দেশ ভেদে দুর্বল এল নিনোও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে: ডব্লিউএমও
প্রখর রোদের মাঝে ডিজিটাল বোর্ডে দেখানো হয় তাপমাত্রা। সম্প্রতি ফ্রান্সের লিঁও শহরে। ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৭:২৮
যখন এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন পশ্চিম আফ্রিকা, সাহেল (সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের অঞ্চল), দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খরা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ঠিক বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং বিশেষ করে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় কিছু অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে এই প্রাকৃতিক ঘটনার কারণে একেক অঞ্চলে একেক রকম প্রভাব দেখা যাবে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) জলবায়ু পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইলফ্রান মুফুমা ওকিয়া। ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জাতিসংঘের এই সংস্থার মতে, প্রাকৃতিক এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে আরও চরম আবহাওয়া এবং অতিবৃষ্টির আশঙ্কা আছে। তবে এই মুহূর্তে এর তীব্রতা কেমন হবে তা অনুমান করা কঠিন।

মুফুমা ওকিয়া বলেন, এল নিনো এককভাবে কাজ করে না, বরং এটি অন্যান্য আবহাওয়াগত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। এই পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এল নিনোর তীব্রতাকে বাড়াতে বা কমাতে পারে। আগামীতে সামগ্রিকভাবে একটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ডব্লিউএমওর জলবায়ু পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান বলেন, প্রতিটি এল নিনো পরিস্থিতিই সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন একটি দুর্বল এল নিনো কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু এই ধারণা ভুল। দেশ এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে একটি দুর্বল এল নিনোও শক্তিশালী কোনো এল নিনোর মতো ক্ষতিকর হতে পারে।
অনাহারে মৃত্যুর শঙ্কা
একদিকে যখন ‘এল নিনো’ ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে গুয়াতেমালায় আদিবাসীদের গ্রামে খরা ততই তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনাহারে মৃত্যুর ভয় জেঁকে বসেছে।

গুয়াতেমালার শেতসাক অঞ্চলে এখনো বৃষ্টির দেখা মেলেনি। ফলে স্থানীয় কৃষকেরা আতঙ্কে আছেন যে, পানির অভাবে তাদের জীবনধারণের একমাত্র অবলম্বন ফসলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এখানকার গ্রাম কুনেঁ’র ৩৮ বছর বয়সী বাসিন্দা সিসিলিয়া পাসা সারাত বলেন, নিজের জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন। যদি বৃষ্টি না হয়, তবে ফসল আসবে না।
সিসিলিয়া পাসা বলেন, ‘ঘরে যদি খাবার না থাকে, তবে আমরা অনাহারে মারা যাব।’ কুনেঁ মূলত একটি দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম। এখানকার প্রায় ৪৭ হাজার বাসিন্দার বেশিরভাগই দরিদ্র এবং তারা কুয়ার পানির ওপর নির্ভরশীল। তবে খরার কারণে এই কুয়াগুলো এখন শুকিয়ে যাচ্ছে।
ইউরোপে দাবানলের প্রস্তুতি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন দাবানলের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে তারা এবার রেকর্ড সংখ্যক দমকলকর্মী ও উড়োজাহাজ মোতায়েন করবে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থাকে সহায়তা করতে ১৪টি দেশের ৭৭৭ জন দমকলকর্মী প্রস্তুত থাকবেন। এর পাশাপাশি ইইউ-এর নিজস্ব বিমান বহর থেকে ২২টি দমকল উড়োজাহাজ ও ৫টি হেলিকপ্টারও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।
ইইউ-এর সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাবিব বলেন, দাবানলের মৌসুম এখন অনেক আগেই শুরু হচ্ছে। গত গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে ১০ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকা আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছিল।
