দিল্লিতে মুসলমানদের আশ্রয় দিল হিন্দুরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:৩২ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:১৫
দিল্লির সহিংসতায় হিন্দু উগ্রবাদীরা পুড়িয়ে দিয়েছে মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ধ্বংস করেছে তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন । কিন্তু ধর্মকে পেছনে ফেলে প্রতিবেশীর প্রতি ভ্রার্তৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ওই এলাকার হিন্দুরা।
ঘটনাটি দিল্লির অশোকনগরে। মঙ্গলবার উগ্রবাদীরা ওই এলাকার মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট পুড়িয়ে দিলে হিন্দু প্রতিবেশীরা সাহায়্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বেলা ১টার দিকে হাজারখানেক সহিংস মানুষ অশোকনগরের মসজিদ কলোনিতে প্রবেশ করে। তখন মসজিদে অন্তত ২০ জন মুসল্লি নামাজ পড়ছিলেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা খুরশীদ আলম সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি মসজিদে ছিলাম। হঠাৎ করে একদল লোক মসজিদে প্রবেশ করে এবং শ্লোগান দিতে থাকে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে মসজিদ থেকে দৌড়ে বাইরে পালিয়ে যাই।’
এরপর ওই উশৃঙ্খল জনতা মসজিদ ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজেশ কাত্রী নামের এক ব্যক্তি জানান, স্থানীয়রা ওই সময় হামলাকারীদের কোনো সম্পদ নষ্ট না করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা অনুরোধে কান দেননি। তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা সবাই মুখে কালো কাপড় বেঁধে ছিল। তাদের সবার হাতে রড ছিল। এরপরই তারা এলাকার দোকানগুলোতে আগুন ধরাতে শুরু করেন। স্থানীয়রা তখন মৃত্যু ভয়ে কাঁপছিল।
মোহাম্মদ রশীদ নামের আরেক ব্যক্তি জানান, দোকানগুলো পোড়ানোর পর তারা ছয়টি বাড়িকে লক্ষ্য করে আগুন ধরিয়ে দেন। রশিদ বলেন, ‘এ এলাকায় মাত্র ছয়টি বাড়িতেই মুসলমানরা বাস করে। লোকগুলো তা জানত। কারণ তারা শুধু ওই বাড়িগুলোতেই আগুন দিয়েছে। বাকীগুলোতে কিছু করেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওরা আমাদের ঘরের সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। কিছুই রাখেনি। আমরা এখন ঘরহারা।’
রশিদ জানান, বাড়িঘর হারিয়ে তারা যখন রাস্তায় আশ্রয়ের কথা ভাবছিলেন তখনই হিন্দু প্রতিবেশীরা তাদের নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেন। রশিদ বলেন, ‘ আমরা এ এলাকায় ২৫ বছর ধরে বাস করছি। এত বছরে কোনোদিন কোনো হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিবাদ হয়নি। আমরা সবাই পরিবারের মতো একসঙ্গে থাকছি।’
ওই এলাকার বাসিন্দা পিন্টু বলেন, ‘হিন্দু হলেও কখনো কোনো মানুষের বা সম্পদের ক্ষতির কথা চিন্তা করিনি। উগ্রবাদীরা মুসলমানদের দোকান, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ দুঃসময়ে আমরা কখনোই তাদের একা ছেড়ে দেবো না‘’
অশোক নগর পাঁচ নম্বর গলির আরেক বাসিন্দা নিরাজ কুমার বলেন, ‘হামলাকারী কারা আমরা চিনতে পারিনি। এখানে আমরা বছরের পর বছর ধরে শান্তিতে বাস করছি। হামলার পর সবাই সবাইকে সাহায্য করছে।’
হামলায় সব ঘরবাড়ি হারানো দানিস বলেন, ‘ হামলার পর পর আমরা পুলিশকে খবর দিই। কিন্তু পুলিশ ঘটনার আধ ঘন্টা পর এসেছে। কিন্তু ততক্ষণে বেশিরভাগ বাড়ি আর দোকান পুড়ে গেছে।’ তিনি জানান, এরপর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া যায়। ওইদিন সেখানেই তারা রাত কাটান।
মুসলমানদের পাশাপাশি রাজ কুমার নামের এক ব্যক্তির দোকানেও আগুন দিয়েছে হামলাকারীরা। রাজ কুমার জানান, হামলাকারীরা কাউকে ছাড়েনি। তারা দোকান কয়েকদিন বন্ধ ছিল। বুধবার সকালে এসে দেখেন অন্যান্যদের সঙ্গে তার দোকানটিও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
- বিষয় :
- আন্তর্জাতিক
- দিল্লি সহিংসতা
