ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মনু নদীর তীররক্ষা বাঁধ হুমকিতে, বন্যার আতঙ্ক

মনু নদীর তীররক্ষা বাঁধ  হুমকিতে, বন্যার আতঙ্ক
×

বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি আটকানো চেষ্টা করেন। রাজনগর উপজেলার উজিরপুর গ্রাম সমকাল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও দুদিনের মুষলধারে বৃষ্টিপাতে মৌলভীবাজার জেলার নদনদী, হাওর ও বিলে পানি বাড়ছে। এতে রাজনগর উপজেলার মনু নদীর তিন-চারটি স্থানে বাঁধ ভাঙনের ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, গত দুদিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের ঢলের প্রভাবে মনু নদীর দুটি পয়েন্টে এবং ধলাই নদীর একটি পয়েন্ট পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জুড়ী, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। রাজনগর উপজেলার উজিরপুর, একামধু ও কান্দিরকুল, ভাঙ্গারহাট গ্রামে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল এবং বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। গত বুধবার সকালে স্থানীয়রা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি আটকানো এবং বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। 

একই উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মেলাগড়ে (টুপিরমহল) প্রায় ১০০ মিটারজুড়ে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে লোকালয়ে স্বল্পমাত্রায় পানি ঢুকছে। ভুক্তভোগী জনসাধারণ স্বেচ্ছাশ্রমে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতায় বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন মোকাবিলা ও পানি আটকানোর চেষ্টা করেন। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের লোকজনও পরে ভাঙন মোকাবিলায় সাময়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা। 
উজিরপুর গ্রামের জমির উদ্দিন জানান, ২০২১ সাল থেকে মনু নদীর উন্নয়নে প্রায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে পরিচালিত হলে প্রতিবছর বন্যা ও বাঁধ ভাঙনের দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো না। 
টেংরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে, তাতে উজিরপুর এলাকায় বাঁধের ভাঙন ঠেকানো কঠিন হবে। বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে তীব্র স্রোতে উজিরপুর, একামধু গ্রামের বেশ কিছু ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হবে। দুই-তিনটি ইউনিয়নের ফসলি জমি ও বীজতলারও ক্ষতি হবে।
অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ও মনুমুখ ইউনিয়নের হামরকোনা, দাউদপুর, ব্রাহ্মণগ্রাম, নতুনবস্তী, বাহাদুর গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে বলে জানা গেছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আনিছুর রহমান জানান, গত দুদিনে মৌলভীবাজারে ১৮৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুই-তিন দিন এভাবে বৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা ভূমির ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা নির্মাণকাজ করতে দিচ্ছেন না। মেলাগড় এলাকায় টিন দিয়ে নির্মিত একটি ঘর না সরানোয় ৩০-৪০ মিটার জায়গায় ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। সেখানে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন ওয়ালীদ জানান, অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে দেরি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা জায়গা ছাড়ছেন না। ফলে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে পুরোনো জরাজীর্ণ বাঁধ ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাজ চলে। 
তিনি আরও জানান, ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মনু নদীর তীর সংরক্ষণ, ব্লক বসানো, গাইডওয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×