থাইরয়েড বিষয়ে শুরুতে শনাক্তকরণ ও সচেতনতা দরকার
থাইরয়েড সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা-সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৬:৫১ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ থাইরয়েডে ভুগছে। এর অর্ধেক এখনও শনাক্তের বাইরে। থাইরয়েডের রোগ শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে এর চিকিৎসা সহজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ত্বরান্বিত হবে। এ জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। থাইরয়েড সচেতনতা মাস উপলক্ষে গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকালের সভাকক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইনোলজি সোসাইটি ও সমকালের যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে বৈজ্ঞানিক সহযোগী ছিল রেনাটা পিএলসি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘আপনার থাইরয়েডকে জানুন, রোগের শুরুতে শনাক্ত করুন, সুস্থ থাকুন’।
থাইরয়েড রোগের বিস্তার
অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান
বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ কোটি মানুষ থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নারীর মধ্যে এ রোগের প্রকোপ পুরুষের তুলনায় পাঁচ থেকে আটগুণ বেশি। প্রতি আটজন নারীর মধ্যে একজন এবং প্রতি দশজন পুরুষের মধ্যে একজন থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন বলে ধারণা করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে, তারা থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত। এই অজ্ঞতাই রোগটিকে ভয়াবহ করে তুলছে। থাইরয়েড হরমোন মানবদেহের শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ ও মানসিক সক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় কিংবা জন্মের পর থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশু ও কিশোর বয়সে থাইরয়েড সমস্যার কারণে স্কুলে পড়াশোনায় অমনোযোগ, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং মানসিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বন্ধ্যত্ব ও গর্ভধারণজনিত জটিলতা দেখা দেয়। এই যে ভয়াবহতা, যেটি আক্রান্তের ৫০ শতাংশ মানুষ জানে না এই রোগ হয়েছে, তাহলে এই রোগ সম্বন্ধে, তার ভয়াবহতা সম্বন্ধে জানানো আমাদের দায়িত্ব। মানসিকভাবে যে আক্রান্ত হবে, তার আইকিউ কম থাকবে। তাহলে জন্মের পর থেকে এই রোগটা আছে কিনা শনাক্ত করতে হবে। দেরি হলে আক্রান্ত শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে, মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে। এদিকটায় গুরুত্ব দিতে না পারলে জাতি হিসেবে আমাদের ভুগতে হবে।
কারা ঝুঁকিতে
অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান
থাইরয়েড রোগ হলো থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতার সমস্যা। থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনে থাকে এবং এটি এমন হরমোন তৈরি করে যা শরীরের মেটাবলিজম, শক্তি উৎপাদন, ওজন, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা–সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। নারী, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি, অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত রোগী, গলায় রেডিয়েশন বা সার্জারি নেওয়া ব্যক্তি, গর্ভবতী ও প্রসব-পরবর্তী নারীরা থাইরয়েডের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। পাশাপাশি আয়োডিনের ঘাটতি বা অতিরিক্ত গ্রহণ এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধও থাইরয়েড সমস্যার কারণ হতে পারে। মেয়েদের এ রোগের প্রাদুর্ভাবটা বেশি। মেয়েদের বলা হচ্ছে ছেলেদের থেকে পাঁচ থেকে আটগুণ বেশি থাইরয়েড। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ৬০ বছরের পরে দেখা যায় এই রোগ বেড়ে যাচ্ছে। যাদের গলায় থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের আগে কোনো সার্জারি করা হয়েছে তাদের পরবর্তী সময়ে থাইরয়েড রোগ হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। যাদের গলায় দেখা যায় কোনো কারণে রেডিয়েশন দেওয়া হয়েছে তাদেরও পরবর্তী সময়ে এই থাইরয়েড রোগ হওয়ার শঙ্কা থাকে। আমরা বলি যে প্রেগন্যান্সি এবং প্রেগন্যান্সি-পরবর্তী পোস্টপিড সেখানেও এই রোগের প্রভাব বেড়ে যায়। যে সব শিশুর এই রোগের প্রভাব থাকে তাদের আস্তে আস্তে মেধা কমতে থাকে। এই রোগের ভয়াবহতা অনেক বেশি।
শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা
ডা. ফারিয়া আফসানা
থাইরয়েডের কারণে প্রধানত দুটি রোগ হয়ে থাকে। এর মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজম বা রক্তে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া। এই রোগ সবচেয়ে বেশি নারীর মধ্যে দেখা যায়। এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে হলে লক্ষণগুলো জানা প্রয়োজন। লক্ষণ প্রকাশ হলে অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে। কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে যেমন–কাজে আগ্রহ না পাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া, শরীরে ফোলা ভাব, ক্লান্ত লাগা, ডিপ্রেসড থাকা। এ ছাড়া চুল ও ত্বকের কিছু পরিবর্তন যেমন ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়া এবং এছাড়াও হজম এবং শারীরিক কিছু সমস্যা যেমন–কোষ্ঠকাঠিন্য, জয়েন্টে ব্যথা–এ ধরনের বিভিন্ন রোগ নিয়ে আসতে পারে। এছাড়াও নারীর ক্ষেত্রে বিশেষ করে অনিয়মিত মাসিক বা মাসিকের রক্তক্ষরণ বেশি হচ্ছে এটাও একটা লক্ষণ হতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধিক্ষণ আসতে দেরি হচ্ছে, এটাও হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ হতে পারে। ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যত্ব এগুলো হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ হিসেবে আসতে পারে। সুতরাং এই লক্ষণগুলো থাকলে আমরা চিন্তা করব যে তার স্ক্রিনিং বা থাইরয়েড ফাংশন করতে হবে কিনা। কারণ এ লক্ষণগুলো অন্য অনেক রোগের জন্যও থাকতে পারে। এ লক্ষণগুলো থাকার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্ক্রিনিংটা যদি ঠিকমতো করতে পারি তাহলে এই হাইপোথাইরয়েডিজম রোগটিকে সঠিক সময় শনাক্ত করতে পারব।
থাইরয়েড রোগ শনাক্তে প্রধানত টিএসএইচ ও এফটি-৪ পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে অ্যান্টি-থাইরয়েড অ্যান্টিবডি ও আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়।
হাইপোথাইরয়েডিজমে শরীরে যে হরমোনের অভাব হয়, তা ওষুধের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ওষুধ আজীবন নিয়মিত খেতে হয়। সকালে খালি পেটে, খাবারের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ওষুধ সেবন এবং নিয়মিত ফলোআপ অত্যন্ত জরুরি।
আয়োডিন ঘাটতিজনিত সমস্যা
ডা. শাহজাদা সেলিম
আয়োডিন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যা থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে অপরিহার্য। মানবদেহের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ–সবকিছুই নির্ভর করে এই হরমোনের সঠিক কার্যকারিতার ওপর। অথচ বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আয়োডিন ঘাটতি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। এর ফল হিসেবে গয়টার, হাইপোথাইরয়েডিজম, শিশুর বুদ্ধি বিকাশে প্রতিবন্ধকতা, নারীর বন্ধ্যত্ব ও গর্ভকালীন জটিলতার মতো নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে ইউনিভার্সাল সল্ট আয়োডাইজেশন (ইউএসআই) কর্মসূচি চালু হলেও বাস্তব চিত্র এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চল, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং কিছু উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার এখনও নিশ্চিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে খোলা বা শিল্পলবণ ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে, যা আয়োডিন ঘাটতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে শিশুর শেখার ক্ষমতা ও মানসিক বিকাশে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আয়োডিন ঘাটতি গর্ভপাত, মৃতভ্রূণ কিংবা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গয়টার ও হরমোনজনিত জটিলতা কর্মক্ষমতা ও জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিত কর প্রতিটি পরিবারে নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত প্যাকেটজাত লবণ ব্যবহার করতে হবে। খোলা বা শিল্পলবণ পরিহার করা জরুরি। লবণ ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে এবং রান্নার একেবারে শেষে যোগ করলে আয়োডিন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে আয়োডিন ঘাটতির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রচার চালানো প্রয়োজন। গর্ভবতী নারী ও শিশু–এ দুটি ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে। লবণ উৎপাদন, প্যাকেটজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্কুলভিত্তিক ইউরিন আয়োডিন পরীক্ষা ও থাইরয়েড স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
থাইরয়েড হরমোন আধিক্যজনিত সমস্যা শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা
ডা. এম. সাইফুদ্দিন
থাইরয়েড হরমোনের আধিক্যজনিত অবস্থাকে থাইরোটক্সিকোসিস বলা হয়, যা গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এ অবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হওয়ার ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত হৃদস্পন্দন, ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, গরম সহ্য না হওয়া, হাত কাঁপা, অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা, ঘুমের সমস্যা এবং নারীর ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়ম। বয়স্ক রোগীদের উপসর্গ অনেক সময় অস্পষ্ট হলেও হৃদযন্ত্রের জটিলতা ও অনিয়মিত হার্টবিট দেখা দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণের জন্য রক্ত পরীক্ষায় এফটি৪, এফটি৩ ও টিএসএইচ পরিমাপ অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে থাইরয়েড স্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাফি ও অটোঅ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়, যা রোগের কারণ নির্ণয়ে সহায়ক। ব্যবস্থাপনায় রোগের ধরন, বয়স ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধের মাধ্যমে হরমোন উৎপাদন কমানো হয় এবং বিটা-ব্লকার ব্যবহার করে দ্রুত হৃদস্পন্দন ও কাঁপুনি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী রেডিওআইডিন থেরাপি বা অস্ত্রোপচার করা হয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ রোগীই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
গর্ভধারণের পরিকল্পনার আগে থাইরয়েড পরীক্ষা করা উচিত
অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন
পুরুষের তুলনায় নারীর থাইরয়েড সমস্যা আটগুণেরও বেশি। এই সমস্যার একটি বড় অংশ ধরা পড়ে গর্ভধারণের সময় কিংবা গর্ভধারণে সমস্যা অনুসন্ধান করতে গিয়ে। থাইরয়েড হরমোন নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শরীরে এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হয়, মাসিক অনিয়ম দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে অনেক নারী বুঝতেই পারেন না যে সন্তান ধারণে ব্যর্থতার পেছনে থাইরয়েড সমস্যাই মূল কারণ। গর্ভধারণের পরও থাইরয়েড সমস্যা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে প্রথম তিন মাসে গর্ভপাতের আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ছাড়া অপর্যাপ্ত চিকিৎসা না হলে অকাল প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম, এমনকি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গর্ভকালে থাইরয়েড সমস্যার কারণে মায়েরও নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে যেমন উচ্চ রক্তচাপ, প্রিএকলাম্পসিয়া বা একলাম্পসিয়া। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনার আগেই থাইরয়েড পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। একটি সাধারণ টিএসএইচ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই থাইরয়েডের কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন ও ফলোআপের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিরাপদ গর্ভধারণ ও সুস্থ সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব। গর্ভকালে ঘন ঘন থাইরয়েড পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করে টিএসএইচ নিরাপদ মাত্রায় রাখতে হবে। অনেকের সন্তান প্রসবের পর থাইরয়েডে প্রদাহ দেখা দেয়; যাকে বলে পোস্ট পারটাম থাইরয়েডাইটিস।
শিশু ও কিশোরদের থাইরয়েড সমস্যা
ডা. এস এম মহিউদ্দিন
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য জন্মের প্রথম দুই বছর থাইরয়েড হরমোনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রধানত দুই ধরনের থাইরয়েড সমস্যা দেখা যায়– হাইপো থাইরয়েডিজম ও হাইপার থাইরয়েডিজম। হাইপো থাইরয়েডিজম হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থির লঘু ক্রিয়া। এতে রক্তে থাইরক্সিন হরমোনের মাত্রা (এফটি৪) কমে যায় এবং টিএসএইচ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। জন্ম থেকে থাইরয়েড গ্রন্থির এপলাসিয়া, হাইপোপ্লাসিয়া অথবা থাইরয়েড হরমোনের সংশ্লেষণজনিত সমস্যা, মায়ের আয়োডিনের অভাব, অ্যান্টিবডির প্রভাব ইত্যাদি যে কোনো কারণে জন্মের তিন মাসের মধ্যে শনাক্ত না হলে ক্রিটিনিজম প্রকাশ পায়। এতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। শিশুর মাথা বড়, মুখমণ্ডল ফোলা হতে পারে। অস্থি ও মাংসপেশি বৃদ্ধি ঘটে না, ফলে শিশু বামন হয়। জিহ্বা লম্বা, দেহের তুলনায় পেট মোটা, শীত অনুভূত হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। শিশুর ছয় মাস বয়সে বসার কথা, বসতে পারে না। এক বছরে হাঁটার কথা হাঁটতে পারে না। এ ছাড়া বিলম্বিত বা দ্রুত সাবালকত্ব প্রাপ্তি হতে পারে। হাইপার থাইরয়েডিজম হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থির বেশি ক্রিয়ার ফল। এতে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা (এফটি৪, এফটি৩) স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। গ্রেভরোগ অন্যতম প্রধান কারণ। এতে গলা ফুলে যায়, হাতের কম্পন দেখা দেয়, বুক ধড়ফড় করে, গরম অসহ্য লাগে, হাতের তালু ঘামে। চোখ বড় বড় হয়, চোখের ওপরের পাতা আরও ওপরে উঠে যায়, খিটখিটে মেজাজ, মানসিক অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। খাদ্যের প্রতি টান থাকলেও ওজন কমে যায়। পাতলা পায়খানা হতে পারে।
পরীক্ষা
জন্মের পরপর থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা শনাক্ত করতে হবে। জন্মের ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে থাইরয়েড হরমোন এবং টিএসএইচ হরমোন পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া গলার আলট্রাসনোগ্রাম, থাইরয়েড স্ক্যান, হাত ও হাঁটুর এক্সরে লাগতে পারে।
চিকিৎসা
হাইপো থাইরয়েডিজমের জন্য নিয়মিত থাইরক্স ট্যাবলেট (লেভোথাইরক্সিন) সেবন করতে হবে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হবে। হাইপার থাইরয়েডিজমের জন্য কার্ভিমাজল অথবা প্রোপাইল থাইউ ইউরাসিল (পিটিও) দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। রিলাপসের ক্ষেত্রে রেডিও আয়োডিন থেরাপি অথবা সার্জারি লাগতে পারে। পরবর্তী সময়ে হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়।
ওষুধের সহজলভ্যতা
মো. খায়রুল ইসলাম
থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা দেশে সম্পূর্ণভাবে সহজলভ্য। এ রোগের চিকিৎসা নিতে বিদেশে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় ওষুধও দেশের বাজারে সহজলভ্য রয়েছে এবং যেকোনো ওষুধের দোকানেই এসব ওষুধ পাওয়া যায়। থাইরয়েডজনিত অনেক রোগী এখনও শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছেন। তাই দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এসব রোগীকে শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে থাইরয়েড রোগ নিয়েও স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে থাইরয়েডের সম্পর্ক
ডা. মারুফা মোস্তারী
অনেকেই মনে করেন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে থাইরয়েডের সম্পর্ক আছে। যেমন–আইয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড হতে পারে, সমাজে এমন একটি মিথ রয়েছে। আয়োডিনের উপকারিতা রোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। আয়োডিন ঘাটতিজনিত হাইপোথাইরয়েডিজম এবং আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড হলে আয়োডিনযুক্ত লবণ উপকারী। অটোইমিউন হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হাইপোথাইরয়েডিজম হলে আয়োডিন কিন্তু রোগকে আরও খারাপ অবস্থায় নিতে পারে। থাইরয়েডের ওষুধের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খাবার ওষুধের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমে এক গ্লাস পানি দিয়ে লেভোথাইরক্সিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এর ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরে খাবার খেতে হবে। ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবার বা সাপ্লিমেন্ট নিলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করবে না। ক্যালসিয়াম, আয়রন কিংবা মাল্টিভিটামিন ওষুধের কমপক্ষে চার ঘণ্টা পরে নিতে হবে। সকালে সমস্যা হলে রাতে খাবারের তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া যেতে পারে। মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন উপসর্গ বাড়াতে পারে। থাইরয়েড হলে বিশেষ ডায়েট লাগবে, বাঁধাকপি খাওয়া যাবে না–এগুলো একেবারেই ভুল ধারণা। থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি হচ্ছে সঠিক সময়ে ওষুধ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার।
থাইরয়েড ও ক্যান্সারের ঝুঁকি
ডা. নাজমা আক্তার
থাইরয়েড গ্রন্থির সুস্থতা বজায় রাখতে খাদ্যাভাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন একটি অপরিহার্য উপাদান। আয়োডিনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গয়টার বা চাকা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার থাইরয়েডজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। এ ছাড়া থাইরয়েডের কার্যকারিতার সঙ্গে সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনেরও সম্পর্ক রয়েছে। এসব উপাদান থাইরয়েড হরমোনের সঠিক উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মাছ, ডিম, দুধ, বাদাম, শাকসবজি ও ডালজাতীয় খাবার এসব পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস। অতিরিক্ত জাঙ্কফুড, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েড রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার ওজন বৃদ্ধি ও হরমোনের অসামঞ্জস্য বাড়াতে পারে। এ ছাড়া ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভাস থাইরয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত জরুরি। সবশেষে বলা যায়, থাইরয়েডজনিত সমস্যায় শুধু ওষুধ নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভাস, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। গলায় কোনো চাকা, ফোলা বা হঠাৎ ওজন পরিবর্তন, ক্লান্তি, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। থাইরয়েড আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ মানুষের থাইরয়েড গ্রন্থিতে নডিউল বা চাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২-৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। তাই গলায় চাকা বা অস্বাভাবিক ফোলা দেখা গেলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
প্রজনন স্বাস্থ্যে থাইরয়েডের প্রভাব
ডা. সানজিদা মাহমুদ
প্রজনন স্বাস্থ্যে থাইরয়েডের বড় প্রভাব রয়েছে। নারীর ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যত্ব ও গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই কারণে গর্ভধারণের আগে আমাদের থাইরয়েড পরীক্ষা করা জরুরি। সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ থাইরয়েডে আক্রান্তের ৫০ শতাংশের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এছাড়া প্রায় ৮-১০ শতাংশ মানুষের থাইরয়েডে নডিউল বা চাকা দেখা যায়, যার মধ্যে ২-৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। তাই কোনো উপসর্গ না থাকলেও নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে থাইরয়েডজনিত জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
যা জানা জরুরি
ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ
আমাদের থাইরয়েড হরমোনের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক। থাইরয়েড রোগ বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজম একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা, যেখানে অধিকাংশ রোগীকেই বহু বছর, অনেক ক্ষেত্রে আজীবন ওষুধ সেবন করতে হয়। বাস্তবে দেখা যায় ওষুধ নিয়ে রোগীদের মধ্যে প্রচুর দ্বিধা, ভয় ও ভুল কারণ আছে। প্রথমত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার–থাইরয়েডের ওষুধ কোনো সাময়িক চিকিৎসা নয়। এটি শরীরে যে হরমোনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেই ঘাটতি পূরণ করে। তাই ভালো লাগছে ভেবে ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়। হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত অনেক রোগীর অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে কিডনি বা লিভারের ক্ষতি হয়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। থাইরয়েডের ওষুধ খালি পেটে সাধারণত সকালে পানি দিয়ে খেতে হয়। খাওয়ার কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে খেতে হবে। এবার রোজার সময় করণীয় প্রসঙ্গে আসি। রোজায় সময় থাইরয়েড রোগীদের জন্য সাধারণ সঠিকভাবে নিয়মে ওষুধ নিতে হবে। সাহ্রির ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ওষুধ সেবন করতে হবে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
সুপারিশ
থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণে উদ্যোগ নিতে হবে।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগে থাইরয়েড রয়েছে কিনা পরীক্ষা করা।
শিশু জন্মের সাত দিনের মধ্যে এই রোগ আছে কিনা জানতে পরীক্ষা করা।
বেশি আক্রান্ত নারী জনগোষ্ঠীর স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
আয়োডিনযুক্ত লবণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত ও মান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ গ্রহণ।
নবজাতক ও শিশুদের থাইরয়েড স্ক্রিনিং চালু/বিস্তৃত করা।
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়মিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় থাইরয়েড পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।
রোগীভিত্তিক কাউন্সেলিং ও ভুল ধারণা দূর করা।
আলোচক
অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান
পরিচালক (একাডেমি), বারডেম, ঢাকা
প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান
সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এন্ডোক্রাইনোলজি ইউনাইটেড হাসপাতাল
সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. ফারিয়া আফসানা
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বারডেম
ও সভাপতি, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. শাহজাদা সেলিম
সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা
সমন্বয়কারী, থাইরয়েড টাস্কফোর্স
সভাপতি-নির্বাচিত, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. এম সাইফুদ্দিন
সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন
অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ; প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. এস এম মহিউদ্দিন
সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. নাজমা আক্তার
সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
মার্কস মেডিকেল কলেজ; গবেষণা সম্পাদক বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. মারুফা মোস্তারী
সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি
বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. সানজিদা মাহমুদ
সহকারী অধ্যাপক, ফেটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সদস্য সচিব, থাইরয়েড টাস্কফোর্স
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
মো. খায়রুল ইসলাম
হেড অব মার্কেটিং (হরমোন অ্যান্ড ডার্মা পোর্টফোলিও), রেনাটা পিএলসি
সঞ্চালনা
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
সম্পাদক, সমকাল
