ভারতীয়দের গড় বয়স কম বলেই ‘মৃত্যু কম’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ০০:৪৪ | আপডেট: ০১ মে ২০২০ | ০১:০৪
পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ভারতে মৃত্যুর হার এখনও পর্যন্ত বেশ কম। অথচ ওই সব দেশের তুলনায় ভারতের লোকসংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ফলে এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকারের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক নীতি আয়োগ বলছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তুলনায় ভারতের মানুষের গড় বয়স কম হওয়াই রুখে দিচ্ছে মৃত্যুকে।
আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার ভারতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৯৩ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ১৪৭ জন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, লকডাউনের আগে যেখানে ৩ দশমিক ৪ দিনে ভারতে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছিল, এখন সেই সময়সীমা বেড়ে হয়েছে ১১ দিনি। অর্থাৎ লকডাউনের কারণে সংক্রমণ কমছে বলে দাবি মন্ত্রণালয়ের।
সংক্রমণের শুরু থেকেই ভারতে মৃত্যুহার কম রয়েছে বলে দাবি নরেন্দ্র মোদি সরকারের। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে নীতি আয়োগ জানিয়েছে, ভারতে যখন এক হাজার রোগী মারা যান, তখন আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার। সেখানে ইতালি ও বেলজিয়ামের ক্ষেত্রে ওই হার প্রায় দ্বিগুণ। ওই দুই দেশে ১৫ হাজার রোগী করোনায় আক্রান্ত হতেই মৃত্যুসংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছিল। ব্রিটেনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ১৭ হাজারের সামান্য বেশি।
নীতি আয়োগের প্রধান নির্বাহী অমিতাভ কান্তের মতে, ভারতে মৃত্যুর হার কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দেশটিতে মানুষের গড় বয়স কম। তারই সুফল পাচ্ছে ভারত। ভারতে জনসাধারণের গড় বয়স ২৭.৯ বছর। ইতালির মানুষের গড় বয়স ৪৫.৫, জার্মানির ৪৭.৪, ব্রিটেনের ৪০.১ ও বেলজিয়ামের ৪১.৮ বছর।
কান্তের মতে, দেশে ও বিদেশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে করা সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের আক্রান্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার বেশি। শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাই বয়স্কদেও বিশেষ সাবধানতার পরামর্শ দিয়ে এসেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিদের যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, কিডনি বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকে, তা হলে করোনা মারণ রূপ নেয়। সেই কারণে সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৫ বছরের নীচে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুহার ১৪ শতাংশ। একইভাবে যাদের বয়স ৪৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ষাটের উপওে যাদের বয়স তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ। একাধিক রোগে ভোগার পাশাপাশি বয়স্কদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া তাদের মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ।
তবে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চিন্তিত মোদি সরকার। এ জন্য পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে এমন এলাকায় প্রতিদিন এক লাখ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
- বিষয় :
- করোনাভাইরাস
- করোনা
- ভারত
- নীতি আয়োগ