অন্য দেশের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন দূতদের কথা বলতে মানা
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫ | ০১:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন বিদেশি রাষ্ট্রগুলোতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বা স্বচ্ছতা নিয়ে মন্তব্য না করেন। গত বৃহস্পতিবার রয়টার্সের হাতে আসা এক অভ্যন্তরীণ নোট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই পদক্ষেপ বিদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উৎসাহিত করার ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যগত অবস্থানের বড় পরিবর্তন।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সব কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্তায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো নির্বাচনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক ‘সুস্পষ্ট ও জোরালো’ স্বার্থ না থাকলে ওয়াশিংটন নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো বিবৃতি বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইস্যু করবে না।
ওই আদেশে আরও বলা হয়, বিদেশের কোনো নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার উপযুক্ত সময় এলে আমাদের বার্তাটি হবে সংক্ষিপ্ত এবং বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অভিন্ন পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক স্বার্থের বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে।
এতে বলা হয়, বার্তায় কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বা স্বচ্ছতা, এর বৈধতা বা সংশ্লিষ্ট দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে মতামত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন-সংক্রান্ত বার্তাগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্রের কাছ থেকে আসবে। ঊর্ধ্বতনদের অনুমোদন ছাড়া মার্কিন কূটনীতিকদের এ ধরনের বিবৃতি জারি থেকে বিরত থাকতে হবে।
এ নির্দেশনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৩ মে রিয়াদে দেওয়া ভাষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় কীভাবে পরিচালনা করতে হবে তা বলে বেড়ানো ‘পশ্চিমা হস্তক্ষেপকারী’দের সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি আর ওয়াশিংটনের কাজ নয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
নির্দেশনাটিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অটল থাকবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য দেশ একই পথ বেছে নিলে তাকে স্বাগত জানাবে। তবে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশের সঙ্গেই অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে, যাদের সঙ্গে কৌশলগত স্বার্থের মিল রয়েছে।
এ বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র ইমেইলে দেওয়া মন্তব্যে নির্দেশনার কিছু বিষয় পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি প্রশাসনের ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বে’র ওপর জোর দেওয়ার নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোকে তার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে দাবি করে এসেছে। তবে মিত্রদের ক্ষেত্রে তারা এসবের বিচ্যুতি দেখেও না দেখার ভান করে বলে সমালোচনা আছে।
তবে ট্রাম্পের শাসনামলে এসে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নীতি থেকে ক্রমশ সরে আসছে। এ নীতিকে ট্রাম্প প্রশাসন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এ কারণে তারা স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার ব্যুরোকেও নতুন চেহারা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ইমেইল ও এসএমএস পাঠানো হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
- বিষয় :
- মার্কিন নির্বাচন
