ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনাভাইরাস: যেভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠল ভারতের ‘আগ্রা মডেল’

করোনাভাইরাস: যেভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠল ভারতের ‘আগ্রা মডেল’
×

ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ০৬:২৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়ছে ভারত। অন্য দেশগুলোর মতো তারাও লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ সম্ভাব্য সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে রোগটির সহজ বিস্তার ঘটতে না পারে। তবু প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বারবার লকডাউনের পরিধি বাড়াতে হচ্ছে দেশটিকে। অবশ্য এরই মধ্যে রোগটির প্রতিরোধে তাদের চেষ্টাও চলছে।

কিছু কিছু ‘সাফল্য’ নিয়ে ভারতজুড়ে বেশ মাতামাতি। তবে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখছেন না। তাদের মতে, এটা একটা ‘অকালিক’ ও ‘অপরিপক্ব’ আনন্দ। এরকম প্রতিক্রিয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগ্রার কথাই ধরা যাক। উত্তরপ্রদেশের এই শহরেই প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সেটা মার্চের প্রথম সপ্তাহের কথা। এরপর থেকে সংক্রমণের খবর আসতে থাকে। কিন্তু তা কমিয়ে কমিয়ে। এক পর্যায়ে আক্রান্তের সংখ্যা নগণ্য পর্যায়ে এসে যায়। এটা থেকে ‘আগ্রা মডেল’ কথাটা সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকার যেমন প্রশংসিত হয়, তেমনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ক্রেডিটও বেড়ে যায়।

তবে পরিস্থিতি দ্রুতই পাল্টে গেল। এপ্রিল মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে শুরু করে। এতে ঢাকা পড়ে যায় প্রথম দিককার সাফল্যের কাহিনীগুলো। ‘আগ্রা মডেল’টির গোমর ফাঁক হয়ে যায় এবং তা কঠোরভাবে সমালোচিত হয়। কর্তৃপক্ষ হন্যে হয়ে করোনা টেস্ট শুরু করে। আগ্রায় এখন আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০-এরও বেশি। রাজ্যের অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় আগ্রাতেই আক্রান্ত বেশি।

এই প্রবণতার ক্ষতিকর দিকটার কথা বলেছেন প্রখ্যাত ভাইরাসবিজ্ঞানী ড. শহিদ জামিল। তিনি বলেন, এটা একটা ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। এধরনের কৌশল মানুষের নিজেদের দায়িত্বশীল হয়ে রোগ মোকাবিলায় সচেষ্ট করে না, বরং একধরনের মিথ্যে স্বস্তিতে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।

ড. জামিলসহ অন্য বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, করোনাভাইরাসের উদ্ভব এমন হঠাৎই ঘটেছে যে, রোগটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার অবকাশও মেলেনি। এটি এখনও আমাদর কাছে প্রায় পুরোপুরিই অজানা। সুতরাং এই রোগ নিয়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া এবং সেভাবে কাজ করতে শুরু করাটা ঠিক হবে না। একজন রোগীর আক্রান্ত হওয়া এবং সেরে যাওয়া দেখে এটা স্থির করা ঠিক হবে না যে, তার বিপদ কেটে গেছে।

আরও পড়ুন

×