ্ট চ্যাটও লক রাখতে পারবেন গ্রাহকরা। নতুন আপডেট নিয়ে এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ। যার ফলে অ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে শেয়ার করা যাবে। এতে অ্যাপের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ল বহু গুণ। মেটার আরেকটি মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে ফেসবুকের এমন সংযুক্তি ফিচার আগেই ছিল। এবার হোয়াটসঅ্যাপেও চালু হলো নতুন এ ফিচার।
- বিষয় :
- হোয়াটসঅ্যাপ
- মার্ক জাকারবার্গ
