ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

বিয়ে করতে সাইকেলে ৮৫০ কিলোমিটার পাড়ি, অতপর...

বিয়ে করতে সাইকেলে ৮৫০ কিলোমিটার পাড়ি, অতপর...
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪৩ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪৩

বিয়ের তারিখ এসে গেছে, তবুও বাড়ি যেতে পারছে না। ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেল সোনুর। লকডাউন উপেক্ষা করে বাইসাইকেল নিয়েই বেরিয়ে পড়লেন রাস্তায়। সাতদিন দিনরাত সাইকেল চালিয়ে পেরিয়ে এসেছেন ৮৫০ কিলোমিটার রাস্তা। কিন্তু বিধিবাম, আটকা পড়লেন পুলিশের হাতে। আশ্রয় হলো কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। বাড়ি থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে ১৪ দিনের জন্য বন্দি হলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এই যুবক।

১৫ এপ্রিল বিয়ে ছিল উত্তরপ্রদেশের সোনু কুমার চৌহানের। কিন্তু দেশজুড়ে যে লকডাউন! এ অবস্থায় কীভাবেই বা বাড়ি যাবেন তিনি? লুধিয়ানার একটি টাইলস ফ্যাক্টরিতে তিন বন্ধুর সঙ্গেই কাজ করতেন সোনু। লকডাউনে সেখানেই রয়েছেন আটকা। তবে বিয়ে বলে কথা! বাড়ি তো যেতেই হবে। লুধিয়ানা থেকে নেপাল সীমান্তের কাছে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পিপরা রসুলপুরে বাড়ি সোনুর- যাত্রাপথও কম নয়। ফন্দি আঁটলেন সোনু! সাধের সাইকেলটি নিয়ে যেভাবেই হোক পৌঁছতে হবে। শুরু হল বাইসাইকেলে প্যাডেল ঠেলা।

এক সপ্তাহ ধরে দিনরাত লাগাতার সাইকেল চালিয়ে ২৪ বছরের সোনু এবং তার তিন বন্ধু শেষমেশ ৮৫০ কিমি পাড়ি দিয়ে  পৌঁছলেন বলরামপুর পর্যন্ত। বাড়ি পৌঁছতে হলে যেতে হবে আরও ১৫০ কিলোমিটার। কিন্তু গত রোববার বলরামপুর পৌঁছতেই সব বানচাল হয়ে যায় সোনু ও তিন বন্ধুর। সাতদিন প্রাণপণ সাইকেল চালানোর পর বলরামপুরে এসে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ে তিনবন্ধু। পুলিশ ধরে নিয়ে যায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।
এত চেষ্টার পরেও আর মাত্র ১৫০ কিলোমিটারের জন্য বাড়ি  পৌঁছতে পারেননি সোনু। খানিকটা বিষাদের সুরেই বললেন, ‘আমি কি বাড়ি যেতে পারতাম না? আর মাত্র ১৫০ কিমি বাকি ছিল। আর একটু গেলেই বিয়েটা অন্তত সেরে ফেলতে পারতাম। এত অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রশাসন আমাকে আটকে দিল।’

বিয়ের তারিখ তো চলে গেল- এমন প্রশ্নের জবাবে সোনু শেষপর্যন্ত নিজেকে যেন সান্তনা দিলেন। বললেন, ‘বিয়ে পরেও হতে পারে। কিন্তু শরীরটা আগে।’

সোনুর ব্যাপারে বলরামপুরের এসপি দেবরঞ্জন বর্মা বললেন, নিজ জেলায় ঢুকে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সোনু ও তার বন্ধুরা আটকা পড়েছে। তাদের আপাতত কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পরীক্ষায় যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাহলে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন

×