ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিশেষ কিছু

তিনি এক জাদুকর

তিনি এক জাদুকর
×

হুমায়ূন আহমেদ প্রতিকৃতি: তন্ময় সেখ

জারাদ ত্রিস্তান

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫ | ০০:৪৩

‘এ বাংলার সবচেয়ে প্রিয় লেখক কে?’ এমন প্রশ্নে সব সময় আমি উত্তর দেবো ‘হ‍ুমায়ূন আহমেদ’।
বলছি ওই যে কাঁচা-পাকা চুলের, চোখে চশমা আটা বুড়োটা। কথায় বলে বিষে বিষক্ষয়। অশুভতে অশুভ কেটে যায়। তেমনই ১৩ একটা অশুভ সংখ্যা, শনিবার অশুভ বার। তেমনি এক শনিবার ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ সালে কৃষ্ণপক্ষের এক রাতে জন্ম হলো তাঁর। জায়গাটা ছিল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, তাঁর নানাবাড়িতে। 
শিশুটি জন্মের পরই ডাক্তার জানালেন মেয়ে হয়েছে। আনন্দে তাঁর নানা আধামণ মিষ্টি আনতে লোক পাঠালেন। ডাক্তার এবার তাঁকে জানালেন আসলে হয়েছে ছেলে। এই কথা শোনার পর এক মণ মিষ্টি আনতে হুকুম দিয়েছিলেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদের বাবা ছিলেন ফয়জুর রহমান, মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদ ছোট থাকতে তাঁর মা হঠাৎ এক ভয়ংকর রোগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে, তারপর আবার হঠাৎ করেই সুস্থ হয়ে যান। হুমায়ূন আহমেদের ছোটবেলা কাটে নানুর কোলে। ছোটবেলার এক অংশ কেটেছে সিলেটে। 
এরপর হুমায়ূন আহমেদ ঘুরেন বহু শহর। বাবা যেখানেই বদলি হতেন সেখানেই যেতেন তিনি। ছোটবেলায় তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। তিনি এবং তাঁর ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল পালিয়ে বেড়ান। এমন সময় তিনিও গ্রেপ্তার হন। কিন্তু অলৌকিকভাবে ছাড়া পেয়ে যান। 
তারপর তিনি বিদেশ যান, পড়ালেখা করেন। পিএইচডি করেন। সে যাকগে, তাঁর কথা লিখছি এমন সময় খেয়াল করলাম কেউ আমার কাঁধে হাত রেখেছে। পেছনে ঘুরে দেখি, হলুদ পাঞ্জাবি পরা খালিপায়ের একজন। হিমু! ‘তোমার আমার কথা লেখা উচিত ছিল।’
‘আমারটা না লিখে তুই অনেক বড় অপরাধ করেছিস’ হিমুর পেছন থেকে উঁকি মেরে বললো মাজেদা খালা।
‘আমি বাদ?’ এবার বললেন খালুজান।
নাহ্ তাদের কথা না লিখলে হুমায়ূন আহমেদের কথা শেষ হয় না। হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে সেরা চরিত্রের একটি এই হিমু। আমারও মাঝে মাঝে হিমু হয়ে যেতে ইচ্ছে করে (আশা করি আমার মা এটি পড়বেন না এবং তোমরাও কেউ আমার মাকে এটি জানাবে না)।
হিমু অর্থই হলুদ পাঞ্জাবি, খালি পায়ে হাঁটা। হিমুর সবচেয়ে চমৎকার জিনিস হলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়র জোরে কিংবা কাকতালীয়ভাবে হিমু বিভিন্ন বিষয়ে আগে থেকে জেনে গিয়ে কী করে যেন কিছু করে ফেলে। আমার পড়া হিমু সবচেয়ে ভালো বই ‘হিমু রিমান্ডে’ ও ‘আজ হিমুর বিয়ে’।
এমন সময় খেয়াল করলাম একজন ভদ্রলোক আমার টেবিলের পাশের চেয়ারে বসে আছেন। ধূমপান করছেন, (ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, গল্পের ক্ষেত্রে নয়)।
‘আমি নিজেকে নিয়ে বড়াই করতে চাই না, তবে তোমার উচিত ছিল আমাকে নিয়ে লেখা।’
চিনতে পারলাম মিসির আলি! হুমায়ূন আহমেদের আরেক অনবদ্য চরিত্র। 
তিনি হিমুর এক্কেবারে বিপরীত। তার মতো যুক্তি বোধ হয় হুমায়ূন আহমেদও দিতে পারেন না (হিঃ হিঃ)!
আমার পড়া মিসির আলির সবচেয়ে সেরা বই ‘দেবী’ এবং ‘হরতন ইস্কাপন’।
এরা তো গল্পের চরিত্র, বাকের ভাইকে চিনো তো? 
বাকের ভাইয়ের ফাঁসি নিয়ে সারাদেশ ওলট-পালট হয়েছিল। সকলের মুখে ছিল স্লোগান– ‘বাকের ভাইয়ের কিছু হলে/জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে!’
হুমায়ূন আহমেদের নাটকের জুড়ি মেলা ভার, ‘ঝগরালি’, ‘বুয়াবিলাস’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’-এর মতো নাটকের সৃষ্টি শুধু তিনি করতে পারেন। সারা জীবনে বহু প্রিয় মানুষ তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে, সন্তানেরা তাঁকে ফেলে রেখে অন্য জগতে পাড়ি জমিয়েছে। এতো অকাল মৃত্যু তাঁকে কাঁদিয়েছে বারবার।
লীলাময়ের লীলায় আমাদের সকলকে ফেলে রেখে ১৯ জুলাই, মানে ২০১২ সালের আজকের এই দিনে তিনি পাড়ি জমান পরকালে। মুচকি হেসে বলেন, ‘এই দিন দিন নয় আরও দিন আছে, এই দিনরে নিয়ে যাবো সেই দিনেরই কাছে!’
n বয়স: ২+২+৩+৪ বছর; পঞ্চম শ্রেণি 
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ,
কাকরাইল, ঢাকা
 

আরও পড়ুন

×