ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

৭৩৯ কোটি টাকার ড্রেন খাল কাজে আসছে না

৭৩৯ কোটি টাকার ড্রেন খাল কাজে আসছে না
×

খুলনা নগরীতে গত বুধবার রাতে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫৮ মিলিলিটার। এতে পানি জমে যায় মুজগুন্নী এলাকার সড়কে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের সমকাল

হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমত খুলনা নগরীর মুজগুন্নী মহাসড়কে। আবাসিক এলাকার বেশির ভাগ বাড়ির নিচতলা পানিতে তলিয়ে যেত। বিদ্যালয় যেতে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতেন পুলিশ লাইন্স স্কুল ও নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় ৩৩ কোটি ব্যয়ে মহাসড়কের দুই পাশে ১১ কিলোমিটার বক্স ড্রেন নির্মাণ করা হয়।

ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের জন্য গোয়ালখালী থেকে বাস্তুহারা খাল কংক্রিট দিয়ে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে আরও সাড়ে আট কোটি টাকা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত বুধবার রাতের মাঝারি বৃষ্টিতে পুরো সড়ক ও আবাসিক এলাকা আবারও ডুবে গেছে। আগের মতোই ময়লা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
শুধু এই এলাকাই নয়; জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত আট বছরে ময়ূর নদসহ সাতটি খাল খনন এবং ১৬৯টি ড্রেন পুনর্নির্মাণ করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। গত ৩০ জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৩৯ কোটি টাকা। এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও নগরীর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এখনও ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর নিম্নাঞ্চল। প্রধান সড়কে তৈরি হচ্ছে জলজট। 

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি বিগত মেয়রের সময় হয়নি। জোয়ারের সময় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য রূপসায় উচ্চক্ষমতার পাম্প স্টেশন বসানোর কথা ছিল। এ পর্যন্ত পাঁচ দফা পুনঃদরপত্র আহ্বান করেও সেই কাজ শুরু করা যায়নি। বাস্তুহারা খালের একাংশ পুরো ভরাট হয়ে আছে। সেটা কাটাই হয়নি। এসব কাজ শেষ না করলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি হয়েছে গত বুধবার। সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হয়েছে ৫৮ মিলিমিটার। মুজগুন্নী এলাকায় সকাল ১০টা পর্যন্ত সেই পানি নিষ্কাশন হয়নি। 

বৃষ্টি হলেই নিম্নাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়া খুলনা নগরীর অনেক পুরোনো সমস্যা। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছেন নগরবাসী। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প নেয় কেসিসি। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন হয় ‘খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’। এর মোট ব্যয় ছিল ৮২৩ কোটি টাকা। মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। 
প্রকল্পের আওতায় ময়ূর ও ক্ষুদে নদসহ সাতটি খাল খনন করা হয়েছে। দুটি ড্রেনের কাজ বৃষ্টির কারণে বন্ধ রয়েছে। বাকি ১৬৭টি ড্রেনের কাজ পুরোপুরি শেষ। গত ৩০ জুনের প্রতিবেদনে প্রকল্পের অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ৮৯ শতাংশ। খরচ দেখানো হয়েছে ৯০ শতাংশ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় মুজগুন্নী, গোবরচাকা, লবণচরা, চানমারী, টুটপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেশির ভাগ সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে। মুজগুন্নী আবাসিকের অবস্থা ছিল সবচেয়ে শোচনীয়। বি ব্লকের বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ড্রেনগুলোতে ঠিকমতো পানি অপসারণ হয় না। একটু মাঝারি বৃষ্টি হলেই সড়ক ডুবে যায়। বাড়ির নিচতলায় পানি উঠে যায়। পানির কারণে অধিকাংশ বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া চলে যাচ্ছে। 
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, বাস্তুহারা খালের কিছু অংশ ভরাট হয়ে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সেটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। রূপসায় প্রায় তিন ঘণ্টা পাম্প চালিয়ে বৃষ্টির পানি নদীতে ফেলা হয়েছে। অন্যান্য যে কোনো দিনের তুলনায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়েছে। 
জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। পাম্প স্টেশনের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। পাম্প বসানো হয়ে গেলে জলজট অনেকটা কমে যাবে। 

আরও পড়ুন

×