ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

জর্জ ফ্লয়েড খুনের প্রতিবাদে এবার ট্রাম্পকন্যা টিফানি

জর্জ ফ্লয়েড খুনের প্রতিবাদে এবার ট্রাম্পকন্যা টিফানি
×

মা মার্লা ম্যাপলসের সাথে মেয়ে টিফানি ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২০ | ২০:৫৯ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২০ | ২১:০৯

পুরো যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদ বিক্ষোভ তীব্রতর হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং কারফিউ জারি করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। বিক্ষোভকারীদের  ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবাদী জনগণ কারফিউ উপেক্ষা করেও রাস্তায় নেমে আসছে। রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে রিপাবলিকান দলের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার। 

এরই মধ্যে আন্দোলনে শরিক হয়েছেন ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরাও। ট্রাম্পের দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলস ও তার মেয়ে জর্জটাউন ল'স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র টিফানি ট্রাম্প আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। টিফানি ট্রাম্প টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে একটি কালো স্ক্রিনের ছবি শেয়ার করে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন #ব্ল্যাকআউটটুইসডে এবং #জাস্টিসফরজর্জফ্লয়েড। একই সঙ্গে ফরাসি কিংবদন্তি হেলেন কেলারের উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘একা একা আমরা সামান্যই অর্জন করি, কিন্তু এক সঙ্গে করতে পারি অনেক কিছুই।’ খবর এনডিটিভির

বর্ণবাদবিরোধী চলমান আন্দোলনে এই হ্যাশট্যাগগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে  এই পোস্ট করেন ২৬ বছর বয়সী টিফানি।

বর্ণবিদ্বেষ এবং পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে সমবেত উদ্যোগে ব্ল্যাকআউট টুইসডে ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সারা বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে ঝড় উঠেছিল।

গত ২৫ মে চেক জালিয়াতির অভিযোগে, মিনিয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ  ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে নৃশংস অত্যাচার চালায় পুলিশ। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে বার বার আরজি জানালেও, হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা চেপে বসে থাকেন ডেরেক শওভিন। জর্জের পিঠের উপর চাপ দিয়ে বসে থাকেন আরও দুই পুলিশকর্মী। তার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জর্জ ফ্লয়েডের। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই ঘটনার ভিডিও। তারপর থেকেই বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্র। কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অগণিত মানুষ। অনেকের মতেই, ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিংয়ের মৃত্যুর পর এই ধরনের বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে এমন বড় প্রতিবাদ দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। করোনাভাইরাসের তোয়াক্কা না করেই, লকডাউন ভেঙে রাস্তায় নেমেছেন বহু মানুষ। কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি জুলুম নিয়ে বরাবরই বিতর্ক ছিল। তবে ফ্লয়েডের মৃত্যুর জেরে সেই বিতর্কই আরও তীব্র হয়েছে।

ফ্লয়েডের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেও এই বিক্ষোভ মেনে নিতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার কথায়, ‘সমাজবিরোধীর দল ভাঙচুর চালাবে, সেটা আমরা হতে দেব না।  ওদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিপক্ষ জো বাইডেন হিংসার নিন্দা করে বলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ প্রয়োজনীয় ও ন্যায্য।’ 

আরও পড়ুন

×