বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি
ভারতের বাইরে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কম
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩:১০
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এশিয়ার বিভিন্ন অংশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে, ভাইরাসটি ভারতের বাইরে ছড়ানোর ঝুঁকি কম। এ কারণে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে বিধিনিষেধের প্রয়োজন আপাতত নেই। সম্প্রতি দেশটির দুই নাগরিকের শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ার কয়েকদিন পর বৈশ্বিক এ সংস্থাটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানালো।
শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লি নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা জানানোর পর হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভিয়েতনামসহ এশিয়ার অনেক দেশই তড়িঘড়ি করে তাদের বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কড়াকড়ি আনার কথা জানায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ওই দুই রোগী থেকে আর কারও দেশে সংক্রমণ ঘটেনি। এ ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ভারতের আছে।
পাশাপাশি ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলও এক বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যে নিপাহ ভাইরাসের ঘটনা পাওয়া গেছে, ইউরোপীয়দের জন্য তার ঝুঁকি কম।
আগামী মাসে ভারতে টি২০ ক্রিকেটের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার আগ মুহূর্তে এ ভাইরাসের খবর নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দেয়।
নিপাহ ভাইরাস শূকর ও বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এটি দূষিত খাবারের মাধ্যমে ও সরাসরি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহকে তাদের শীর্ষ ১০টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ, এটি মহামারি আকার ধারণের শঙ্কা থাকে।
শরীরে এ ভাইরাস প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার সময়কাল চার থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি ভাব ও গলা ব্যথা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলোর পর তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব, চেতনার পরিবর্তন (বিভ্রান্তি) এবং নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস দেখা দিতে পারে, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টিকারী একটি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী অবস্থা। এখন পর্যন্ত এ রোগের চিকিৎসায় কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন অনুমোদিত হয়নি।
ভারত, বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কেরালাকে নিপাহ ভাইরাসের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভাইরাসটি পরিবর্তিত হতে হতে সহজে ছড়াতে পারে। গত ডিসেম্বরের শেষদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই স্বাস্থ্যকর্মীর দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি মেলে। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
- বিষয় :
- ভারত
- পশ্চিমবঙ্গ
- নিপাহ ভাইরাস
