কবিতা
অলংকরণ :: আনিসুজ্জামান সোহেল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৭:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিদ্যাপতির সাধ
শিহাব সরকার
সাপের মোহন বিন-এ বাজে না আর নাগিন
তন্দ্রাঘোরে শাহানা ডুবে গেছে, মাঝগাঙে অচিন:
গোক্ষুর জাতসাপ ছিল আহ্লাদে আটখানা
পড়ে থাকে মাঠে-ঘাটে সাপের খোলস।
খুনোখুনি শুরু হয় বেদেপল্লিতে, সাপেরা দিশাহারা
এই বর্ষায় ঝাঁপির ভিতরে সাপ অস্থির
নৌকা ডুবে গেছে, বেদেরা বোঝে সাপের ক্ষুধা
যত জল সব মরা গাঙে, কচি কচি সাপ এদিকে মা-হারা।
সাপ নিয়ে কত যাত্রাপালা বেদেনির ঠমকে
দূরদেশ থেকে গ্রামে আসে তাবিজ-তুমার, জড়িবুটি
বেদে-জেলে ভাই ভাই, বানে ঐ ডুবছে সাহারা
বাঁচতে চাই, চলো বানভাসিতে মধ্যরাতে ছুটি।
একদিন বিলঝিল ফের থইথই, কোষা বেয়ে যাই বাড়ি
কুমিরেরা আসে চুপি চুপি, শেষরাতে প্যাঁক-কাদা ভেঙে
মায়ে-ঝিয়ে ফেরে, থালা ভরা বাসি ভাত-তরকারি।
পালাকার ক্ষুধায় নির্ঘুম, অন্ধকারে গোক্ষুর উন্মাদ
মাহে ভাদরে মেটে না যে বিদ্যাপতির সাধ।
বর্ষাবিজড়িত
মাসুদ মুস্তাফিজ
বৃষ্টি নন্দনপাঠ শেষে ফিরে আসি ঘরে
পকেটভর্তি মেঘরোদে পোড়ে ভাষাশাস্ত্রের আবেগের ঘাম
আষাঢ়স্য হৃৎপিণ্ডে ঢুকে বৃষ্টি ফোটাচ্ছে মাঠে-রাস্তায়
বৃষ্টি পড়ুয়া কিশোরী বারান্দায় দাঁড়িয়ে একা
হালকাবৃষ্টি ভারিবৃষ্টি একসাথে
গল্প করে
পথে নাগরিক মন
জানালায় জেগে থাকা জামরুলগাছ পাহারা দিচ্ছে রোদ
পাখিদের বাণিজ্যিক সহপাঠ আজন্ম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে
কিশোরীর রোদের জামা আকাশ ভিজেয়ে দিয়েছে বর্ষাবায়ু
নামুক বর্ষা এই যৌথমনের অন্ধকারে বেপরোয়া বাৎসায়নে
ও কিশোরী!
তুমি কি আমাকে ডেকেছিলে নিরানন্দ কালোমেঘে– ছায়াস্কেচে...
দক্ষিণডিহি
চঞ্চল শাহরিয়ার
ইচ্ছামতো ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই আমি অকুল দরিয়া। তারপর বৃষ্টিভেজা দক্ষিণডিহির দুপুরটা হয় মনোহর। সেইখানে চুপিচুপি রবীন্দ্রনাথ আর কাজীদের মেয়ে বারবার টেনে নিয়ে গেছে।
ভরা বর্ষা আমি উপভোগ করি। অকুল দরিয়া গোপন চিঠির খাম হাতে গুঁজে দেয়। দক্ষিণডিহির জন্য পিছুটান বাড়ে। খুব পিছুটান।
ধনেশ পাখির নৃত্য
পরাগ রিছিল
ধনেশ পাখির নৃত্যে
তুমি আমি একই বৃত্তে
সমান্তরালে; উড়ে বেড়াব আজ
পাহাড়ের অনেক উপরে...
যেখানে সৃষ্টি হয় ঝড়ের গম্ভীর আওয়াজ
ভয় পাব না, তীব্র বাতাসের তোড়ে
দুজনে মেলব ডানা!
আজ আমাদের প্রেম
মুখে মিষ্টি হাসি
কখনও চকিতে মেলব চোখ
নিচের দূরের সবুজ পৃথিবীতে...
তীব্র বেগে উঁচু-নিচুতে
করব দুজন ওঠানামা
চলো করি প্রতিযোগিতা
বাতাসের সাথে দুলেদুলে
ভুলে যাব শিকার!
তাবৎ ক্ষুধা-তৃষ্ণা
কেবলি চোখে চোখ
লুসাই তরুণ-তরুণী
যখন দুজন দুজনার...
দৃশ্যান্তর
তাহিতি ফারজানা
দৃশ্যের বাইরে আছে বহু দৃশ্যপট
শ্রবণের বাইরে শব্দ– সামুদ্রিক অতলতা
স্বাদ, গন্ধ, অবয়বহীন ফুটে থাকা,
ফুটে থাকা অশ্রুত নাম হয়ে।
আয়ু জলের মতো মুঠোবন্দি করে
পার হওয়া যায় না মরু
ফিরে আসাটুকু থাকে নিজের কাছে
অনধিকৃত হৃদয়ে বলা যায়–
ভালোবাসলে ফুল জন্ম নেয় অস্তিত্বে
দুঃখ দিলে জন্মায় প্রজাপতি।
দৃশ্যের বাইরে আছে মৃত্যুহীন নদী
আনকোরা রং, রক্তপাতহীন বহমানতা।
ঘুঘুডাকা দুপুরের অবয়বে তুমি– আমার অধিকার।
ঈশ্বর– প্রগাঢ় অন্ধকারে মৃত্যুঞ্জয় ঝিঁঝি।।
- বিষয় :
- কবিতা