ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
সংঘর্ষের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার ফ্রান্সের লিয়ঁ শহরে। ছবি: এএফপি
রয়টার্স ও এএফপি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৪২ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৫৮
ফ্রান্সের স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নেই। ভবনগুলোও জরাজীর্ণ। এই সমস্যা সমাধানের দাবিতে মঙ্গলবার দেশজুড়ে হাইস্কুল অবরোধ পালন করা হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বে রাজপথেও বিক্ষোভ চলছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত কিছু ছবিতে রোন অঞ্চলের শহর লিয়ঁ-তে বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ এবং রেনের ইল-এ-ভিলেনে পুলিশের জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে প্যারিসের বাইরের অঞ্চলগুলোতে অন্তত ৮৬ হাজার বিক্ষোভকারীর জমায়েত হয়।

বড় পরিসরে এই বিক্ষোভের আগে প্যারিসের শহরতলিগুলোতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলে। ধীরে ধীরে তা অন্য এলাকাতে ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের দমনে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেছে সরকার। তাদের দাবি, এই আন্দোলন এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুর দপ্তর জানিয়েছে, এসব সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছে।
সোমবার উত্তর ফ্রান্সে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর বিক্ষোভ রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই, স্ট্রাসবার্গ, ট্যুরস ও লিলের মতো শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
দেশটির হাইস্কুলগুলোতে আবাসন, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনের জন্য শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগকে দায়ী করা হচ্ছে। বিক্ষোভ শুরুর পর এসব সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে- অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিকল্প নিশ্চিত করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ পাঠদানের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং দুপুরের খাবারের জন্য আরও বেশি সময় বরাদ্দ দেওয়া। সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, পুরোনো স্কুল ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকার ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে। এমন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে ঋণের বোঝা, ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচনে সরকারের অনীহার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বর্তমান সরকারের আর্থিক চাপের মধ্যেই মঙ্গলবার ব্যয় কমানোর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন কট্টর ডানপন্থি নেতা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মেরিন লো পেন। এর আওতায় প্রতি বছর ২ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো (২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার) সরকারি ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- শিক্ষার্থী
- বিক্ষোভ
- ফ্রান্স
- আন্দোলন