করোনা নিয়েও চীন-যুক্তরাষ্ট্রের রেষারেষি
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২০ | ০৫:২১
বাণিজ্য বিরোধে অনেক আগে থেকেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের জাত শত্রু। দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাক্যবাণে পরস্পরকে জর্জরিত করা, চরম উত্তেজনা কিংবা পিছু হটে ‘যুদ্ধবিরতি’র নরম সুর- এমন অনেক কিছুই দেখেছে গোটা বিশ্ব। তবে বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়েও ফের সেই রেষারেষি দেখা গেল চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে বেশি মৃত্যুর ঘোষণা আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেকার কথার লড়াই শুরু হয়েছে। খবর এএফপির
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য অনেক দেশপ্রধানরা যখন একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন ঠিক সেই মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বলে মন্তব্য করে একটি টুইট করেছেন। সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার টুইটে বলেন, ‘চাইনিজ ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত এয়ারলাইনসসহ অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির পাশে শক্তভাবে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।’
অনেকেই ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বর্ণবাদী আচরণ বলেছেন। এছাড়া চীনের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্যের আপত্তিও জানানো হয়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনরা এত দিন করোনা মহামারিকে ‘চাইনিজ করোনাভাইরাস’ বলে কটাক্ষ করে আসছিলেন। তবে ট্রাম্পের টুইটে প্রথমবারের মতো একে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে চীনা নেতারাও করোনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে কটু কথার তীর ছোড়ে।
গত সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান টুইট করে বলেন, ‘উহানে নয়, করোনাভাইরাস মহামারির সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখান থেকেই প্রথম রোগীটি চীনে এসেছিল। উহানে মহামারি আনতে পারে মার্কিন সেনাবাহিনী। স্বচ্ছ হও। তোমাদের তথ্য জনসমক্ষে প্রচার করো।’
এদিকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দোষ দিয়ে চীনারা আনুষ্ঠানিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি চটে গিয়ে শীর্ষ চীনা কর্মকর্তা ইয়াং জিয়েচিকে ফোন করে এসব বন্ধ করতে বলেছেন।
করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারস ডট ইনফো’র হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে ৭ হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ জন।
চীনে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৮১। এরমধ্যে তিন হাজার ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চীনের পর সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৮০। এর মধ্যে দুই হাজার ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৪১টি দেশে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
