গপ্পো
পাহাড় থেকে বৃষ্টি দেখা
লিখেছে জায়ান শামস ইসলাম
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রিয় ঘাসফড়িং বন্ধুরা, আমি ঢাকায় থাকি। গ্রামে তেমন যাওয়া হয় না। এই বছর পরীক্ষায় রচনা হিসেবে প্রিয় ঋতু বর্ষাকাল পড়েছি। তার সাথে আমার রিয়েলিটির কোনো মিলই ছিল না। মাকে ব্যাপারটা বললাম। আমার মা তার ছোট বেলায় বৃষ্টিতে ভেজার কথা বললেন। মা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ঘণ্টা হিসেবে রিকশা ভাড়া করে বৃষ্টিতে ভিজতেন। বড় খালমণিরা আম কুড়াতেন, শিলাবৃষ্টির সময় শিলা কুড়িয়ে শরবত বানিয়ে খেতেন। আমার বেলায় এসব কিছু হয় না। রেইনকোট গায়ে দেবার পরও ছাতা মাথায় নিয়ে রিকশায় বসে পলিথিন মুড়িয়ে বাসায় আসতে হয়। কারণ, আমার ঠান্ডা লাগবে। দুই একবার চারতলার বারান্দা দিয়ে শিলাবৃষ্টি পড়তে অবশ্য দেখেছি। তা কুড়ানো বা খাওয়া হয়নি। এবার সব বাধা অতিক্রম করে আমি দেখলাম আসল বর্ষার রূপ, তাও আবার পাহাড়ে। মাটি থেকে প্রায় ২৭০০ কিলোমিটার উঁচুতে!
আমরা গিয়েছিলাম বান্দরবান। এমনিতেই খুব সুন্দর জায়গা। খোলা বাতাসে বনের গন্ধ। উঁচু-নিচু বন্ধুর রাস্তা পেরিয়ে গেলাম ‘তমাতুঙ্গি’। দুচোখ ভরে উঁচু পাহাড় থেকে নিচের কালচে সবুজ ভ্যালি আর মেঘের ভেসে বেড়ানো দেখছিলাম। হঠাৎ আকাশের এক কোণে ছাই বর্ণের রং দেখতে পেলাম। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তা হয়ে গেলো ঘন কালো রং, সাথে দুরন্ত বাতাস। প্রথমে বাতাসটা বেশ ভালোই লাগছিল। ক্যামেরায় কালো মেঘের দুই তিনটা প্যানোরমা ভিউ তুলতেই আবহাওয়া একদম পাল্টে গেলো। এমন জোড়ে বাতাস বইতে লাগলো যে, বাবা খুব ভয় পেলেন। মাকে ও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। আমাদের বললেন পা চেপে চেপে নিচু হয়ে হেঁটে সেনাবাহিনীর তৈরি সিমেন্টের ছাউনির মধ্যে চলে যেতে। সেখানে গিয়ে বাবা মোটা একটা পিলার জড়িয়ে ধরলেন এক হাতে। অন্য হাতে ধরলেন আমাকে। বললেন, শক্ত করে ধরো ছাড়বে না, বাতাস নাকি আমাদের উড়য়ে নিয়ে যাবে।
আমার মনে পড়ে গেলো সুখু ও দুখু রূপকথার গল্পটা। যেখানে বাতাস প্রথমে সুখু ও পরে দুখুকে উড়িয়ে মেঘের রাজ্যে নিয়ে যায়। কিন্তু মা বেশ ভয় পেয়ে গেলেন। বললেন, আজান দিতে হবে। ছোট বেলায় ঝড়ের সময় নাকি নানাভাই আজান দিতেন। আর আমার মায়েরা সব ভাইবোন মিলে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকতেন।
আমি সবই শুনেছি। কিন্তু ভয় পাচ্ছি না। মুগ্ধ হয়ে দেখলাম জীবনে প্রথম ঝড়ের রূপ, মেঘের রূপ, বর্ষার রূপ। এই রূপ একই সাথে সুন্দর আবার ভয়ংকর! ভয় লাগে কিন্তু চোখ মেলে মেঘ-বৃষ্টি-বাতাস সবই দেখতে ইচ্ছা হয়। প্রায় আধাঘণ্টার মতো আমরা এই বর্ষা উপভোগ করলাম। মনে হচ্ছিল এটা যেন কখনও শেষ না হয়।
কী সুন্দর বর্ষা!
কী, তোমরাও কি দেখতে চাও বর্ষার এমন রূপ; নাকি রচনা মুখস্থ করবে ‘বর্ষা ঋতু’র?
বয়স : ১+২+৩+৪ বছর; চতুর্থ শ্রেণি, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা
- বিষয় :
- গল্প