ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রতিদিন তরমুজ খাচ্ছেন? জানুন যাদের জন্য ফলটি ক্ষতিকর হতে পারে

প্রতিদিন তরমুজ খাচ্ছেন? জানুন যাদের জন্য ফলটি ক্ষতিকর হতে পারে
×

ছবি: সংগৃহীত

শৈলী ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:২৪

রসালো ফল তরমুজে প্রায় ৯৩ শতাংশ পানি থাকে। এ ফলের অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবুও এটি খেলে কারো কারো মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস, পেটের সমস্যাসহ কিডনির জটিলতা পর্যন্ত হতে পারে। তাই খাওয়ার আগে বুঝতে হবে কোন ধরনের তরমুজ খাওয়া উচিত, কোনগুলো এড়িয়ে চলতে হবে, এবং তরমুজ খাওয়ার ব্যাপারে কাদের সতর্ক থাকতে হবে। 

কখন তরমুজ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?
ভারতীয় গণমাধ্যম 'এই সময়'-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ফল হিসেবে তরমুজ নিরাপদ হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন: 

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ: তরমুজ মাটিতে জন্মে। তাই এর খোসায় সালমোনেল্লা বা ই-কোলাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থেকে যায়। কাটার আগে ভালো করে না ধুলে ছুরির মাধ্যমে সেই ব্যাকটেরিয়া ফলের ভেতর চলে যায়।

কাটা ফল: ফল কেটে দীর্ঘক্ষণ কেটে রাখা উচিত নয়। গরমে কেটে রাখা ফলে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে। এই ধরনের ফল খেলে পেটের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

রাসায়নিকের ব্যবহার: তরমুজের রং টুকটুকে লাল করার জন্য অনেক সময় ফলে ক্ষতিকারক রং বা কেমিক্যাল মেশানো হয়, যা অত্যন্ত বিষাক্ত।

কোন ধরনের তরমুজ এড়িয়ে চলবেন?
•    তরমুজ থেকে যদি টক গন্ধ বের হয়, তাহলে তরমুজ খাবেন না। 
•    কাটার পর তরমুজের গা থেকে পিচ্ছিল বা চটচটে পদার্থ বের হলে এটি খাওয়া উচিত নয়।
•    যদি ফলের গায়ে ছত্রাক বা অবাঞ্ছিত কোনো ছোপ দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হোন। 
•    যদি তরমুজের লাল রং অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হয় বা ধোয়ার সময় পানির মধ্যে সেই রং মিশতে শুরু করে তাহলেও সচেতন হোন। 

নিরাপদ থাকার টিপস
•    তরমুজ কাটার আগে খোসা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
•    প্রয়োজনে এক চিমটে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন।
•    কাটা তরমুজ সবসময় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ফ্রিজে রাখুন।
•    ফ্রিজে রাখা ফল দুই তিন দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন।
•    দীর্ঘক্ষণ কেটে রাখা ফল না খেয়ে ফেলে দিন।
•    গোটা ফল কিনে আগে ধুয়ে তারপর কাটুন। 

কাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে?
•    শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম থাকে। তাই শিশুদের তরমুজ খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতন থাকুন। নয়তো বিষক্রিয়া তাদের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। 
•    বয়স্কদেরও বুঝে শুনে তরমুজ খেতে হবে। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের হজম ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে তারা সংক্রমণের শিকার হয়। 
•    গর্ভাবস্থায়ও তরমুজ খাওয়ার আগে তা খাঁটি কিনা যাচাই করে নিন। এসময় যেকোনো ধরণের সংক্রমণ মা ও ভ্রূণ উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
•    খাবারের বিষক্রিয়া থেকে অনেক সময় দ্রুত কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আগে থেকেই কিডনির সমস্যায় ভোগা রোগীদের তরমুজ না খাওয়াই ভালো। খেলেও ফলটি খাঁটি কিনা তা যাচাই করে নিন। 

আরও পড়ুন

×