লন্ডনে উগ্র-ডানপন্থি, প্যারিসে বর্ণবাদবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
শনিবার প্যারিসে বর্ণবাদবিরোধী এক বিক্ষোভকারীকে আটক করছে পুলিশ। ছবি : বিবিসি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২০ | ২৩:২৩ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ | ০০:১৯
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে উগ্র-ডানপন্থি শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, শতাধিক মানুষকে এ সময় আটক করা হয়েছে। একই দিনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নিপীড়নে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে। গত কয়েকদিন ধরেই লন্ডনে পুলিশি নিপীড়ন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন শহরে ঔপনিবেশিক আমলের দাস ব্যবসায়ী ও বর্ণবাদী নেতাদের ভাস্কর্য ভেঙেছেন বিক্ষোভকারীরা।
ভাস্কর্য ভাঙার বিরোধিতা করে শনিবার রাতে বিক্ষোভ করেন উগ্র-ডানপন্থি শ্বেতাঙ্গরা। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা করেন। যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের শহরের রাস্তায় বর্ণবাদী ঠগিদের কোনো জায়গা নেই।’ এদিন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণ বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভও হয়েছে।
শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উগ্র-ডানপন্থিরা লন্ডনে জড়ো হতে থাকেন। বর্ণবাদবিরোধীদের হাত থেকে ভাস্কর্য ‘বাঁচানোই’ তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান অনেকে। তাদের অনেকে হোয়াইটহলের সিনোটাপ ওয়ার মেমোরিয়ালে অবস্থান নেন। অনেকে অবস্থান নেন পার্লামেন্ট স্কয়ারে উইনস্টন চার্চিলের ভাস্কর্যের পাশে। যে ভাস্কর্যটি এখন বাক্সবন্দী এবং বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সে বাক্সের ওপর লিখে দিয়েছেন, ‘চার্চিল বর্ণবাদী ছিলেন’।
এ ছাড়াও লন্ডনের আরও কয়েকটি স্থানে উগ্র-ডানপন্থিদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। বিরোধী দল লেবার পার্টিও পুলিশের ওপর উগ্র-ডানপন্থিদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।
২০১৭ সালে ওয়েস্টমিনিস্টারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা পিসি কেইথ পালমারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত সৌধের কাছে এক উগ্র-ডানপন্থি শ্বেতাঙ্গকে মূত্র ত্যাগ করতে দেখা গেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
তবে শনিবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদবিরোধীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন। যদিও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার (কালোদের জীবনও মূল্যবান) আন্দোলনের নেতারা উগ্র-ডানপন্থিদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবুও লিভারপুল, লন্ডন, চেমসফোর্ডসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেয় বহু মানুষ।
লন্ডনের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বর্ণবাদবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়েছে। জাবাবে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ছুঁড়েছে পুলিশ। ফ্লয়েড হত্যার বিচার চেয়ে এবং বর্ণবাদ ও পুলিশি নিপীড়নের বিরুদ্ধে লিও, মার্শেইসহ ফ্রান্সের আরও কিছু শহরে শনিবার বিক্ষোভ হয়েছে।