ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কলকাতায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষ, বিবৃতি নেই

কলকাতায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষ, বিবৃতি নেই
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:১৯ | আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শেষ হলো বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক। গতকাল শুক্রবার কলকাতার নিউটাউনের ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়; চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বৈঠক শেষ হলেও সাংবাদিকদের সামনে এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ফলে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানির সুষ্ঠু বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। তার আগে এটি ছিল যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গার পানিপ্রবাহের যৌথ পর্যবেক্ষণ করে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। বেনিয়া গ্রামের ঘাটপাড়া মেলা-গ্রাউন্ডসংলগ্ন অফিস থেকে গঙ্গার মূল স্রোত, ফরাক্কা ব্যারাজ, ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর জলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ফিডার ক্যানালেও জলপ্রবাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। এ পর্যবেক্ষণে কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধিরা একে ‘রুটিন অবজারভেশন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদির, মীর সাজ্জাদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ প্রমুখ। ভারতের পক্ষ থেকে নদী কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন, কিংবা নতুন কাঠামো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানে কিছুটা মতপার্থক্য আছে। ভারত বলছে, ফরাক্কা পয়েন্টে বাস্তব জলপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করেই নতুন চুক্তির কাঠামো নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ বলছে, শুধু ফরাক্কা নয়; উজান থেকে গঙ্গার মোট প্রবাহের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে পানি ভাগাভাগির নতুন কাঠামো করতে হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত হয়।
বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গা নদীর পানিচুক্তি অনুযায়ী নদীটির ফরাক্কা পয়েন্টে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম প্রবাহ থাকলে দুই দেশ তা সমানভাবে ভাগ করে নেবে; অর্থাৎ, বাংলাদেশ পাবে ৩৫ হাজার কিউসেক পর্যন্ত। আর ৭৫ 
হাজার কিউসেক বা তার বেশি প্রবাহ থাকলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পাবে, অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

×