ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

বিজয়ীদের সামনে প্রতিশ্রুতির চ্যালেঞ্জ

বিজয়ীদের সামনে প্রতিশ্রুতির চ্যালেঞ্জ
×
×

ছবি: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৪:৪৩

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পেয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে তারা।
আলজাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং তাঁর কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।

জীবনযাত্রার ব্যয়
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও অর্থনীতিবিদ ডিন বেকার বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হতে পারে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া।

বেকারের মতে, কংগ্রেসের তদন্ত ও তদারকির ক্ষমতা ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। এতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। প্রগতিশীল অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভের নীতি ও প্রচারবিষয়ক প্রধান অ্যালেক্স জ্যাকেজের মতে, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন কমিটিকে কাজে লাগিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে দাম বাড়ানো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারেন।

ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনা
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ তাঁর মেয়াদের শুরু থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। গত দুই বছরে তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যও ক্রিপ্টোকারেন্সি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে। এসব খাত সরকারের নীতিগত সুবিধাও পেয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করবেন ডেমোক্র্যাটরা।

অভিশংসনের উদ্যোগ
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। এরই মধ্যে কয়েকটি অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব এনেছেন আইনপ্রণেতারা। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।

তবে প্রতিনিধি পরিষদে কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেও বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে সিনেটে বিচারের মাধ্যমে। সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন পড়বে। 

ইরানে যুদ্ধ থামবে?
নতুন কংগ্রেসের ১২০তম অধিবেশন শুরু হতে এখনও দুই মাসের কম সময় বাকি। পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মনে করেন, এই সময়টিই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করার জন্য ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি বলেন, ‘অপমান ও পরাজয়ের মুখে ট্রাম্প আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন– এমন একটি প্রবণতা তাঁর মধ্যে দেখা গেছে।’

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব আনতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। এ ছাড়া ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টের অনুযায়ী, অনুমোদনহীন কোনো সংঘাত ৬০ দিন অতিক্রম করলে তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারেন আইনপ্রণেতারা।

তবে ডেমোক্র্যাটদের আনা প্রস্তাবে ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন। ফলে এসব উদ্যোগ সফল হবে– এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো সরকারি ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ।

অভিবাসন নীতি
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) তাদের কর্মকাণ্ডে ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছে’।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় আইসিই এবং এই অভিযানে যুক্ত অন্যান্য সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। জাতীয় অভিবাসন আইন কেন্দ্রের নীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হেইডি অল্টম্যান বলেন, গত দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস চাইলে সেই অর্থের একটি বড় অংশ ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নিতে পারে।

অল্টম্যান বলেন, বিপুল পরিমাণ এই অর্থের কারণে আইসিই প্রায় কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারছে। তাঁর মতে, ‘অভিবাসন অভিযান ধীর করা এবং প্রকৃত অর্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া চালু করার একমাত্র উপায় হলো তাদের বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া।’

আরও পড়ুন

×