করোনায় জাপানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪২ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ০২:০৫
নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ায় জাপানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকেরা। গত শনিবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাপানের কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অন্য রোগীদের হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না।
করোনা আক্রান্তরাও হাসাপাতালে জায়গা পাচ্ছেন না। করোনার উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্তত ৮০টি হাসপাতালে গেছেন। একটিতেও তার জায়গা হয়নি। পরে অবশ্য একটি হাসপাতালে ঠাঁই পান তিনি।
ইউরোপ-আমেরিকায় করোনার সংক্রমণ যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে তখনও জাপান তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে দুই শতাধিক মানুষের। প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে রাজধানী টোকিও।
টোকিওতে জেনারেল প্র্যাকটিসে (জিপি) থাকা সার্জনরাও সম্ভাব্য করোনা আক্রান্তদের পরীক্ষায় হাসপাতালগুলোকে সহায়তা করছেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন এই চিকিৎসকেরা।
জিপি সার্জনদের একটি সমিতির উপ-প্রধান কোনোশিন তামুরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে সে জন্যই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। এখন সবারই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তা না হলে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
সম্প্রতি জাপান সরকার করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যদিও গত কয়েক সপ্তাহে এ তৎপরতা দেখা যায়নি। অনেক বিশষজ্ঞ মনে করেন, পরীক্ষার স্বল্পতার কারণেই জাপানে সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে ১৬ শতাংশ কম পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশান (পিসিআর) পরীক্ষা করেছে জাপান।
বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরীক্ষা করে দক্ষিণ কোরিয়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের করোনা মোকাবিলার এই কার্যক্রম তার দলকে ফের সংসদ নির্বাচনে জিততে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে জাপান সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাপকভিত্তিক সেই পরীক্ষার মডেলকে ‘সম্পদের অপচয়’বলে অভিহিত করে আসছিল।
তবে গত শুক্রবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ৮ এপ্রিল দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারির কয়েকদিন পরই এমন মন্তব্য করলেন আবে। সংক্রমণ ঠেকাতে ৬ মে পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে।
জাপানের দু’টি জরুরি চিকিৎসা সমিতি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খুব শিগগির জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা না গেলে প্রায় ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাকিটুকুও অবশিষ্ট থাকবে না।
