ইরানের সঙ্গে চুক্তি ট্রাম্পের জন্য ‘উভয় সংকট’ কেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১৩:২০
কংগ্রেস বা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ইরানে যুদ্ধ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অপরিকল্পিত যুদ্ধ শেষ করার ফলে এমন কিছু সংকট দেখা দেবে, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগাতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতি ঘিরে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও গভীর করবে। এই অবস্থায় একটি কথা উঠছে, ইরানের সঙ্গে চুক্তির ফলে ট্রাম্পের সামনে একটি ‘উভয় সংকট’ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার পরিণতি যেমন গুরুতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করবে, তেমনি সম্ভাব্য চুক্তিটিও একই রকম সমস্যাজনক ও অজনপ্রিয় হতে পারে। সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্প যতবারই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চুক্তির কথা বলেছেন, ততবারই ইরানের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর দাবিগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফলে রিপাবলিকান কিংবা ডেমোক্র্যাট উভয়পক্ষই মনে করছে, তিনি একটি খারাপ চুক্তিতে নতিস্বীকার করতে যাচ্ছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ শিথিল করার একটি সমঝোতা হতে পারে। যা পরে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথ খুলে দেবে। যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করার কৌশল নিতে পারে।
বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিকে স্বাগত জানতে পুরো বিশ্ব প্রস্তুত। কারণ চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এবং জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাবে। ওয়াশিংটনের রাজনীতি তিক্ত হওয়ার একটা বড় উপাদান ইরান যুদ্ধ। ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে অবমূল্যায়ন করায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে গেছেন বলেও ধরা হচ্ছে। জনমত জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। তাই ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার নির্দেশ দেন, এটা তাঁকে আরও বিপাকে ফেলবে। পাশাপাশি ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্ভোগের কারণ হতে পারে।
যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পথ নেই
তাছাড়া চুক্তির শর্তাবলি ট্রাম্পকে বিজয় এনে দেবে– এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। চুক্তির ফলে ওয়াশিংটন ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করতে পারে। হরমুজ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিতে পারে। এসব কার্যক্রম ইরানের সুবিধাকেই সামনে আনবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দর কষাকষির মূল হাতিয়ারগুলো হাতছাড়া হয়ে যাবে। সমঝোতা স্মারকে ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার রয়েছে, যা ওয়াশিংটনে তীব্র আপত্তি সৃষ্টি হতে পারে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত অমীমাংসিত বিষয়গুলোও সামনে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ইতিহাস দেখায় যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ অমীমাংসিত কূটনীতির মধ্যে টেনে আনতে পারলে খুশিই হবে। তাছাড়া ইরানের নতুন নেতারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির সঙ্গে লড়াইয়ে তেহরাইন জিতেছে।
চাপের মধ্যে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
আগে ট্রাম্প ইরানের কাছে শর্তহীন আত্মসমর্পণ দাবি করেছিলেন। নতুন চুক্তিতে সেই অবস্থান থেকে দূরে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কারণ গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ অভ্যন্তরীণ নানা সংকট দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ ছাড়া ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকায় কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান যুদ্ধের সমাধান পেতে তিনি চরম চাপের মধ্যে আছেন। কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে নতিস্বীকার না করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইরান
