ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

অপরিচিত এক নারীর বার্তায় খোয়ালেন ২৭ কোটি টাকা

অপরিচিত এক নারীর বার্তায় খোয়ালেন ২৭ কোটি টাকা
×

অশোক বিজয়বর্গীয়। ছবি: সংগৃহীত

এনডিটিভি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৩৩

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ৭০ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক বিজয়বর্গীয় একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাওয়ার পর কথিত ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগে প্রায় ২১ কোটি ৬ লাখ রুপি হারিয়েছেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পুলিশ বলছে, এটি দেশটির অন্যতম বড় অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণার ঘটনা।

ভুক্তভোগী অশোক বিজয়বর্গীয় গোয়ালিয়রের একজন প্রবীণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ও রাজ্যের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান রিটার্নিং অফিসার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তার মোবাইলে ‘দিব্যা’ পরিচয় দিয়ে এক নারী বিনিয়োগ উপদেষ্টার বার্তা আসে। প্রথমে ভারতীয় নম্বর থেকে যোগাযোগ শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভার্চুয়াল নম্বর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়।

প্রতারকরা তাকে একটি ভুয়া অনলাইন ট্রেডিং পোর্টালে যুক্ত করে ইউএসডিটি ও বিটকয়েনে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল মুনাফার লোভ দেখায়। বৃদ্ধের বিশ্বাস অর্জনের জন্য শুরুতে ছোট অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে ১ লাখ ৮৮ হাজার রুপি সরাসরি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়। এই টোপেই তিনি পোর্টালটিকে আসল বলে বিশ্বাস করে বসেন। এরপরই তিনি সেখানে কোটি কোটি টাকা ঢালতে শুরু করেন। শুধু তিনি একাই নন, তার আর্থিক সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে তার প্রায় ৩৫ জন ব্যবসায়ী অংশীদার ও পরিচিতজনও এই ফাঁদে অর্থ বিনিয়োগ করেন।

ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে তার হিসাবে একসময় ৩৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি মুনাফা দেখানো হয়। কিন্তু টাকা তুলতে গেলে প্রতারকেরা প্রথমে ১০ কোটি ৮৪ লাখ রুপি আয়কর, পরে আরও ১ কোটি রুপি 'রিস্ক মার্জিন' দেওয়ার দাবি জানায়। তখনই তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

গোয়ালিয়র স্টেট সাইবার সেলের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীর অর্থ চার স্তরের জটিল ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২০ হাজারের বেশি লেনদেনে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ৭৭টি ব্যাংক হিসাবে টাকা যায়। এরপর তা ৪৯৩টি, পরে প্রায় ১২ হাজার ৭০০টি এবং শেষ ধাপে আরও প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয়। এ পর্যন্ত পুলিশ প্রায় ২ কোটি রুপি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাকি অর্থ ইতিমধ্যে তুলে নেওয়া, অন্য হিসাবে সরিয়ে ফেলা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ, কেরালা, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়সহ বিভিন্ন রাজ্যের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে প্রতারণায় ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, আইপি ঠিকানা ও ভুয়া ট্রেডিং ওয়েবসাইটের তথ্যও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×