ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গঠনে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বয়ের আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গঠনে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বয়ের আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর
×

‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়ন শীর্ষক পাইলট প্রকল্প প্রণয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২০:০৮

সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ (ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি) গঠনের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি ইতিবাচক রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়ন শীর্ষক পাইলট প্রকল্প প্রণয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. মুহিত বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ১ কোটি হতে পারে। নতুন সরকারের লক্ষ্য, এই জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়া। 

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দয়া বা চ্যারিটি-নির্ভর ব্যবস্থা নয়, অধিকারভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকার কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে। এসব কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তৃণমূল থেকে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করবেন। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা ও থেরাপি দিয়ে তাদের ‘শিশুস্বর্গ’ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এতে চিকিৎসা, শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের মধ্যে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 

আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর একটি নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ে নীতি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত পৃথক কমিটির সভাপতিও তিনি।

তিনি আরও বলেন, কমিটি গঠনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীবান্ধব উদ্যোগ যুক্ত করতে শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এরই মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের উদ্যোগ নিয়েছে। একইভাবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনাকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াকে একটি ‘কনভেয়ার বেল্ট’ বা রিলে রেসের সঙ্গে তুলনা করে ড. মুহিত বলেন, জন্মের পর একজন প্রতিবন্ধী শিশুর যে ধরনের চিকিৎসা ও থেরাপি প্রয়োজন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চাহিদাও পরিবর্তিত হয়। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান জীবনের প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমী এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×