ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজে ইরান, বাব আল-মান্দেবে হুতি

যুদ্ধের জের দুই প্রণালিতে, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বে

যুদ্ধের জের দুই প্রণালিতে, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বে
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:২৯

একদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ও হামলা, অন্যদিকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বাব আল-মান্দেব হুতি গোষ্ঠীর দখলে থাকাকে ঘিরে বিশ্বে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কী হবে– তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও আরেকটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হুতিদের উত্থান। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনুমিত সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে গোটা বিষয়টি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর বলছে, ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের কারণে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী গত শনিবার এই তথ্য জানান।

হুতি যোদ্ধারা বর্তমানে উত্তর ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের এই নিয়ন্ত্রণাধীন অংশের মধ্যে রয়েছে রাজধানী সানা ও পশ্চিমের হোদেইদা। উপকূলীয় এলাকাও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দখলে নিয়েছে তারা। গত বৃহস্পতিবার বন্দর শহর মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গোষ্ঠীটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, হুতিরা যদি বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দেয়, তাহলে আরেকটি অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেবে এবং বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহের আরও ৭ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরও ১২ শতাংশ চাপের মুখে পড়বে।

এএফপির খবরে আরও বলা হচ্ছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া গত শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরালো হয়েছে হুতিদের। বাব আল-মান্দেব প্রণালির অবস্থান অ্যাডেন উপসাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের মুখে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নারী ও শিশুরা ওবুক উপকূলে গিয়ে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুসারে, অন্তত ৭৬ হাজার ব্যক্তি গত জুলাইয়ের পর ইয়েমেনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সর্বশেষ হামলার পর এই সংখ্যা চার গুণ হয়েছে।

গত সপ্তাহে হুতি যোদ্ধারা সৌদি আরবসমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করে। তারা সেই সময় বাব আল-মান্দেব প্রণালি-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখার পরিপ্রেক্ষিতে বাব আল-মান্দেব নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য ওই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।

বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং অনেক কমে এসেছে। মূলত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া ও ইরান যুদ্ধের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার রাস্তাও খুঁজছে।   

এ রকম একটি সময়ে হুতি গোষ্ঠীর বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া ও বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। তবে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াইয়েও যোগ দিতে পারছে না। কারণ, মার্কিন সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যস্ত। ওই অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে তারা।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের দমনে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চেয়েছে। তিন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে বিষয়টি।

ইরান পরিস্থিতি
এদিকে, ওমানে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আজ সোমবার বসার কথা রয়েছে ইরানের। সেখানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ও আঞ্চলিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

কেশম দ্বীপের কাছে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা মার্কিন সন্ত্রাসী শত্রুদের দায়ী করছেন।

আরও পড়ুন

×