ইরান আক্রমণে ট্রাম্পকে সৌদি যুবরাজের প্ররোচনা
ছবি: এনডিটিভি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ২২:১৩
গত মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ব্যক্তিগত ফোনে কথা বলেছেন। জনসমক্ষে কূটনীতির কথা বললেও তিনি ট্রাম্পকে ইরানের ওপর হামলার জন্য চাপ দেন বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
জানুয়ারি মাসে যুবরাজ বলেছিলেন, ইরানের ওপর হামলার জন্য তিনি নিজের দেশের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবেন না। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।
পারমাণবিক আলোচনা স্থবির হওয়া এবং ইরান ফের পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করেছে– এমন দাবির মুখে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়। ট্রাম্প জানান, ‘এই তীব্র ও নিখুঁত বোমা হামলা সপ্তাহজুড়ে বা প্রয়োজন অনুযায়ী চলবে।’
হামলার পর ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রিয়াদে পাল্টা হামলা চালায়। এটা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, ‘সৌদি আরব ইরানের এই নগ্ন ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই হামলার কোনো অজুহাত বা যৌক্তিকতা নেই। ইরান সরকার জানত, সৌদি আরব তাদের ওপর হামলার জন্য নিজের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।’
আরব নিউজের তথ্যমতে, ইরানে হামলার পর যুবরাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল-খলিফা, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ এবং জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্টকারী ইরানি হামলার মোকাবিলার জন্য সৌদি আরব প্রস্তুত।’
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সংবাদ সংস্থা ইরনা রোববার ভোরে এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ মৃত্যু ইরানিদের জন্য দেশ ফেরত পাওয়ার সুযোগ।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড রোববার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যে আট মাসের ব্যবধানে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে হামলা চালাল। কয়েক দশক ক্ষমতায় থাকা খামেনির মৃত্যুতে ইরানে নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ তাঁর কোনো উত্তরসূরি নির্ধারিত ছিল না। সব নীতি নির্ধারণে তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল চূড়ান্ত।
- বিষয় :
- ইরান
- সৌদি যুবরাজ
- ট্রাম্প
- হামলা
