ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব পরিস্থিতি

প্রকোপ কমছে সবচেয়ে সংক্রমিত দেশগুলোয়

প্রকোপ কমছে সবচেয়ে সংক্রমিত দেশগুলোয়
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:০৩ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:০৯

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিধ্বস্ত বিশ্ব সম্ভবত আশার আলো দেখতে শুরু করেছে। করোনার থাবায় লণ্ডভণ্ড দেশগুলোতে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। চীনের পরে করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন ইতালি ও স্পেনে কয়েকদিন ধরে মৃত্যু কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এসব দেশে পরিস্থিতি অনেকাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটাকে বলা হয় 'ফ্ল্যাটেনিং দ্য কার্ভ'। পরিস্থিতির অবনতি হয়নি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে। ইরানে সাত দিন ধরে মৃত্যু কমেছে। আরেক সংক্রমিত দেশ জার্মানি বলেছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সার্বিকভাবেও গত দু'দিনে বিশ্বে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমেছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সার্বক্ষণিক হিসাব রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটারের হিসাবে গতকাল শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৯২ হাজার ৫২০ জন। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৯ জনের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ হাজার ৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ছয় হাজার ৮৫৯ জনের। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৯৪ জনের। আক্রান্ত হন এক লাখ ৫১২ জন।

করোনায় এশিয়া মহাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৫৮ হাজারের ওপরে। মারা গেছেন ছয় হাজার ৮৩৭ জন। ইউরোপে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৯৮ হাজারের বেশি লোকের।

যুক্তরাষ্ট্রে গত ২ এপ্রিল থেকে প্রতিদিনই ৩০ হাজারের বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ১১ এপ্রিল থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। অবশ্য সংক্রমণ কমতে শুরু করলেও অন্যান্য দেশের মতোই সেখানেও মৃত্যু কমেনি। মৃত্যু হার কমতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। ১৫ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক মারা যাচ্ছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্গত এলাকা নিউইয়র্ক রাজ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যু কমছে। আইসিইউতে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমছে এ রাজ্যে। যুক্তরাজ্যের মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই এ রাজ্যে ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন সাত লাখ ১৬ হাজার ৪৩২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৯ জনের।

চীনের পর করোনায় সবচেয়ে বিপন্ন ইতালিতে মার্চের শেষার্ধে দৈনিক ছয় হাজারের মতো রোগী শনাক্ত হতো। গত ১০ দিনে প্রতিদিন শনাক্ত হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার মানুষ। একই সময় মৃত্যু আট শতাধিক থেকে কমে ছয়শ'র নিচে নেমেছে। ইতালিতে মৃত্যু ও শনাক্ত কমে আসায় কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল পর্যন্ত ইতালিতে মারা গেছেন ২৩ হাজার ২২৭ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার মানুষ। গতকাল মারা গেছেন ৪৮২ জন।

করোনায় লণ্ডভণ্ড স্পেনে মার্চের শেষ ১০ দিনের দৈনিক আট হাজারে বেশি লোক আক্রান্ত হলেও গত ১০ দিনে প্রতিদিন এই সংখ্যা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি চলে এসেছে। স্পেন সরকার বলেছে, দেশটিতে করোনার সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছেছে। দেশটিতে মৃত্যুহারও কমে আসছে। গতকাল পর্যন্ত স্পেনে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৯২ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার ৪৩ জনের। গতকাল মারা গেছেন ৫৬৫ জন। আগের দিন সেখানে মারা যান ৫৮৫ করোনা রোগী।

জার্মানিতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে। মাস্কও পরতে হবে জনগণকে। গতকাল পর্যন্ত জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৪২ হাজার ৬১৪ জন। মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৪০৫ জনের।

করোনায় অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ফ্রান্সে সংক্রমণ ও মৃত্যু না কমলেও পরিস্থিতির অবনতি হয়নি গত কয়েক দিনে। ফ্রান্স সরকার বলেছে, দেশটির হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি কমেছে। আইসিইউতে রোগী ভর্তিও টানা আট দিন ধরে কমেছে। ফ্রান্সে শুক্রবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮১ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৪৮ হাজার মানুষ।

যুক্তরাজ্যেও মৃত্যু ও সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। তবে গত তিন দিন ধরেই দেশটিতে প্রতিদিন আট শতাধিক লোকের মৃত্যু হচ্ছে। গতকাল মারা গেছেন ৮৮৮ জন। অবশ্য এর আগে কয়েক দিন ৯ শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। দেশটির পরিস্থিতির অন্তত অবনতি হয়নি গত কয়েক দিনে। গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ১৪ হাজার ২১৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬৪ জনের।

ইরানে গতকাল মারা গেছেন ৭৩ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু হলো পাঁচ হাজার ৩১ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৮১ হাজার। গত সাত দিন ধরেই দেশটিতে মৃত্যু কমছে। ইরানের রাজধানীসহ তেহরানে গতকাল থেকে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের কাজে ফিরতে বলা হয়েছে। অবশ্য বর্তমানে রাশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল, কানাডা, বেলজিয়াম, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।  সূত্র :বিবিসি, আলজাজিরা, এএফপি ও রয়টার্স

আরও পড়ুন

×