ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পুরস্কার

‘মিরর ইমেজ’ ধাঁধার জট খুলে রসায়নে নোবেল

‘মিরর ইমেজ’ ধাঁধার জট খুলে রসায়নে নোবেল
×
×

জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি কাগান এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। গতকাল বুধবার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় -নোবেল কমিটি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি কাগান এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। রাসায়নিক অণুর ‘মিরর ইমেজ’ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই আবিষ্কার ওষুধশিল্পের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল জুরি বোর্ড জানিয়েছে, ‘অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার ইফেক্ট ও অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের’ স্বীকৃতি হিসেবে দুই গবেষককে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ওষুধ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যেসব রসায়নবিদ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম।

রসায়নে নোবেল কমিটির প্রধান হাইনার লিঙ্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটির উদ্ভব হয়, তা শত বছর ধরে রহস্য হয়ে ছিল। হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই সেই রাসায়নিক রহস্যের সমাধান করেছেন। তাদের উদ্ভাবিত রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো অভাবনীয়।

হেনরি কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদ-এর সঙ্গে যুক্ত। কেনসো সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সে কাজ করছেন। 
আবিষ্কারটির অর্থ কী?

দুই বিজ্ঞানীর আবিষ্কারটির বিষয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে নোবেল কর্তৃপক্ষ। রসায়নবিদদের প্রায়ই জীবের মৌলিক অণুগুলো নিয়ে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। ধরুন, আপনি একজন তালা-চাবি প্রস্তুতকারক। গ্রাহকের ফরমায়েশ অনুযায়ী চাবি বানান। সমস্যা হলো, একটি চাবির নকশা তৈরি ও সেটি কাঠামোতে রূপ দেওয়ার সময় একই রকম আরেকটি প্রতিবিম্ব বা রূপ তৈরি হয়। এটি হলো মিরর ইমেজ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব।

দুই চাবির মধ্যে কেবল আসলটিই তালার ভেতর ঠিকভাবে বসবে। তবে একই রকম নকশা হওয়ায় কোনটি আসল চাবি, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। রসায়নবিদরা যখন নতুন ওষুধ তৈরি করেন, তখন তাদের ঠিক একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

অনেক ওষুধের অণুর দুটি ভিন্ন রূপ থাকে। সেগুলো চাবি তৈরির মতোই মিরর ইমেজ সমস্যা তৈরি করে। ওষুধের দুই অণুর যেটি আসল বা মৌলিক, সেটিই শুধু মানুষের রোগ সারায়। অন্যটি শরীরের ভেতর কোনো কাজে লাগে না এবং অনেক সময় ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
এ দুই অণুর বিষয়টি জীবের মৌলিক রসায়নের সঙ্গে যুক্ত। রসায়নবিদদের ভাষায় জীবন হলো ‘হোমোকাইরাল’। গ্রিক এই পরিভাষাটির অর্থ ‘একই রকম’ বা ‘হাত’। মানুষের দুই হাতের মতো সব অ্যামিনো এসিডেরও দুটি রূপ আছে। কীভাবে ‘হোমোকাইরালিটি’ উদ্ভব হয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন রসায়নবিদরা। নোবেলজয়ী দুই বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও হেনরি কাগান সেই জটিল ধাঁধার সমাধান বের করেছেন।

হেনরি কাগান রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন উপায় আবিষ্কার করেন। এর মাধ্যমে কোনো অণুর দুই ধরনের রূপের মধ্যে একটি অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব। যে রসায়নবিদরা ওষুধ, সুগন্ধি, স্বাদবর্ধক (ফ্লেভার) ও নতুন উপকরণ উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য কাগানের আবিষ্কারটি এক যুগান্তকারী ঘটনা।
অন্যদিকে, কেনসো সোয়াই প্রথমবারের মতো ভিন্ন ধরনের একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা তৈরি করেছেন। সেখানে সম্ভাব্য দুটি রূপের মধ্যে শুধু একটি রূপ তৈরি করা যায়। এই বিক্রিয়াটি পরে ‘সোয়াই রিঅ্যাকশন’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে এটি রসায়নের সবচেয়ে চমকপ্রদ পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন

×