ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ, সচেতনতাই হতে পারে বড় প্রতিরোধ

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ, সচেতনতাই হতে পারে বড় প্রতিরোধ
×

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন ও সমকালের যৌথ আয়োজনে ‘উচ্চ রক্তচাপ শুধু রোগ নয়: জীবনযাপন ও চিকিৎসা বাস্তবতার সংকট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা - সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:২৬ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চ রক্তচাপ এখন দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ। তবে সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।
গত ১৫ মে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘উচ্চ রক্তচাপ শুধু রোগ নয়: জীবনযাপন ও চিকিৎসা বাস্তবতার সংকট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন ও সমকাল যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। বৈজ্ঞানিক সহযোগী ছিল অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড 

অধ্যাপক ডা. মো. মনির-উজ-জামান
অধ্যক্ষ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ 
আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম)

উচ্চ রক্তচাপের বড় সমস্যা হলো, এটি সাধারণত কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। ফলে রোগীরা বুঝতেই পারেন না– তারা আক্রান্ত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর, কিডনি জটিলতা বা অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। দেশে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সংস্কৃতি নেই। মানুষ বড় কোনো সমস্যা না হলে চিকিৎসকের কাছে যান না। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ গ্রহণ এবং কোয়ালিফায়েড চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়ার কারণে জটিলতা বাড়ছে। সমাজে যত উচ্চ রক্তচাপ রোগী আছে তার মাত্র ৫০ শতাংশ শনাক্ত হয়। শনাক্তদের অর্ধেক সংখ্যক চিকিৎসা নেয় এবং চিকিৎসা নেওয়া রোগীদেরও মাত্র অর্ধেক সংখ্যকের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। অর্থাৎ মাত্র ১২-১৩ শতাংশ রোগীর রক্তচাপ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে। অথচ জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নিয়মিত ওষুধ সেবন ও ফলোআপের মাধ্যমে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটা হয়তো পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নিয়মিত ওষুধ সেবন ও ফলোআপের মাধ্যমে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হাইপারটেনশনজনিত রোগগুলো হয়ে গেলে আসলে তখন বেশি কিছু করার থাকে না। কিন্তু আমরা সহজেই সেগুলো প্রতিরোধ করতে পারি।

অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবুল হুদা 
উপাধ্যক্ষ, মুগদা মেডিকেল কলেজ: সদস্য সচিব, সায়েন্টিফিক সাব কমিটি
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম)

বিশ্বব্যাপী নীরবে ছড়িয়ে পড়া একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার এখনই সময়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বাংলাদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ হাইপারটেনশনে ভুগছেন। মানুষের বয়স ৫০-এর কাছাকাছি গেলে প্রায় অর্ধেক সংখ্যকের বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপ বা এর ঝুঁকিতে পড়েন। কিন্তু কার্যকর ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাব, অনিয়মিত ফলোআপ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে এটি এখনও বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শহুরে জীবনে মানসিক চাপ ও লাইফস্টাইল এ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। উদ্বেগের বিষয়, তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। আশার কথা, এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ দুটোই সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের প্রতিপাদ্য : কন্ট্রোল হাইপার টেনশন টুগেদার। এই নীরব ঘাতককে পরাজিত করতে পরিবার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ নীরবে তৈরি হতে পারে, তবে এর পরিণতি কখনও নীরব থাকে না। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার। 

ডা. মোহাম্মদ জাকারীয়া আল-আজিজ
সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ বা হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখতে হবে, শুধু শরীরের চাপ নয়, মানসিক চাপও রক্তচাপ বাড়ার একটি বড় কারণ। অতিরিক্ত 
কর্মচাপ, উদ্বেগ, অনিদ্রা ও মানসিক অস্থিরতা দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষ এখন সাফল্যের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছে। সাফল্য জিনিসটা কী– বোঝা জরুরি। স্কুলের শিক্ষার্থীদের এ প্লাস পাওয়ার জন্য মা-বাবা বাচ্চাদের পেছনে যেভাবে দৌড়াচ্ছেন, তাতে তাদের ওপর অনেক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। কর্মস্থল, আর্থিক 
অবস্থা, একাকিত্ব– সবই মন ও শরীরের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। আমরা নিজেরা সচেতন না হলে অন্যদের সচেতন করব কীভাবে? অনেকে ২৪ ঘণ্টা কাজ করাকে ডেডিকেশন মনে করে। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের দিকে তাকায় না। 

অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন
অধ্যক্ষ, বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ

উচ্চ রক্তচাপকে ২০০৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষের মধ্যে এখনও ভুল ধারণা– বয়স বাড়লে প্রেশার একটু বাড়বেই। আবার কোনো উপসর্গ না থাকলে চিকিৎসার দরকার নেই। এ ধারণার কারণেই অনেকে চিকিৎসা নিতে চান না। দেশের বিপুলসংখ্যক রোগীকে এককভাবে ব্যবস্থাপনা করা কঠিন। এ জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা দরকার। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রতি থানায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সেন্টার গড়ে তোলা গেলে সুফল পাওয়া যাবে। আমাদের দেশে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ 
বিশাল একটি জনগোষ্ঠী হাইপারটেনশনে আক্রান্ত। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কঠিন। এ জন্য দরকার সচেতনতা ও কমিউনিটি লেভেলে সাশ্রয় মূল্যে সেবা। সরকারি বা প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে প্রতি থানায় থানায় যদি সেন্টার স্থাপন করা যায়, তবে ভালো ফল পাওয়া যাবে। আইডিসিআর যেমন সারাদেশে কাজ করছে, তেমনি হাইপারটেনশন নিয়েও আমাদের সামগ্রিক ও সমন্বিতভাবে অনেক বেশি কাজ করা দরকার।

অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ
উপ-উপাচার্য, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

বর্তমানে প্রতি পাঁচজনের একজন তরুণ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। কভিড-পরবর্তী সময়ে শিশু-কিশোরদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। খেলাধুলার জায়গা নিয়েছে মোবাইল ফোন, ভিডিও গেম ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে। চিপস, আচার, বার্গার, পিৎজা, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি-লবণযুক্ত খাবার তরুণদের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে। ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার প্রবণতা কমছে। ধূমপান, মাদক, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে। যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। অনেক রোগী কোনো উপসর্গ ছাড়াই ঘুরে বেড়ান। হঠাৎ স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি বিকল হলে হাসপাতালে আসেন। মানুষের ধারণা, একবার ওষুধ শুরু করলে সারাজীবন খেতে হবে। এ ভয়েই অনেকে চিকিৎসা নিতে চান না। গাইডলাইন অনুযায়ী, ১৩০/৮০ রক্তচাপকেও হাইপারটেনশন ধরা হয়। তাই মানুষকে সঠিক তথ্য জানানো জরুরি। এই সাইলেন্ট কিলার মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম 
পরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর 

‘কন্ট্রোল হাইপারটেনশন টুগেদার’ স্লোগানের অর্থ হলো চিকিৎসক, রোগী, পরিবার ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি ‘এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন’, যার নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে জিনগত কারণ, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, অ্যালকোহল, বয়স বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফাস্টফুড, এনার্জি ড্রিংকস, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও অনিয়মিত ঘুম তরুণদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গবেষণাতেও প্রমাণ পাওয়া গেছে, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা এখন ফাস্টফুড ও এনার্জি ড্রিংকস বেশি খাচ্ছি। নগরায়ণের কারণে আমাদের কায়িক পরিশ্রম কমে গেছে। আমরা গাড়ি থেকে নেমে লিফটে উঠছি; সারাক্ষণ টেবিল ওয়ার্ক করছি। এই স্ট্রেসফুল লাইফের কারণে হাইপারটেনশন ছাড়াও ডায়াবেটিস এবং ওবেসিটির মতো মেটাবলিক সিনড্রোম বাড়ছে। যদি আমরা এই লাইফস্টাইল বদলাতে পারি, তবে হাইপারটেনশন প্রতিরোধ ও এর প্রতিকার করা সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. সাইয়েদুর রহমান
মেডিসিন বিভাগের প্রধান
প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ

দেশে এখনও অধিকাংশ মানুষ বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে জ্বর বা সাধারণ অসুস্থতায় অনেকে সরাসরি ফার্মেসি থেকে প্যারাসিটামল বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের সহজলভ্যতা ও যোগ্য চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ না নেওয়ার প্রবণতার কারণেই দেশে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা আরও বাড়ছে। বর্তমানে হাইপারটেনশন পরিণত হয়েছে জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকটে। হাইপারটেনশন কোনো সিম্পটম তৈরি করে না। কাজেই এটা আমাদের অজানাই থেকে যায়। আমরা আমাদের ভাষায় বলি, ‘টার্গেট অর্গান ড্যামেজ’। যখন এটি কোনো একটি টার্গেট অর্গানকে ড্যামেজ করে; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তখনই জানা যায়, একজন মানুষের হাইপারটেনশন আছে। অথবা কখনও কোনো একটি রুটিন স্ক্রিনিংয়ের পার্ট হিসেবে ধরা পড়ে।

 

অধ্যাপক ডা. আশিকুর রহমান খান
মেডিসিন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল ও হাসপাতাল

উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতাসহ গুরুতর নানা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগীরা উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই হয় না। আবার উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হওয়ার পরও রোগীরা ওষুধ নিয়মিত খান না। গ্রামে ওষুধের দোকানে অনেক সময় রক্তচাপ মাপটাও সঠিকভাবে হয় না। এতে রোগীদের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে দেশে কোনো গাইডলাইনও নেই। ফলে এটার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অনেক সময় সমস্যা তৈরি করে। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় নীতিগত জায়গা থেকে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ গাইডলাইন তৈরি করে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাসকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা প্রয়োজন।

 

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহির উদ্দিন
মেডিসিন বিভাগের প্রধান, পপুলার মেডিকেল কলেজ

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ‘ড্যাশ ডায়েট’ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। এতে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেশি থাকে। বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ লবণ খায়, বিশেষ করে ফাস্টফুডে লবণের পরিমাণ অনেক বেশি। লেবু বা তেঁতুল খেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রেশার কমে যায়– এমন ধারণা ভুল। কিছু পানীয় সাময়িক মানসিক চাপ কমাতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে ঘাড়ব্যথা বা মাথাব্যথা যদি ব্রেন হ্যামারেজ কিংবা স্ট্রোকের মতো গুরুতর কারণে হয়ে থাকে, তাহলে লেবু বা তেঁতুল খেয়ে সময় নষ্ট করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্ট্রোক বা ব্রেন হ্যামারেজের মতো জরুরি অবস্থায় এসব খেয়ে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে। লেবু বা তেঁতুল দীর্ঘ মেয়াদে রক্তনালির ওপর ভালো প্রভাব ফেলে ঠিকই, কিন্তু তাৎক্ষণিক সংকটে এগুলো কোনো ওষুধ নয়। সিরিয়াস কন্ডিশনে সরাসরি ইমার্জেন্সিতে যেতে হবে।

অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক
মেডিসিন বিভাগ
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ

মানুষের বয়স যখন ৫০-এর কোঠায় যাচ্ছে, তখন ৫০-৬০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত কিছু ঝুঁকির মধ্যে আসে। দেশে উচ্চ রক্তচাপ শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়। এটা জীবনযাত্রা ও সামাজিক সমস্যায় পরিণত। হাইপারটেনশন এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়; তুলনামূলক কম বয়সী রোগীদের মধ্যেও এটি বাড়ছে। 
তরুণ কর্মজীবী মানুষ, যাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ আমরা দেখতে পাচ্ছি; স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে– এটিও জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আশার বিষয়, উচ্চ রক্তচাপ 
প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ দুটোই সম্ভব। এই নীরব ঘাতককে আমাদের পরাজিত করতে হবে। এ জন্য সমাজের সর্বস্তরের পরিবার, সংস্কৃতিকর্মী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান– সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা এখন সময়ের দাবি।

 

অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল ফারুক
মেডিসিন বিভাগ
ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি স্ট্রেস এখন বড় সমস্যা। স্ট্রেস সরাসরি ও পরোক্ষভাবে হৃদরোগ তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা মেটাবলিক সিনড্রোম, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেসে থাকা মানুষের কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি। আমাদের ব্রেনের হাইপোথ্যালামাস থেকে কর্টিসল হরমোন রিলিজ হয় এবং সিমপ্যাথেটিক অ্যাক্টিভিটি বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ তৈরি হয়; যার অন্যতম পার্ট হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। বিখ্যাত ‘ইন্টারহার্ট স্টাডি’ অনুযায়ী, স্মোকিং বা অ্যালকোহলের চেয়েও স্ট্রেসফুল কন্ডিশনকে এখন বড় মডিফিয়েবল রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা উচিত। আমি একটি শব্দ বলতে চাই, ‘Stress’ শব্দটা এড়িয়ে চলুন এবং ‘Stretch’ করতে মোটিভেট করুন। শরীর ও মনকে স্ট্রেচ করুন এবং অ্যাক্টিভিটি বাড়ান। দেখবেন, স্ট্রেস কমে যাবে।

 

অধ্যাপক ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া 
মেডিসিন বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ

উচ্চ রক্তচাপ মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে। অনেকে ওষুধ শুরু করে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে এলে বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে রক্তচাপের ওঠানামা স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের চেয়েও বেশি ক্ষতি করতে পারে। তরুণ প্রজন্মের জীবনযাপনে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে মানসিক চাপ ও অসুস্থ অভ্যাস বাড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত 
ওষুধ সরবরাহ এবং রোগীদের মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও সহজে চিকিৎসাসেবা পাবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত প্রটোকল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে উচ্চ 
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। এই প্রটোকলের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পর্যায়েই রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও নিয়মিত অনুসরণ নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রটোকল বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি চিকিৎসক, গণমাধ্যমসহ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে।

অধ্যাপক মো. নূর-এ-আলম খান
মেডিসিন বিভাগের প্রধান
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম না হলে শরীরে বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে ঘুমের ঘাটতিতে গ্রেলিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং লেপটিন হরমোন কমে যায়। এর ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অনিয়মিত ঘুমের কারণে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত ঘুম রক্তচাপ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে। বর্তমানে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমও বড় একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে।  দীর্ঘসময় কম্পিউটার, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমে যায়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে মানসিক চাপ, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একজন মানুষকে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এটা জরুরি।

 

অধ্যাপক ডা. মো. রাজিবুল আলম
মেডিসিন বিভাগের প্রধান
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ

উচ্চ রক্তচাপ মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর। দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হওয়ায় সহজে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা করার কর্নার স্থাপন করা জরুরি। এতে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা প্রতিরোধ সহজ হয়। ঢাকামুখী রোগীর চাপ কমে আসবে। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। যেভাবে খাবার স্যালাইন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়েছে, একইভাবে উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কেও ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত প্রচারণার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়েও ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। ধর্মীয় অনুশাসন পরিপালনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

অধ্যাপক ডা. মো. মঞ্জুরুল হক
মেডিসিন বিভাগ, মুগদা মেডিকেল কলেজ

উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস এবং গণমাধ্যম– এই তিনটি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা তৈরির কাজটি শৈশব থেকেই শুরু করতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকেই শিশুদের সুষম খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণের ক্ষতি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। একজন মানুষের দৈনিক ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। পরিবারে রান্নার ক্ষেত্রেও লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সচেতন হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা ও শারীরিক ব্যায়ামের চর্চা কমে গেছে। নিয়মিত শরীরচর্চার অভাবে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডকে বাধ্যতামূলক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। কর্মক্ষেত্রেও ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মিডিয়াকে ভুল ধারণা দূর করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

 

ডা. আহাম্মদ মনজুরুল আজিজ
সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

গ্রাম ও শহরের জীবনযাপনে পার্থক্য আছে। গ্রামে মানুষের শারীরিক কার্যক্রম বেশি থাকলেও বর্তমানে সেখানে জাঙ্ক ফুড গ্রহণ ও সচেতনতার অভাব দেখা দিচ্ছে। গ্রামে রোগ নির্ণয়ের হার কম। শহরে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা বেশি থাকলেও মানুষের শরীরে একাধিক রোগ থাকায় ব্যবস্থাপনা জটিল। উদ্বেগের বিষয়, রক্তচাপ মাপার মেশিন। সরকারি হাসপাতালে মেশিনের মান সবসময় ভালো থাকে না এবং তা অপ্রতুল। হাইপারটেনশন কোনো সাময়িক রোগ নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি এবং অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক রোগী আশপাশের মানুষের পরামর্শে বা সাময়িকভাবে শরীর ভালো লাগলে নিজ থেকেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করে দিলে রক্তচাপের ওঠানামা বা ফ্লাকচুয়েশন তৈরি হয়, যা স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এতে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

ডা. রাহনুমা পারভীন
সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, গাজীপুর 

বাংলাদেশে প্রতি চারজন নারীর একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে এ হার আরও বেশি। গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, মেনোপজ-পরবর্তী হরমোন পরিবর্তন এবং মানসিক চাপ নারীদের ঝুঁকি বাড়ায়। পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের হার বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী পারিবারিক নির্যাতনের (ইন্টিমেট পার্টনার ভায়োলেন্স) শিকার হন, তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার বেশি। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ভয় ও অনিরাপত্তা নারীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নারীদের জন্য নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা, শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো এবং মানসিক সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। কারণ একজন সুস্থ নারী শুধু একটি পরিবারের জন্যই নয়; সুস্থ প্রজন্ম গঠনেরও ভিত্তি।

 

মো. মাহমুদুল হক
উপমহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়), অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড

ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এখন শুধু ওষুধ উৎপাদন নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে। অপসোনিন ফার্মা ১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করে। কোম্পানির লক্ষ্য হলো চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নতুন ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে আনা। তবে কম লাভের কারণে অনেক কার্যকর পুরোনো ওষুধ বাজার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। অসংখ্য প্রডাক্ট আছে আমাদের, যা খুব রিজনেবল প্রাইসে নিয়ে এসেছি। এই মুহূর্তে আমরা ৫৬১টি জেনেরিক নিয়ে কাজ করছি। আমাদের এসকিউ আছে ১ হাজার ১০০-এর ওপরে। আমাদের ফ্যাক্টরি এ মুহূর্তে সাউথ-ইস্ট এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় ফার্মা ফ্যাক্টরি। আমরা একই মানের মেশিন থেকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য ওষুধ তৈরি করছি। আন্তর্জাতিক গুণগত মান নিশ্চিত করায় বর্তমানে ২৫টিরও বেশি দেশে আমরা ওষুধ রপ্তানি করছি। দেশে ওষুধ বাজারজাতেও আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখছি।

 

তাজ মো. আগা মেনন
সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিপণন)
অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড

আমরা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এখন শুধু ওষুধ তৈরিই করছি না, সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি। আমরা ‘বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস’ উপলক্ষে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প এবং পাবলিক এডুকেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করি। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজ ও কার্যকর করতে এখন ‘ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন’ এবং দিনে একবার সেবনযোগ্য ওষুধ বাজারে আনা হচ্ছে। এর ফলে ওষুধের সংখ্যা কমবে এবং রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবনের প্রবণতা বাড়বে। পাশাপাশি সারাদেশে মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিতে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক যোগাযোগের সংস্কৃতি থেকে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে। এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপসহ নানা অসংক্রামক রোগ বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিতে হবে। 

 

সুপারিশ

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বছরজুড়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক গণসচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ।

প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম।

সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ‘ড্যাশ ডায়েট’।

নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ শুরু ও বর্জন না করা।

মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনে স্ক্রিন টাইম কমানো।

সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রতি থানায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সেন্টার গড়ে তোলা। 

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন। বিশেষ করে ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, অতিরিক্ত তেলে ভাজাপোড়া খাবার পরিহার।  সব মিলিয়ে দিনে একজন ব্যক্তির ৫ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ না করা।

আরও পড়ুন

×