ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পদাবলি

পদাবলি
×

অলংকরণ :: দেওয়ান আতিকুর রহমান

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

মহিরুহ
মাসুদ খান 
 
ভয়ংকর যুদ্ধ। সমগ্র এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে সবাই– 
যত ভূচর খেচর জলচর, ভূতপ্রেত, জিন ও ইনসান,
এমনকি কীট-কীটাণু, পোকা-পতঙ্গ, অণুজীব-জীবাণুরাও। 
পালিয়েছে বসতবাড়ি, আসবাব, যন্ত্র, যানবাহন, কতশত দ্রব্যসামগ্রী। 
পালিয়েছে দিঘি, কূপ ও নদীর পানি
একেবারে ধূলি ও ধোঁয়া হয়ে পালিয়ে গেছে জড় ও অজড় বহুকিছু। 
 
দীর্ঘ যুদ্ধের এক পর্যায়ে, কী এক ভৌতিক কারণে 
যুদ্ধ ফেলে পালিয়েছে সব যোদ্ধা, দু-পক্ষেরই। 

পালায়নি কেবল বৃক্ষেরা। 
ঝাঁঝরা দেহে দাঁড়িয়ে আছে ভাবলেশহীন 
রণাঙ্গন জুড়ে এখানে ওখানে
নির্বাক, অটল মহিরুহ।  

 

পাখি মানে শুধুই বাবুই 
জাকির জাফরান
 
তুমি অতি কাছে
তবু আজ ভালোবাসা থেকে দূরে দূরে বয় নদী
তুমি এত কাছে
তবু কেন গানগুলো স্পর্শহারা থাকে নিরবধি।

আমি আনমনে
পথে পথে খুঁজে যদি বাবুই পাখিটি সেই পাই
সীমার ভিতরে
আমি তবে সীমাহীন ছোট ছোট দুঃখ রেখে যাই।

সমাদৃত তুমি 
সুরে সুরে গানে গানে রাগিনীর অনন্ত আগুনে 
একাকী বাউল
না বলা কথার নিচে ঢাকা পড়ে আছে এ ফাল্গুনে।

কিছু দূরে দেখো
কাঁদছে করবী গাছ আর যেন বিচলিত সব জুঁই
মোহমায়া শোনো
জল মানে তুমি, আর পাখি মানে শুধুই বাবুই।

 

আধিভৌতিক স্বর 
মামুন মুস্তাফা
 
শিথানের পাশে ভাঙা চাঁদ জেগে ওঠে
স্বপ্নঘোর...অশরীরী– পৃথিবীর দানা! 

যদি ভেসে যাই, পূর্ণ বাক্যে সত্য হবো,
অতএব গোপনে ঈশ্বরকে ডেকেছি–

পরি নামবে আজ হাওয়ার ভেতরে
তুমিও কি নূপুর হবে অমৃতলোকে?

খুব ঘন হচ্ছে বাতাসে আমার দম।
 

 

পলকা
পিয়াস মজিদ 
 
তোমাকে কতটা লিখলাম কবিতায়। কতটা লুকোলাম। ঢাকার গল্প ঢুকে যায় মুম্বাইয়ে। মুম্বাইয়েরটা সাও পাওলোতে। ভোর আমাকে ঘুমোতে দেয় না। অথচ জাগরণত্যক্ত মানুষের ঘুম দরকার। নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। এত আলোর পুকুর। আষাঢ়ি গরমে ঘামছে কুকুর। কত কথা বলে থাকেন পায়েল কাপাডিয়া। কত কথা বাকি রাখলেন পায়েল কাপাডিয়া। সবাই ছুটছে কোনও একটা কিছুর পেছনে। সিনেমা। বইয়ের দোকান। মিডিয়া। নজরুল। জীবনানন্দ। যে কোনও চাঞ্চল্যকর খবর। কিন্তু সামনে কিছু নেই। ধু ধু। খাঁ খাঁ। নিজের পুরোনো শ্বাসপ্রশ্বাস। মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প। কোনও তীর্থগামী বাসে চড়ে আসলে একটা অগস্ত্যে যেতে চাচ্ছিলাম। পথেপথে ফুলের পাথর। যাওয়া দুস্তর। ভেতরের এত এত আগুন নিয়ে তো সবাই সমুদ্রে নামে তবু জ্বলে না, পোড়ে না সাগর। যার যার আগুন নিয়ে যে যে ফিরে যায় নিজেদের জীবনের জলে।

 

দূরত্বপ্রবণ ছাতিমগাছ
নুসরাত নুসিন
 
ধীরে খোলসে ঢুকে যাচ্ছি।
আস্তে আস্তে ভাষাহীন।
সুদীর্ঘ বিষাদ। মৃতরঙ নীল।

মাটিয়াল পথ বেয়ে এঁকেবেঁকে 
ধেয়ে আসে বিষাদপারের স্বর
উচাটন ক্রমাগত এই পারে।

কেন এই মিথ্যে মায়ামাঠ?
কাছে দূরত্বপ্রবণ ছাতিমগাছ
আজ বাতাস খুব
সকাল বিষণ্ন উড়াল।

চিঠি পৌঁছায় না
নিস্তব্ধতাকে পুরতে পারিনি 
কখনো কোনো আগুনের খামে।
প্রিয় খেজুরগাছ,
বালকের চোখ এঁকেবেঁকে চলে গেছে দূরে
মোহনডাঙায়।

যেখানে যাবার কথা যাব না
জলে নীল মিশিয়ে অপারগ
চেয়ে থাকে যে মাছ 
সে আজ একা একা
জলের তরঙ্গ বলুক।
 

আরও পড়ুন

×