ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত কিয়েভ, নিহত অন্তত ২৫

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত কিয়েভ, নিহত অন্তত ২৫
×

ছবি: রয়টার্স

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০২:২১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৫ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ হামলায় শহরের প্রায় ১৩০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরে কিয়েভে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে চালানো এ হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালান উদ্ধারকর্মীরা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি নয়তলা আবাসিক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার পর শুক্রবারকে কিয়েভে শোক দিবস ঘোষণা করেছেন মেয়র ভিটালি ক্লিচকো।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলো প্রতিশ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সরবরাহ করলে আরও অনেক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত।

রাতের ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টি অন্যতম প্রধান আলোচ্য হবে। তিনি ইউরোপকে নিজস্ব সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারেনি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে ইউক্রেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক, জ্বালানি ও বিমানবন্দর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ইউক্রেনও পাল্টা দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় একজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলার জবাবে রাশিয়ার সামরিক-শিল্প খাতকে সহায়তাকারী আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব আনা হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কিয়েভে রাশিয়ার এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে।

পঞ্চম বছরে গড়ানো যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। তবে সর্বশেষ এই হামলা চলতি বছরে কিয়েভে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 

আরও পড়ুন

×