ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

‘গত বছরের শেষ দিকেই দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়াতে শুরু করে করোনা’

‘গত বছরের শেষ দিকেই দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়াতে শুরু করে করোনা’
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০ | ০৩:১০ | আপডেট: ০৬ মে ২০২০ | ০৩:২৮

নভেল করোনাভাইরাসের এক নতুন জিনগত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে দেখা গেছে, গত বছরের শেষ দিক থেকেই মানুষের মধ্যে এ ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে। আর ভাইরাসটি ছড়ানোর গতি ছিল মারাত্মক রকমের দ্রুত।

সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের সাড়ে সাত হাজারের বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক।

গবেষকরা নতুন করোনাভাইরাসের দ্রুত রূপান্তর ও ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছেন। কিন্তু ভাইরাসটি আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে কিনা তার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিক্স ইনস্টিটিউটের গবেষক ফ্রাঙ্কোইস বলোক্স বলেন, ভাইরাসটি পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তার মানে এই নয় যে, সেটি আরও মারাত্মক হয়ে উঠছে।

বলোক্স ও তার সহকারী গবেষকরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন সময়ের করোনা আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ করেন। তারা দেখতে পান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই নতুন করোনাভাইরাসে মানুষ সংক্রমিত হতে শুরু করে।

এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ইনফেকশন, জেনেটিক্স অ্যান্ড ইভোল্যুশন নামের একটি জার্নালে। তাতে গবেষকরা লিখেছেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার অনেক আগে থেকেই নতুন করোনাভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়াতে শুরু করে। সে হিসেবে ভাইরাসটি বিপুল সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করে ফেলেছে ইতোমধ্যে’।

অনেক চিকিৎসকও মনে করেন, বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই নীরবে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটিয়ে যাচ্ছিল নতুন করোনাভাইরাস। যতো মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি।

এই খবরে অবশ্য একটা আশাও তৈরি হয়েছে গবেষকদের মধ্যে। চিকিৎসকরা বলছেন, যেহেতু বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেহেতু একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে হয়তো এরই মধ্যে ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতাও (অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়েছে।

বলোক্স বলেন, 'আমাদের গবেষণা বলছে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।'

গবেষণায় বলা হয়েছে, ইউরোপ-আমেরিকায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ গত জানুয়ারির আগেই ওই অঞ্চলে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। ফলে, প্রথম কোন ব্যক্তি ওই অঞ্চলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তা খুঁজে পাওয়া এখন অসম্ভব।

আরও পড়ুন

×