ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভালোবাসা

তিন গোয়েন্দা

তিন গোয়েন্দা
×

রকিব হাসান প্রতিকৃতি এঁকেছেন ফাইয়াজ হোসেন

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ওপরের ছবির এই ভাবুকটা তোমাদের অনেক ভালোবাসতেন। তোমাদের জন্য লিখেছেন তিন গোয়েন্দা সিরিজ, ভূতের গল্প ও সায়েন্স ফিকশন। নাম তাঁর রকিব হাসান। প্রিয় এই লেখকের জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর; কুমিল্লায়। গাছপালা, বনবাদাড় আর গোয়েন্দাগিরির দিকে টান ছোটবেলা থেকেই ছিল তাঁর। প্রিয় এই লেখক, প্রিয় এই ভাবুক ভাবতে ভাবতে আকাশের দেশে চলে গেলেন ১৫ অক্টোবর ২০২৫। না ফেরার দেশে চলে যাওয়া এই ভাবুকটার প্রতি রইলো পৃথিবীর সব ফড়িংয়ের পক্ষ থেকে অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। চলো, লেখকের  ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজের প্রথম বইয়ের শুরুটা নতুন করে পড়ি। সেই সঙ্গে ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজের বইগুলোর শুরুতে যেই পরিচিতি দেওয়া থাকে, সেটিও পড়ি...

তিন গোয়েন্দা সিরিজের বইগুলোর শুরুতেই একটি পরিচিতি দেওয়া থাকে, যেটা নতুন পাঠকের জন্য সহায়িকার কাজ করে। পরিচিতিটা এভাবে দেওয়া থাকে–

হ্যালো, কিশোর বন্ধুরা–
আমি কিশোর পাশা বলছি, আমেরিকার রকি বীচ থেকে। জায়গাটা লস অ্যাঞ্জেলেসে, প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে, হলিউড থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে।
যারা এখনও আমাদের পরিচয় জানো না, তাদের বলছি, আমরা তিন বন্ধু একটা গোয়েন্দা সংস্থা খুলেছি, নাম তিন গোয়েন্দা। 
আমি বাঙালী। থাকি চাচা-চাচীর কাছে।
দুই বন্ধুর একজনের নাম মুসা আমান, ব্যায়ামবীর, আমেরিকান নিগ্রো; অন্যজন আইরিশ আমেরিকান, রবিন মিলফোর্ড, বইয়ের পোকা। 
একই ক্লাসে পড়ি আমরা। 
পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ডে লোহা-লক্কড়ের জঞ্জালের নীচে পুরানো এক মোবাইল হোম–এ আমাদের হেডকোয়ার্টার।
তিনটি রহস্যের সমাধান করতে চলেছি–
এসো না, চলে এসো আমাদের দলে। 

রকি বীচ, লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া।
সাইকেলটা স্ট্যান্ডে তুলে রেখে ঘরে এসে ঢুকলো রবিন মিলফোর্ড। গোলগাল চেহারা। বাদামী চুল। বেঁটেখাট এক আমেরিকান কিশোর।
‘রবিন, এলি?’
শব্দ শুনে রান্নাঘর থেকে ডাকলেন মিসেস মিলফোর্ড।
‘হ্যাঁ, মা,’ সাড়া দিল রবিন। উঁকি দিল রান্নাঘরের দরজায়। 
‘কিছু লাগবে?’
চেহারায় অনেক মিল মা আর ছেলের। চুলের রঙও এক। 
কেক বানাচ্ছেন মিসেস মিলফোর্ড। ‘চাকরি কেমন লাগছে?’
‘ভালই,’ বললো রবিন। 
‘কাজকর্ম তেমন নেই। বই ফেরত দিয়ে যায় পাঠকরা। নাম্বার দেখে জায়গামতো ওগুলো তুলে রাখা, ব্যাস। পড়াশোনার প্রচুর সুযোগ আছে।’
‘কিশোর ফোন করেছিলো,’ একটা কাঠের বোর্ডে কেক সাজিয়ে রাখতে রাখতে বললেন মা।
‘কি, কি বলেছে?’
‘একটা মেসেজ দিতে বলেছে তোকে।’
‘মেসেজ! কি মেসেজ?’
‘বুঝলাম না। আমার অ্যাপ্রনের পকেটে আছে।’
‘দাও,’ হাত বাড়ালো রবিন।
‘একটু দাঁড়া। হাতের কাজটা সেরেই দিচ্ছি,’ বড় দেখে একটা কেক তুলে নিলেন মা। ছেলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘নে, খেয়ে নে এটা। নিশ্চয় খিদে পেয়েছে।’ 
কেক নিয়েই কামড় বসালো রবিন।
‘হ্যাঁরে, রবিন, রোলস রয়েস তো পেলি...’
‘শুনেছো তাহলে। আমি না, কিশোর পেয়েছে,’ কেক চিবুতে চিবুতে বললো রবিন। ‘চেষ্টা করেছিলাম, হয়নি। একশো আশিটা বেশি বলে ফেলেছিলাম, মুসা দু’শো দশটা কম।’
‘ওই হলো। কিশোরেরর পাওয়া মানেই তোদেরও পাওয়া...।’ 

গ্রন্থনা আশিক মুস্তাফা

আরও পড়ুন

×