পাকিস্তানে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও চিকিৎসা অপর্যাপ্ত
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২০ | ২৩:১৯ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
পাকিস্তানে ক্রমেই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা। দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন দুই হাজার ছুঁই ছুঁই। আক্রান্ত হু-হু করে বাড়লেও চিকিৎসা দেওয়ার মতো নেই পর্যাপ্ত বেড, ভেন্টিলেশন। এ নিয়ে দেশটির চিকিৎসকরা উদ্বেগ জানিয়ে এলেও তাতে গা করছে না সরকার। এতে বেরিয়ে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারা। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। খবর বিবিসি ও ডন নিউজের।
পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (এনসিওসি) শুক্রবার জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৬ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ হাজার ২৪৮ জন। বৃহস্পতিবার একদিনে মারা গেছেন ৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ঘটেছে ১হাজার ৮৩৮ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩১ হাজার ১৯৮ জন।
দেশটির পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আসাদ উমর স্বীকার করেছেন, কয়েকদিন ধরে আক্রান্তের হার বেড়ে গেছে। তবে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার পরীক্ষা চালাতে পারলে সংক্রমণ কমানো যেত। তিনি জানান, এখন প্রতিদিন মোটামুটি ২৫ হাজার পরীক্ষা চালানোর সক্ষমতা পাকিস্তানের রয়েছে। দিনে দিনে এটি বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারি ড. জাফর মির্জা স্বীকার করেছেন, ক্রমেই বাড়ছে সংক্রমণের প্রকোপ। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে৷
এদিকে সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও সরকার লকডাউন শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছেন, অর্থনীতি বাঁচানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে লকডাউন শিথিলের পর থেকেই ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। অথচ আক্রান্তের হারের তুলনায় মিলছে না চিকিৎসা সেবা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা কম।
পাকিস্তান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক ড. সাদ নাজ বলেন, মানুষ আক্রান্ত হলেও হাসপাতালে আসছে না। যখন আসছে, একেবারে শেষ সময়ে। অনেকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মারা যাচ্ছে। চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
তিনি আরও বলেন, তাছাড়া হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত বেড নেই। ভেন্টিলেশন নেই। অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ অনেকটাই বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।
এদিকে করাচির এক রোগী বলছেন, কেউ সামান্য জ্বরে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসকরা পরীক্ষা ছাড়াই বলে দিচ্ছেন করোনায় আক্রান্ত। এতে অনেক মানুষ হাসপাতালমুখিও হতে চায় না।