৪০ বছর পর ফের নিজের ভাষায় কথা বলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০ | ০৬:৩৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
রে ম্যাকডারমটের বয়স এখন ৯৬। এই বয়সেও দিব্যি বেঁচে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভরভরন্ত সংসার। শুধু একটাই কষ্ট তার মনে। সেটা হলো নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারার কষ্ট। নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারার কারণ, তার স্বামী-সন্তান কেউই তার সমভাষী নন। স্বামী-সন্তানের ভাষা ইংরেজি আর তার ভাষা হলো ওয়েলস।
৭০ বছর আগে ওয়েলস থেকে এক মার্কিন সৈনিককে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান রে। সেখানে প্রথম প্রথম নিজের ভাষায় কথা বলার সুযোগ থাকলেও এক সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যান সমভাষীদের কাছ থেকে। এরপর চল্লিশ বছর আগে নিজের মায়ের মৃত্যুর পর থেকে আর মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ পাননি দুই সন্তানের মা রে। তার ভয় হচ্ছিল, বাকি জীবনে হয়তো মাতৃভাষায় কথা বলার সঙ্গে পাবেন না। তবে এবার করোনাজনিত লকডাউন তাকে সুযোগ এনে দিল নিজের ভাষায় কথা বলার। খবর বিবিসির
লকডাউনে অতিষ্ঠ সময় কাটাতে কাটাতে সন্তানদের একজনকে বললেন, ‘আমি বোধ হয় জীবনেও আর ওয়েলসের ভাষায় কথা বলার লোক পাব না।’
রে’র ৭০ বছর বয়সী মেয়ে কেইথ নিউইয়র্ক সিটিতে থাকেন। মাকে সাহায্য করার জন্য মরিয়া চেষ্টা শুরু করলেন এরপর। তিনি বলেন, ভয়াবহ মহামারি মানুষকে একদম বিচ্ছিন্ন করে দিল আর আমার মায়ের নিঃসঙ্গতা চরমে উঠল।
কেইথ বলেন, মায়ের স্মৃতিশক্তি কমে এসেছে। অনেক কিছুই ভুলে গেছেন। কিন্তু ওয়েলসের প্রসঙ্গে কথা উঠলেই তার স্মৃতি খোলতাই হয়ে যায়। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বলে যান অবিরল। কিন্তু সে সময় নিজের মাতৃভাষা ওয়েলসে কথা বলার তৃষ্ণাও যে কতটা অনুভব করেন, তা বুঝতে পারতাম।
এরপর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ওযেলস ভাষা বলতে পারেন, এমন লোকের খোঁজ করতে থাকেন। তারপর একসময় হদিস পান দু’একজনের। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেন তাদের। রে আবার ওয়েলসের ভাষা কথা বলা শুরু করেন।
তিনি বিবিসি ওয়েলসকে বলেছিলেন: ‘আমার মা হলেন শেষ ব্যক্তি যিনি আমার সাথে ওয়েলশ ভাষায় কথা বলেছেন এবং তিনি ৪০ বছর বয়সে মারা গেছেন। এরপর থেকে আর কাউকে কথা বলার জন্য পাইনি। ভাবিনি কখনো আর পাবও।