ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

যুক্তরাজ্যে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ
×

প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন বিজ্ঞানী এলিসা গ্রানাটো - বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ২৩:০৬ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ২৩:৪১

ইউরোপে প্রথম মানবদেহে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ডের দু’জন স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানীর শরীরে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য ৮০০ স্বেচ্ছাসেবীকে বাছাই করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

সংক্রমণজনিত রোগ নিয়ে গবেষণা আর টিকা তৈরির জন্য যুক্তরাজ্যের সরকার ও কয়েকটি দাতব্য সংস্থার অর্থায়নে ২০০৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলা জেনার ইনস্টিটিউট। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী ড. সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বেই তিন মাসের কম সময়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করা হলো। আর তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হলো বৃহস্পতিবার। 

ড. সারাহ গিলবার্ট বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার এই ভ্যাকসিনের প্রতি উচ্চতর আত্মবিশ্বাস রয়েছে। অবশ্যই আমাদের এটি পরীক্ষা করতে হবে এবং মানুষের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিন ব্যবহারের আগে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে, এই ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস আক্রান্ত বন্ধ করছে। 

ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানোর জন্য অক্সফোর্ডের জেনার ইনস্টিটিউটে  ৮০০ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এদের অর্ধেক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে এবং বাকি অর্ধেকের শরীরে পুশ করা হবে নিয়ন্ত্রণ ভ্যাকসিন যা করোনার ভ্যাকসিন নয়। কিন্তু তারা কেউ জানবেন না যে তারা কোন ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন।

প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণকারী নারী বিজ্ঞানী এলিসা গ্রানাটো বলেন, আমি একজন বিজ্ঞানী। তাই আমি যেখানেই পারি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি সমর্থন করতে চেয়েছিলাম। আর এ কারণেই আমার শরীরে ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করেছি। 

অক্সফোর্ডের এই গবেষক দল আশা করছে যে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে। আর কোনো ভুল হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত ১ বছর বা দেড় বছর। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ভ্যাকসিন তৈরি হওয়া অবধি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে লড়াই করতে হবে। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন তৈরিতে সারাবিশ্বে ৭০টির মতো গবেষক দল কাজ করছে। উল্লেখ্য, চীন থেকে সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। আর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৮ লাখ।

আরও পড়ুন

×