ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডিস্ক প্রলেপস হলে করণীয়

ডিস্ক প্রলেপস হলে করণীয়
×

 ডা. আমিনুল হক পাঠান

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকা বা ভার্টেব্রার মধ্যে যে ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে এক ধরনের ডিস্ক বা জেলির মতো বস্তু থাকে। এই সন্ধিস্থলটিকে ইন্টার ভার্টিব্রাল ডিস্ক বলা হয়। এই ডিস্ক যখন তার জায়গা থেকে সরে যায়, তখন তাকে ডিস্ক প্রলেপস বলে।
সাধারণ ডিস্ক প্রলেপস আমাদের ঘাড় বা সারভাইক্যাল স্পাইন ও কোমর বা লাম্বার স্পাইনে বেশি হয়ে থাকে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই এ রোগে অধিক হারে ভোগে।

ডিস্ক প্রলেপসের লক্ষণ
ব্যথা ঘাড় থেকে হাতের দিকে নামে, এমনকি হাতের আঙুলেও ব্যথা ছড়াতে পারে।
হাত ঝুলিয়ে রাখলে ও বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যথা বেশি অনভূত হবে। হাতে ঝিনঝিন বোধ বা অনুভূতিহীন হয়ে পড়তে পারে।
হাত দুর্বল হয়ে আসতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হাতের মাংসপেশি শুকিয়ে আসে।
কোমর বা লাম্বার স্পাইন আক্রান্ত হলে ব্যথা কোমর থেকে পায়ের দিকে ছড়ায়।
পা ঝিনঝিন বা অনুভূতিহীন মনে হয়।
খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা হাঁটলে আর হাঁটার ক্ষমতা থাকে না। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে আবার শক্তি ফিরে আসে। পায়ের শক্তি কমে যায় এবং কখনো পায়ের মাংসপেশি শুকিয়ে যায়।
অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাব ও পায়খানায় নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
ডিস্ক প্রলেপস যেভাবে নির্ণয় করা হয়
ডিস্ক প্রলেপস শনাক্তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করে থাকেন। ক্লিনিক্যালি পরীক্ষার পাশাপাশি আক্রান্ত স্পাইনের এক্স-রে এবং এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে কোন লেভেলে কতটুকু ডিস্ক প্রলেপস হয়েছে, তা নির্ণয় সম্ভব।

চিকিৎসা
ব্যথার ওষুধ এবং প্রয়োজনে মাসল রিলাক্সেন্টের পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিশ্রাম করতে হবে। রোগের অবস্থা অনুযায়ী দিনে দু-তিনবার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিলে ও থেরাপিউটিক ব্যায়াম করলে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। সুস্থতার পরও কিছু নিয়ম রোগীকে মেনে চলতে হবে। যেমন–
সামনের দিকে ঝুঁকে ভারী কাজ করা বা ভারী ওজন তোলা যাবে না।
ভ্রমণ ও হাঁটাচলার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য এবং তীব্র হাঁচি-কাশি থাকলে এর চিকিৎসা করাতে হবে।
ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশিত ব্যায়াম করতে হবে। এরপরও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তখন সার্জন সার্জারির সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। 
লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

আরও পড়ুন

×