ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কর্মক্ষেত্র হোক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

কর্মক্ষেত্র হোক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
×

ছবি-সাজ্জাদ নয়ন

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৯ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৫ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ রোগের কারণে ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে এবং কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। এর জন্য কর্মক্ষেত্রে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

আজ ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস। এ উপলক্ষে গত ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকালের সভাকক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘কর্মক্ষেত্র হোক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও সমকাল। সহযোগিতা করেছে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
অধ্যাপক  মো. ফারুক পাঠান

বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০৪৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় দুই কোটি ২০ লাখে পৌঁছাবে। 
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রতি চারজনের একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগী জানেনই না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ফলে তারা চিকিৎসার বাইরে থেকে যান। আবার যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের প্রায় ৯৫ শতাংশের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নেই। এর ফলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে তারা গুরুতর জটিলতায় ভোগেন। এতে শুধু আয়ুষ্কালই নয়, আক্রান্তদের কর্মক্ষমতাও কমে যায়।
দেশে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক; তাদের বড় অংশ কর্মজীবী। বর্তমান কর্মপরিবেশে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কম। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন–ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড; মানসিক চাপ–এই সবই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বংশগত কারণ কিছুটা ভূমিকা রাখলেও জীবনযাপনের পদ্ধতি, ওজন বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।  
কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলে শুধু ব্যক্তি নয়, দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে। ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ উপযোগী কর্মপরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে কর্মক্ষমতা ও কর্মজীবন বাড়ানো সম্ভব। যেখানে সুস্থভাবে কাজ করা যায়, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় এবং যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত, তাদেরও সহায়তা করা যায়। 

কত ধরনের ডায়াবেটিস 
অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান

ডায়াবেটিস মূলত চার ধরনের। টাইপ-১: এতে প্যানক্রিয়াসের বিটা সেল নষ্ট হয়ে যায়। অল্প বয়সীদের এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। বয়স বাড়লেও এটি হতে পারে। এ ধরনের রোগীকে সুস্থ রাখতে ইনসুলিন অপরিহার্য। মোট ডায়াবেটিক রোগীর প্রায় ৫ শতাংশ টাইপ-১-এ আক্রান্ত।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসে মোট রোগী প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ। এ ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং প্রয়োজন মতো ইনসুলিন তৈরি হয় না। সাধারণত বয়স্ক বা স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। তবে কমবয়সীরাও এখন আক্রান্ত হচ্ছে। 
নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক ডায়াবেটিস–এ ধরনের ডায়াবেটিস মোট রোগীর প্রায় ৮-১০ শতাংশ। জেনেটিক ত্রুটি, প্যানক্রিয়াটিক রোগ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ওষুধ বা টক্সিনের প্রভাবেও এ ধরনের ডায়াবেটিস হতে পারে। 
জেনেটিক ত্রুটির কারণে বিটা সেল কম ইনসুলিন উৎপাদন করে বা ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এ ধরনের আক্রান্তের হার প্রায় ২-৩ শতাংশ। ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস, ক্যান্সার, সিস্টিক ফাইব্রোসিসের মতো প্যানক্রিয়াটিক রোগের কারণে প্রায় ৫-৮ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিরল জেনেটিক বা ভাইরাল কারণেও ডায়াবেটিস হতে পারে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রায় ১৫-২০ শতাংশ নারীর এই রোগ দেখা যায়। সাধারণত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে হয়ে থাকে। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ঝুঁকি নির্ণয়
ডা. শাহিন ইবনে রহমান

ডায়াবেটিস আছে কিনা, তা নিশ্চিত না হয়ে ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক। আগে রোগ শনাক্ত, পরে চিকিৎসা। অনেকেই ফার্মেসিতে বা ফুটপাত থেকে গ্লুকোমিটারে রক্তে শর্করা মাপেন এবং ফলাফল বেশি দেখলেই ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। এটি খুবই বিপজ্জনক। ডায়াবেটিস শনাক্তকরণের জন্য চারটি প্রধান রক্ত পরীক্ষা রয়েছে। 
১. অভুক্ত অবস্থায় রক্তের শর্করা: রাতভর উপবাস করে (রাত ১২টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা) রক্তের নমুনা নিতে হবে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.০ মিমোল/লিটার বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরা হয়।
২. মুখে গ্লুকোজ সহনশীলতা পরীক্ষা: খালি পেটে রক্ত নেওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিমাণ (৭৫ গ্রাম) গ্লুকোজ ২৫০ মিলি পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করানো হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ২ ঘণ্টা) পরীক্ষায় যদি গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিমোল/লিটার বা তার বেশি হয়, তাহলে ডায়াবেটিস বলা হয়। এটিকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ পরীক্ষা বলা হয়।
৩. হিমোগ্লোবিন এ ওয়ান সি: যে কোনো সময় এই পরীক্ষা করা যায়, যা খাওয়া-দাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। যদি মান ৬.৫% বা তার বেশি হয়, তাহলে ডায়াবেটিস বলা হয়। এটি গত ২-৩ মাসের গড় শর্করার অবস্থা জানা যায়।
৪. যে কোনো সময়ে রক্তের গ্লুকোজ পরিমাণ: দিনে বা রাতে যে কোনো সময় করা যায়। যদি ফলাফল ১১.১ মিমোল/লিটার বা তার বেশি হয় এবং রোগীর ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকে, তবে ডায়াবেটিস বিবেচনা করা হয়।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ণয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে কিডনিজনিত ঝুঁকি নির্ণয়ে সেরাম ক্রিয়াটিনিন, ইউরিন এসিআর, আলট্রাসনোগ্রাফি; চোখজনিত ঝুঁকি নির্ণয়ে ফান্ডোসকপি এবং  হৃদরোগজনিত ঝুঁকি নির্ণয়ে ইসিজি করা হয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্তের পর প্রতি বছর পরীক্ষা করা উচিত। টাইপ-১ ডায়াবেটিস শনাক্তের পাঁচ বছর পর থেকে প্রতি বছর একবার পরীক্ষা করা জরুরি। রক্তনালিজনিত ঝুঁকি যাচাইয়ে পেরিফেরাল পালস পরীক্ষা করা হয়, যাতে পায়ের রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক আছে কিনা দেখা হয়। প্রয়োজনে লোয়ার লিম্ব ডপলার স্টাডি করা হয়।

ডায়াবেটিসের জটিলতা
অধ্যাপক এস. এম. আশরাফুজ্জামান

ডায়াবেটিস হচ্ছে নীরব ঘাতক। এটি ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ক্ষতি করে, অকার্যকর করে। অনেক সময় রোগী তা বুঝতে পারেন না। ডায়াবেটিসের জটিলতা মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সংক্ষিপ্ত মেয়াদি জটিলতা যেমন–হঠাৎ রক্তে সুগার বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস অন্যতম। এ ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাগুলো হচ্ছে–সূক্ষ্ম রক্তনালি যেমন চোখ, নার্ভ ও কিডনিতে জটিলতা। এগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত উপসর্গহীন, নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়া ধরা যায় না। 
এ ছাড়া বড় রক্তনালির জটিলতার মধ্যে রয়েছে–পায়ের রক্তনালি, হার্ট ও মস্তিষ্কের জটিলতা। অনেক সময় রোগীরা এই উপসর্গ নিয়ে চিকিসকের কাছে যান। এরপর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। চোখের সমস্যা বা হার্ট অ্যাটাকের পরও ডায়াবেটিস শনাক্ত হতে পারে। ডায়াবেটিসের সময়কাল যত দীর্ঘ, জটিল হওয়ার শঙ্কা তত বেশি। নিয়ন্ত্রণহীন ব্লাড সুগার, উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর লিপিড প্রোফাইল (এলডিএল বেশি, এইচডিএল কম, ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি) এবং ধূমপান ডায়াবেটিসকে ত্বরান্বিত করে। 
প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপায় হচ্ছে–ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ত্যাগ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লিপিড নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম এবং নিয়মিত চেকআপ। প্রাথমিকভাবে ধরা পড়লে তা প্রতিরোধযোগ্য। তবে যখনই ডায়াবেটিস শনাক্ত হোক চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

চাই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
ডা. এম সাইফুদ্দিন

জীবনযাপন ব্যবস্থাপনা বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে ১০টি পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম, পর্যাপ্ত ঘুম। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।  
দ্বিতীয় হচ্ছে সুষম খাদ্য। ডায়াবেটিক রোগীদের খাবারে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে খাবারটি সুষম হতে হবে। খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট ৫০ শতাংশ, প্রোটিন  ১০-১৫ শতাংশ এবং ফ্যাট ৩০-৩৫ শতাংশ থাকবে। ‘প্লেট মডেল’ অনুযায়ী অর্ধেক প্লেট থাকবে শাকসবজি, এক-চতুর্থাংশ কার্বোহাইড্রেট, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন। 
তৃতীয়, ভুল ডায়েট ট্রেন্ড এড়ানো। ফেসবুক বা অনলাইননির্ভর কিটো ডায়েট, ক্র্যাশ ডায়েট–এসব এড়ানো জরুরি। 
চতুর্থ, দুধ ও ডিম। রোগী প্রতিদিন আধা গ্লাস দুধ খেতে পারবেন চিনি ছাড়া। প্রতিদিন একটি ডিম কুসুমসহ খাওয়া যাবে। যাদের ওজন কমানো বা ক্যালোরি রেস্ট্রিকশন চলছে, তাদের ক্ষেত্রে কুসুম সপ্তাহে ২-৩ দিন সীমিত রাখা যায়। 
পঞ্চম, অপ্রমাণিত ভেষজ খাদ্য এড়ানো। এলাচ, দারচিনি, মেথি–এগুলো তরকারিতে দিতে পারেন, কিন্তু শুধু খাওয়া যাবে না। 
ষষ্ঠ, সিক্স-মিল কনসেপ্ট। দিনে ছয়বার খাবার খাওয়া উচিত। তিনটি মেইন মিল–সকাল, দুপুর ও রাত। তিনটি নাশতা–সকাল ১১টা, বিকেল ৫টা, রাত ১১টার আগে হালকা কিছু। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা খাবার যেমন দুই পিস বিস্কুট, একমুঠো মুড়ি বা এক কাপ দুধ খেতে পারেন। 
সপ্তম, প্রাকৃতিক খাবার। সবুজ শাকসবজি ও টাটকা ফল সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক খাদ্য। 
অষ্টম, কৃত্রিম চিনি অতিরিক্ত ক্ষতিকর। 
নবম, ব্যায়াম। সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটা চমৎকার ব্যায়াম।  
সর্বশেষ শৃঙ্খলা। সময়মতো খাওয়া, ঘুমানো, নিয়মিত জীবনযাপন–এ শৃঙ্খলাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। 

মানসিক নানা রোগের সংশ্লিষ্টতা
অধ্যাপক মো. আজিজুল হক

ডায়াবেটিস ও মানসিক রোগের সম্পর্ক পারস্পরিক। ডায়াবেটিসের কারণে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বেড়ে। হরমোনাল পরিবর্তনের মাধ্যমে স্ট্রেস ডায়াবেটিস বাড়ায়। এটি একটি চক্রের মতো এবং ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রায় ৫০ শতাংশ  ডায়াবেটিক রোগীর পর্যাপ্ত ঘুম হয় না; যার কারণে হরমোনের অসমতা দেখা দেয় ও ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করতে পারে। ডায়াবেটিস মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ব্লক করে। ফলে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় ও স্নায়ুকোষের ক্ষতি করে। ফলে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়।
ডায়াবেটিস শুধু রক্তে সুগার বাড়ায় না, এটি শরীর এবং মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে। তাই শুধু ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা ও কাউন্সেলিংও গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য রোগীকে শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।  

 

প্রতিষ্ঠান ও কর্মীর সচেতনতা
ডা. শাহজাদা সেলিম

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে শহুরে কর্মজীবীর প্রায় ২০-২৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অধিকাংশ অফিস বা কর্মস্থলে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন নয়। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। শুধু অফিস নয়, মাঠ পর্যায়ের কর্মী, গাড়িচালক, অন্যান্য উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্যও সুযোগ তৈরি করতে হবে। অনেক কর্মী তাদের রোগ গোপন রাখেন। কারণ বৈষম্য, চাকরি হারানোর ভয় বা সহকর্মীর ভুল ধারণা তাদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিক রোগীর জন্য তিন ঘণ্টা অন্তর খাওয়া জরুরি, না হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকে। 
কর্মস্থলে সচেতনতা কেন জরুরি: ডায়াবেটিস দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কর্মী যদি নিয়মিত খাবার খেতে না পারেন, ওষুধ গ্রহণ বা ইনসুলিন নিতে দেরি হয়, কিংবা বিশ্রামের সুযোগ না পান তাহলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।
আইডিএফের বার্তা ২০২৫: আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন এ বছরের প্রচারণায় বলছে, ‘জেনে নিন ও পদক্ষেপ নিন’। নিয়োগকর্তা ও কর্মীকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকতে হবে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা, খাদ্যাভ্যাস ও কাজের ভারসাম্য এবং ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহারে সহকর্মীদের সহানুভূতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

দেশের প্রেক্ষাপট: প্রতিদিন কয়েক কোটি মানুষ নিয়মিত কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় কাটান। খুব কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য সচেতন পরিবেশ গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে কর্মস্থলভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম চালু করা গেলে এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিষ্ঠানকে বছরে অন্তত একবার কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কর্মস্থলে স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা, ছোট হাঁটার বিষয়ে উৎসাহিত করা এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কর্মীদের প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কর্মীরা নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা, দুপুরে সুষম খাবার গ্রহণ, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য বিশ্রাম ও ধ্যানচর্চা  করবেন।
কর্মস্থলকে হতে হবে সহানুভূতিশীল ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, যেখানে প্রত্যেক কর্মী নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন এবং নিরাপদ বোধ করেন।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
অধ্যাপক তানজিনা হোসেন

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস শুধু গর্ভধারণের সময় দেখা দেয়। মা ও সন্তানের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। এটি অনেক সময় আজীবন থেকে যায়। যারা বেশি বয়সে সন্তান ধারণ করেন, তাদের ঝুঁকি একটু বেশি। যাদের পূর্ববর্তী গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আছে, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, ওজন বেশি বা হরমোনজনিত সমস্যা আছে, তারাও ঝুঁকির মধ্যে আছেন। দেশে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের হার অনেক বেশি। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, এটি ১৩-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে; যা এশিয়ায় সর্বোচ্চ। গর্ভবতী নারী ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন। ঝুঁকিপূর্ণ হলে আগেই পরীক্ষা করা উচিত। 
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রভাবে মায়ের শরীরে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। এর মধ্যে প্রি-এক্লাম্পসিয়া ও এক্লাম্পসিয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও গর্ভে পানির মাত্রা কম বা বেশি হওয়া। শিশুর ওপরও প্রভাব পড়ে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রভাবে গর্ভে মৃত্যু, গর্ভে শিশুর নড়াচড়া ও বৃদ্ধিজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন ও সিজারিয়ান সেকশন জটিলতা এবং পরবর্তী জীবনে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অন্যান্য মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধে অল্প বয়স থেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। 

চিকিৎসা ব্যবস্থা
ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান

ডায়াবেটিস চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য শুধু ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং জটিলতা প্রতিরোধ ও রোগীর জীবনমান বৃদ্ধিও জরুরি। ডায়াবেটিসের ওষুধকে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। মুখের ওষুধ–যেগুলো মুখে খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়; ইনসুলিন–শরীরে ইনসুলিন সরবরাহের জন্য এবং নতুন ইনজেক্টেবল থেরাপি–ইনসুলিন নয় কিন্তু ইনজেকশন আকারে ব্যবহৃত। রোগীর জন্য কোনটি প্রয়োজন, তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিসের ধরন, সময়কাল এবং অন্যান্য জটিলতা।
পাশাপাশি রোগীর নিজস্ব ফ্যাক্টর–যেমন নিজে গ্লুকোজ মনিটর করতে পারা, রক্তে সুগার কমে গেলে বুঝতে পারা, পরিবারের সহযোগিতা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। 
যদি নতুন ডায়াবেটিস হয় এবং জটিলতা না থাকে, আমরা মুখের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করি। যদি রোগ অ্যাডভান্সড হয়, টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকে তখন ইনসুলিন প্রয়োজন হয়। ইনসুলিন কোনো আতঙ্কের বিষয় নয়। নতুন ইনজেক্টেবল ড্রাগ এবং এসজিএলটি-২ ইনহিবিটর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্থূলতা হ্রাস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে জটিলতা প্রতিরোধ করে। চিকিৎসা যেভাবেই হোক (মুখের ওষুধ বা ইনসুলিন), তা কার্যকর হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা জরুরি।

প্রতিরোধে করণীয়
ডা. ফারিয়া আফসানা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আলোচনা এলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কথাই মূলত আসে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের কারণ এবং ঝুঁকি জানা গেলে অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সাধারণত নিয়ন্ত্রণহীন খাদ্যাভ্যাস, ফাস্টফুড এবং শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাবে এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়। সুতরাং খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রম এই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। ডায়াবেটিস প্রতিরোধকে চারটি ধাপে ভাগ করতে পারি।
 ১. সঠিক খাদ্যাভ্যাস: সুষম খাবার গ্রহণের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। কোনোরকম ‘ক্র্যাশ’ বা ‘স্ট্রিক্ট ডায়েট’ নয়; বরং একটি ব্যালান্সড ডায়েট, যেখানে শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন এবং পরিমিত কার্বোহাইড্রেট থাকবে। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেলচর্বিযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। আমাদের অনুষ্ঠানের খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন জরুরি–এখানে ভারী খাবারের পরিবর্তে হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে হবে। 
২. নিয়মিত ব্যায়াম: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করতে হবে। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। শারীরিক কার্যক্রম শুধু বাড়িতেই নয়, কর্মক্ষেত্রেও উৎসাহিত করতে হবে। 
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: ওজন নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। এটি খাদ্য ও ব্যায়াম দুটির সমন্বিত ফল। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কেউ নিজের শরীরের ওজনের মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমাতে পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
 ৪. নিয়মিত স্ক্রিনিং: নিয়মিত রক্তে শর্করা পরিমাপ বা স্ক্রিনিং  জরুরি। এতে ‘প্রি-ডায়াবেটিস’ অবস্থাতেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
বর্তমানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়স্কদের নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এখন তরুণদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ বয়সসীমা কমিয়ে আনা উচিত। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সমষ্টিগত উদ্যোগ প্রয়োজন– কর্মক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি, স্কুল কারিকুলামে স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্তি, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং এলাকাভিত্তিক হাঁটা বা ব্যায়ামের গ্রুপ গঠন করা যেতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ একে অপরের পরিপূরক। এর জন্য কঠোর ডায়েট বা ক্লান্তিকর ব্যায়ামের দরকার নেই; বরং জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেই আমরা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারি।

শিশুদের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ 
ডা. আফসার আহাম্মদ মেরাজ

শিশুদের ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে। দেশে ৩.৪ শতাংশ শিশু ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত–যার মধ্যে ১.৮ শতাংশ শিশু ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত। জীবনযাত্রা এখানে ভূমিকা রাখছে। শারীরিক স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে শিশুদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। নিষ্ক্রিয় জীবনধারা, অর্থাৎ শিশুরা প্রায়ই খেলাধুলার জন্য খেলার মাঠ কিংবা খোলা স্থান পায় না। মোবাইল, টিভি এবং অন্যান্য স্ক্রিনের সহজলভ্যতা শিশুর শারীরিক ক্রিয়াকলাপ কমিয়ে ফেলছে। অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাচ্ছে। স্কুলের আশপাশে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবারের রমরমা বাণিজ্য। এ ধরনের খাবার শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।  
শহরায়ন ও পারিবারিক ইতিহাস শিশুর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আক্রান্ত শিশুর মা-বাবা কিংবা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ পরিবারের কারও না কারও টাইপ-২ ডায়াবেটিস রয়েছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরের শিশুরা গ্রামীণ শিশুর তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বিশেষ করে ঢাকা শহরে অন্যান্য শহরের তুলনায় ২৩.৪ শতাংশ বেশি। শিশুর ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত এবং নীতিভিত্তিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ব্যক্তিগত স্তরে বহুল প্রচলিত গাইডলাইনের আলোকে পাঁচ, দুই, এক, জিরো (৫-২-১-০) পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচবার খাদ্যগ্রহণ, যেখানে পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত; দিনে শিশুর স্ক্রিন টাইম ২ ঘণ্টার বেশি নয়, কমপক্ষে ৬০ মিনিট খেলাধুলা করাতে হবে। চিনিযুক্ত ও কোমল পানীয় বাদ দিতে হবে। স্কুল স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রোগ্রামে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, ফাস্টফুডের ক্ষতিকর প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে উচ্চ কর বা সতর্কীকরণ লেবেল বাধ্যতামূলক করতে হবে।

কর্মপরিবেশ
মোহাম্মদ আশরাফুল আলম

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। উন্নত বিশ্বে অনেক প্রতিষ্ঠানেই করপোরেট হেলথ পলিসি রয়েছে, যেখানে কর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তে শর্করা মাপা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকে। আমাদের দেশেও এটি থাকা দরকার। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা রাখা উচিত। কর্মীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিতের পাশাপাশি অফিসে হালকা শরীরচর্চার জন্য সুযোগ থাকা দরকার। করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকা বাঞ্ছনীয়। এগুলো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে। 
ঘরে বসে সহজে রক্তে শর্করা পরীক্ষার সুবিধা দিতে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস  বিশ্বখ্যাত Accu-Chek গ্লুকোমিটার এনেছে। রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা সহজে ও সঠিকভাবে পরিমাপের মাধ্যমে এটি ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। এ ছাড়া নতুন প্রজন্মের যুগান্তকারী ওষুধ Empagliflozin (Ardance) রেডিয়েন্ট এনেছে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগই আমাদের শক্তি– রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। 

 

আলোচক

অধ্যাপক  মো. ফারুক পাঠান
প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
পরিচালক (শিক্ষা), বারডেম একাডেমি

অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান
সদ্য প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট, 
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল

ডা. ফারিয়া আফসানা
সভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
এবং সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, 
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বারডেম

অধ্যাপক এস. এম. আশরাফুজ্জামান
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট

অধ্যাপক মো. আজিজুল হক
সহসভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ

ডা. শাহজাদা সেলিম
সভাপতি (নির্বাচিত), বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)

ডা. এম সাইফুদ্দিন
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
এবং সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

অধ্যাপক তানজিনা হোসেন
প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া সেক্রেটারি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ও অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান
কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
এবং সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডা. আফসার আহাম্মদ মেরাজ
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি এবং সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডা. শাহিন ইবনে রহমান
দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
এবং রেজিস্ট্রার, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বারডেম 

মোহাম্মদ আশরাফুল আলম
ডিরেক্টর (মার্কেটিং)
রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

সঞ্চালনা

শাহেদ মুহাম্মদ আলী
সম্পাদক, দৈনিক সমকাল

সমন্বয়

হাসান জাকির
হেড অব ইভেন্টস, সমকাল

আরও পড়ুন

×