ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘দশকের শেষ নাগাদ মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে এআই’

‘দশকের শেষ নাগাদ মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে এআই’
×

ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের লোগোর একটি ইলাস্ট্রেশন। ছবি: সংগৃহীত

সিএনবিসি নিউজ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:০৮ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গবেষক জ্যাকব কক্সন সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের চাকরি ছেড়েছেন। এরপর তিনি অভিযোগ করেছেন, অ্যানথ্রোপিক ও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি ওপেনএআই দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কাজ করছে। খুব শিগগিরই অতিমানবীয় ব্যবস্থা আসবে। দশকের শেষ নাগাদ এই প্রযুক্তি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে কক্সন এমন অভিযোগ করেছেন। তিনি একসময় ওপেনএআই-তেও কাজ করেছেন। প্রযুক্তিটির দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে কক্সনের ওই বক্তব্য বেশ উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পোস্টটি ১৬ কোটির বেশিবার দেখা হয়েছে। 

গত বুধবার দেওয়া পোস্টে কক্সন লিখেছেন, অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। এই প্রযুক্তিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। খুব শিগগিরই এমন অতিমানবীয় ব্যবস্থা আসবে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে পারবে। রাতারাতি যেকোনো ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে। এআই নির্মাতারা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করেন, দশকের শেষ নাগাদ এই প্রযুক্তি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

পোস্টটি সিলিকন ভ্যালিতে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্ককেও সামনে এনেছে। সেটি হলো- এআইকে নিরাপদভাবে তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করা আদৌ সম্ভব কি না। কারণ, অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই প্রায়ই উন্নত মডেল প্রকাশ করছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক গবেষক সমন্বিতভাবে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

অ্যানথ্রোপিকের অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের প্রধান গবেষকদের একজন ইভান হুবিঙ্গার। তিনিও এক্সে পোস্ট দিয়ে কক্সনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। লিখেছেন, ‘জ্যাকব (কক্সন) এখানে ঠিকই বলেছেন। আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি, এআই সব মানুষকে হত্যা করতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আগামী এক দশকের মধ্যে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।’

এক্সে দেওয়া জ্যাকব কক্সনের পোস্ট। স্ক্রিনশট

ইভান হুবিঙ্গার আরও বলেন, ‘অ্যানথ্রোপিক সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তার অ্যালাইনমেন্ট সমস্যার সমাধানে আমাদের এখনো কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা যে সমাধানের পথে এগোচ্ছি, এমনও নয়।’

এআই খাতে ‘অ্যালাইনমেন্ট’ বলতে একটি বিশেষ কাজকে বোঝায়। মানুষের মূল্যবোধ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআই ব্যবস্থা কাজ করছে কি না, সেটি অ্যালাইনমেন্টের মাধ্যমে নিশ্চিতের চেষ্টা করেন ডেভেলপাররা।

জ্যাকব কক্সনের পোস্টটি শিল্প খাতের গবেষকদের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে। তারা ‘রিকর্শিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর অর্থ, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই একটি এআই ব্যবস্থা নিজের পরবর্তী সংস্করণ তৈরি ও উন্নয়নের সক্ষমতা অর্জন করবে। অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআইসহ বিভিন্ন কোম্পানি সতর্ক করে বলেছে, এমন ব্যবস্থা তৈরি হলে সেগুলোর ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।

এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা নতুন নয়। ২০২৩ সালে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ খাতটির শীর্ষ গবেষক ও কর্মকর্তারা একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকি মোকাবিলা বৈশ্বিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

গত জুলাই মাসে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন এআই গবেষক ‘পেসিং দ্য ফ্রন্টিয়ার’ নামে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। এতে মার্কিন সরকারের প্রতি এআই উন্নয়নের সীমানা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানো হয়। এরপর কংগ্রেসের কিছু সদস্য এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে প্রযুক্তিটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য নেই।

আরও পড়ুন

×