প্রাণ-প্রকৃতি
কচ্ছপ ছানার মা
মালেক মাহমুদ
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
টলটলে জলে দুটি কচ্ছপ পাশাপাশি ঘুরে বেড়ায়। ভাসাভাসি যেন তাদের জলজীবনের আনন্দ। ছোট বড় কত মাছ তাদের আশপাশে চলাচল করে। গল্পের তালে সাঁতার কাটছে তারাও। পাশাপাশি সাঁতার কেটে মজা পায়। শ্যাওলা কচুরিপানা খায়। কখনও কখনও মাছ, মাছের খাবার হয়ে যায়। এ এক ভয়ংকর জীবনই বটে! সাপ সাপকে খায়। মাছ মাছকে খায়। সবাই বেঁচে থাকার লড়াই করে যায়। শক্তিধর প্রাণীর কাছে ছোট প্রাণী খাবার হয়ে যায়। কৌশলী জীবন তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। পুঁজি কি জিনিস তা তারা বোঝে না। কেউ ধনবান হতে চায় না। শুধু আহারের জন্যই তাদের লড়াই। সাঁতারের তালে খুনসুটিময় অনুভূতি লক্ষণীয়। জলাশয় সাঁতার কাটার ভেতরে অন্যরকম আনন্দ। জলের তলদেশে সাঁতার কেটে সুখ অনুভব করে। জলের ভেতর পাশাপাশি চললেও, স্থলে তাদের একাকী জীবন। জলাশয় থেকে একটি কচ্ছপ তীরে এলো। মাটিতে পা ফেলে হাঁটতে থাকে। ধীরগতিতে। অস্থির মন। গলা বাড়িয়ে হাঁটছে। চোখ মেলে দেখছে আশপাশের পরিবেশ। চোখ নতুন প্রজন্মের কথা ভাবছে। বাতাসের ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। ঢেউ কে সে ভয় পায় না। তাই ঢেউয়ের অতল গহীনে আনন্দ জীবন তাদের। আজ অতল গহীনে নয়; তীর ধরে হাঁটছে। জলে ও স্থলে বাস করতে পারে বলেই কচ্ছপকে উভচর প্রাণী বলে।
গাছের ডালে পাখি বাসা করেছে। সেদিকে কচ্ছপের চোখ নেই। ছোট্ট একটি গর্ত পেলো, অমনি গর্তের ওপর বসে পড়লো কচ্ছপ।
অনেক ডিম দিল। ডিম দেওয়ার পর মাটি দিয়ে ঢেকে দিল। তারপর সে বসে রইলো। কিছু সময় বসে থাকার পর চলে গেলো জলের দিকে। ছোট্ট পাখি ডিমে তা দিচ্ছে আর দেখছে কচ্ছপের কাণ্ডকারখানা। কচ্ছপ মা হওয়ার জন্য ডিম মাটিতে ঢেকে দিচ্ছে। পাখি মা হওয়ার জন্য ডিমে তা দিচ্ছে। কচ্ছপ চলে যায়। ডিম থেকে কচ্ছপের ছানা বের হয়। খুঁজে পায় না তার মাকে, বাবাকে। একাকী জীবনে বেড়ে ওঠার লড়াই তাদের। ছোট্ট পাখিটি তার ছানাকে খেতে দেয়। উড়তে শিখায়। ঘুরতে শিখায়।
পাখি দেখতে পায় কচ্ছপের ছানা। জন্মের পর হাঁটি হাঁটি পা পা করে জলের দিকে চলে যেতে। মা তার চেনে না সন্তানকে। সন্তান চেনে না তার মাকে। এভাবেই তাদের জীবন শুরু হয়। যাযাবর জীবন যেন! কচ্ছপ কখনও লড়াই করতে পছন্দ করে না। ছোট্ট পাখি কচ্ছপ ছানাগুলো দেখছে। বলছে তাদের ছানাদের কচ্ছপের পরিচয় দেবার মতো কিছু নেই। কে বাবা? কে মা? কিছুই জানে না তারা। একদিন হয়তো তারাও মা হবে। বাবা হবে। চিনবে না তাদের সন্তানকে। তবুও বংশবৃদ্ধির জন্য তারা কাজ করে যাবে!
বড়ই আজব প্রকৃতি; তাই না?
- বিষয় :
- কচ্ছপ
