ইতালির রপ্তানিখাত সক্রিয় করতে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ
ছবি: আল জাজিরা
ইউসুফ আলী, ইতালি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ০৯:৩৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনায় বিধ্বস্ত ইতালির ‘লকডাউন’ শিথিলের দ্বিতীয় ধাপে দেশটির বিনিয়োগ এবং রপ্তানির দিকগুলো সক্রিয় করার দিকে মনোনিবেশ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিগগিরই ৫৫ বিলিয়ন ইউরো (৫৫ হাজার কোটি টাকা নতুন বরাদ্দ ঘোষণা করা হচ্ছে। বিপুল অংকের এ অর্থ ইতালির বিভিন্ন পরিবার, ব্যবসায় এবং শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।
অপরদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় ইতালিতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দিতে দেশটির কৃষিমন্ত্রী তেরেসা বেল্লানোভা পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইজি ডি মাইও তার নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়ে আরও জানান, আমরা ইতোমধ্যে ইতালির পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি যা দেশটি পুনরায় চালু করতে সহায়তা করবে। দেশের নাগরিক, ব্যবসায় এবং ইতালীয়ান ব্রান্ড এই ব্যবস্থাগেুলোর কেন্দ্রে থাকবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইটালিয়ানরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে সে সম্পর্কে আমি ভালভাবে অবগত এবং আমরা এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও থামব না। তিনি বলেন, প্রচার ও সংঘর্ষের সুরগুলি এড়ানো দায়বদ্ধতার নৈতিকতাবোধ দিয়ে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করুন। নাগরিকরা আমাদের এটিই জিজ্ঞাসা করে এবং সরকার এবং সংসদ, সংখ্যাগরিষ্ঠ ও বিরোধী দলকে অবশ্যই এটি করতে হবে।
বিশেষ করে আরও ছয়টি খাতে সরকার বিপুল অংকের সহায়তা দিবে বলে জানিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইনপস এর বোনাস বৃদ্ধি, ছাটাইকৃত কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান, জরুরি আয় হিসেবে সহায়তা, একটি তহবিল দেয়া যেসব কোম্পানি তাদের তহবিল হারিয়েছে, স্বল্প অংকের বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং বানিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ভাড়া প্রদানে ছাড় দেওয়া।
এদিকে, দীর্ঘ ৮ বছর পর ইতালিতে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করছে বিরোধী দল। দেশটিতে করোনার কারণে তীব্র শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়া জরুরি উল্লেখ কেরে দেশটির কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, এটি দেওয়া না হলে তিনি পদত্যাগও করতে পারেন। এ ছাড়া ইতালির কৃষিমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- এ তিনটি মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে। কৃষিমন্ত্রী চলতি মে মাসের মধ্যেই বৈধতা দেওয়ার ঘোষণা চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।