বিশেষ কিছু
জাদুকরের জন্য মায়া
হুমায়ূন আহমেদ প্রতিকৃতি: তন্ময় শেখ
জুনায়রা মাহদিয়া
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগামীকাল ১৯ জুলাই, প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ-এর আকাশের দেশে চলে যাওয়ার দিন। প্রিয় এই লেখক, প্রিয় এই ভাবুকটার প্রতি রইলো পৃথিবীর সব ফড়িংয়ের পক্ষ থেকে অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। চলো, প্রিয় এই লেখকের কথা স্মরণ করে ছোট্ট ফড়িং জুনায়রার একটি স্মৃতিকথা পড়ি...
বাবার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। আমারও। আমি যখন অনেক অনেক ছোট; তখন থেকেই বাবা আমাকে হুমায়ূন আহমেদ-এর লেখা গল্প শোনাতেন। একটু বড় হতেই আমিও পড়তে শিখলাম। কতো লেখা যে পড়েছি তার। ‘কানী ডাইনী’ গল্পটার কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে। ছোটরা ভয় না পাওয়া সেই কানী ডাইনীটাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে আমার! গল্পের শুরুটাও আমার মুখস্থ। একদিন কানী ডাইনীর গায়ে আকাশ-পাতাল জ্বর। শরীর দুর্বল। এদিকে প্রচণ্ড খিদের যন্ত্রণায় চোখে আঁধার দেখছে, খাবারের কী ব্যবস্থা করবে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ মনে হলো খাবার-দাবারের একটা মন্ত্র তো তার জানা আছে। এক নিঃশ্বাসে এই মন্ত্রটি বলে বুড়ো আঙুল আকাশের দিকে উঁচু করে কোনো খাবার চাইলেই খাবার চলে আসবে। এখন সমস্যা হয়েছে এক নিঃশ্বাসে বলা। আজকাল তার দম ফুরিয়ে গেছে। এক নিঃশ্বাসে কিছু বলতে পারে না। তবু সে বিছানায় উঠে বসলো। চোখ বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে বললো–
‘ইরকিম বিরকিম নাগা খিরকিম
এলট বেলট ইলবিল ঝাঁ
পোলাও কোরমা এসে যা।’
বলেই সে বুড়ো আঙুল উঁচু করলো। কিছু এলো না! পোলাও-কোরমা এলো না। তার মানে মন্ত্রে ভুল হয়েছে। আগের শব্দ পরে এসেছে, পরের এসেছে আগে। হয়তো ইরকিম বিরকিম হবে না। হবে বিরকিম ইরকিম, এলট বেলটের জায়গায় হয়তো হবে বেলট এলট।। বুড়ি আবার পড়লো।
যাক গল্পের কথা বেশি হয়ে যাচ্ছে। মূল কথায় আসি, আমি কিন্তু প্রিয় এই লেখকের বড়দের বইও পড়া শুরু করেছি।
হুমায়ূন আহমেদের সেরা চরিত্রগুলোর একটি হিমু। আমারও মাঝে মাঝে হিমু হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। হিমু হলুদ পাঞ্জাবি পরে, খালি পায়ে হাঁটে। হিমুর সবচেয়ে চমৎকার জিনিস হলো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়র জোরে কিংবা কাকতালীয়ভাবে হিমু বিভিন্ন বিষয়ে আগে থেকে জেনে কী করে যেন সব কিছু করে ফেলে। আমার পড়া হিমু সিরিজের সবচেয়ে ভালো বই ‘হিমু রিমান্ডে’ ও ‘আজ হিমুর বিয়ে’।
মিসির আলীও পড়ার ইচ্ছে আছে। হুমায়ূন আহমেদের অনেক লেখার গল্প করতে পারবো। সেসব করতে গেলে কেবলই তাঁর কথা মনে পড়ে যায়। তাঁকে দেখার খুব ইচ্ছে জাগে। দেখা তো আর হবে না! তোমরাও দেখা করতে পারবে না। তবে তাঁর বই পড়তে পারো। তাঁর বই পড়লেই বুঝতে পারবে আমার কেন এতো ইচ্ছে তাঁর দেখা পাওয়ার! v
বয়স: ২+২+৩+৩+৪ বছর; সপ্তম শ্রেণি, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
- বিষয় :
- গল্প