বনফুলের চিরকুট
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (১৯ জুলাই ১৮৯৯-৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)
সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: নিজাম বিশ্বাস
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০২ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (১৯ জুলাই ১৮৯৯-৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯) ‘বনফুল’ ছদ্মনামেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বহুমুখী সাহিত্যিক। পেশায় চিকিৎসক হলেও সাহিত্যসাধনাই তাঁকে স্থায়ী খ্যাতি এনে দেয়। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনীসহ প্রায় সব সাহিত্যধারায় তিনি স্বচ্ছন্দে লিখেছেন। সংক্ষিপ্ত পরিসরে গভীর মানবিক অনুভূতি ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর ছোটগল্পে জীবন, সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব সংযত ও শিল্পিত ভঙ্গিতে প্রকাশ পেয়েছে। বাংলা ছোটগল্পের বিকাশে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। সাহিত্যজীবনে তিনি বহু সম্মাননায় ভূষিত হন এবং আজও তাঁর রচনা সমানভাবে পাঠকপ্রিয়।
১৯৪৪ সালে বনফুল কর্মসূত্রে বিহারের ভাগলপুরে কর্মরত ছিলেন। সে সময় ভাগলপুরসহ সমগ্র বিহারের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতার কারণে টাইফয়েড, আমাশয়, কলেরা এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ নিয়মিত দেখা যেত। টাইফয়েডের চিকিৎসাও তখন ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত; কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা তখনও ভারতে ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। ফলে রোগটি অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠত।
এমনই এক সময় বনফুলের বড় মেয়ে গুরুতর টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। কন্যার অসুস্থতা তাঁকে গভীর উদ্বেগে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের রাজশাহী কলেজ থেকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু মেয়ের অসুস্থতার কারণে তিনি রাজশাহী যেতে অপারগ হন এবং একটি চিরকুটে সে কথা জানান।
রাজশাহী কলেজের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পুরোনো নথিপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময় কাগজপত্রের স্তূপ থেকে চিঠিটি উদ্ধার হয়। পরে রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এ. জেড. এম. আখলাকুর রহমান এটি সংরক্ষণ করেন। বনফুলের এই চিরকুট তাঁর পারিবারিক দায়িত্ববোধ, বিনয় এবং ব্যক্তিজীবনের এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তের মূল্যবান দলিল।

- বিষয় :
- চিঠি