ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বই পাঠের বিপ্লব

ডলি পার্টনের ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’

ডলি পার্টনের ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’
×

ডলি পার্টন [১৯ জানুয়ারি ১৯৪৬–২৫ আগস্ট ২০২৬]

মালেকা পারভীন

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কান্ট্রি সংগীতের অবিসংবাদিত সম্রাজ্ঞী ও বিশ্বনন্দিত পরোপকারী ব্যক্তিত্ব ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মহাকালের পথে পা বাড়িয়েছেন। তাঁর অবিস্মরণীয় সংগীত জীবনে তিনি কেবল সুরের মায়াজালেই বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেননি, বরং তাঁর তিল তিল করে গড়ে ওঠা নাটকীয় জীবন, দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বিশ্বমঞ্চ জয়ের গল্প এবং বিশেষ করে শিশুদের মনে বই পাঠের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর রূপকথার মতো অবদান– তাঁকে সাধারণ শিল্পীর গণ্ডি পেরিয়ে অভূতপূর্ব মানবিক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।  
ডলির বহুমুখী মানবিক কাজের মধ্যে সবচেয়ে গৌরবময় এবং দূরদর্শী সৃষ্টি হলো তাঁর ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’। ১৯৯৫ সালে টেনেসির একটি ছোট কাউন্টি থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ বিশ্বজুড়ে এক মহিরুহে পরিণত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল দর্শন অত্যন্ত সরল কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী: প্রতিটি শিশুর ঘরে যেন বই থাকে, তা তাদের পারিবারিক বা অর্থনৈতিক অবস্থা যা-ই হোক না কেন। 
শৈশব থেকেই অক্ষরের প্রতি ভালোবাসা, কল্পনার ডানার বিস্তার এবং শিক্ষার মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইমাজিনেশন লাইব্রেরি আজ বিশ্বজুড়ে অনন্য বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। ডলি পার্টনের এই কালজয়ী উদ্যোগ কীভাবে শিশুদের মনে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে এবং এর পেছনে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত দর্শন, সংগীতের সাথে এর মেলবন্ধন, শিক্ষাবিদদের গবেষণার তথ্য ও অভাবনীয় সাফল্যের খতিয়ান এই লেখায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইমাজিনেশন লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পটভূমি: বাবার প্রতি এক কন্যার  পরম শ্রদ্ধা
যে কোনো বড় পরিবর্তনের পেছনে একটি গভীর আবেগঘন গল্প থাকে। ইমাজিনেশন লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ডলি পার্টনের নিজস্ব পারিবারিক ইতিহাস ও তাঁর বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা।
ডলি পার্টনের বাবা রবার্ট লি পার্টন ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, কঠোর পরিশ্রমী এবং একজন দক্ষ কৃষক ও কাঠুরে। কিন্তু অ্যাপালেশিয়ান পাহাড়ের চরম দারিদ্র্যের কারণে শৈশবে তাঁর কখনও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। ফলত, তিনি পুরোপুরি নিরক্ষর ছিলেন– লিখতে বা পড়তে পারতেন না। ডলি নিজের চোখে দেখেছেন, একজন সক্ষম ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হওয়া সত্ত্বেও সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে নিরক্ষরতার কারণে তাঁর বাবাকে কতটা অবহেলা, লাঞ্ছনা আর প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। ডলি প্রায়ই বলতেন, তাঁর বাবা ছিলেন তাঁর দেখা অন্যতম সেরা মানুষ, কিন্তু একটুকরো অক্ষরের আলো না থাকা তাঁর জীবনের বড় একটি কষ্ট ছিল। তিনি তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, “আমার দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষটি ছিলেন আমার বাবা, কিন্তু আমি মনে মনে জানতাম, পড়তে না পারার এই অক্ষমতা হয়তো তাঁকে তাঁর সব স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি।”
বাবার এই নীরব বেদনা ডলির তরুণ মনে গভীর রেখাপাত করেছিল। তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, একদিন তিনি এমন কিছু করবেন যাতে কোনো শিশুকে যেন তাঁর বাবার মতো নিরক্ষরতার অভিশাপ নিয়ে বড় হতে না হয়। এই প্রতিজ্ঞা থেকেই ১৯৯৫ সালে তিনি টেনেসির সেভিয়ার কাউন্টিতে, যেখানে তাঁর নিজের জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেখানে ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। 


ডলি তাঁর বাবাকে এই উদ্যোগের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় এই লাইব্রেরির প্রসার দেখে রবার্ট পার্টন অত্যন্ত গর্ববোধ করেছিলেন। শিশুরা যখন ডলিকে ‘বইওয়ালা আপা’ (Book Lady) বলে ডাকত, তখন তাঁর বাবার চোখ আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠত। মৃত্যুর আগে তাঁর বাবা ডলিকে বলেছিলেন যে, এই লাইব্রেরিটিই সম্ভবত ডলির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ডলি পার্টনের সংগীত এবং তাঁর এই সমাজসেবামূলক কাজের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য আত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি কেবল ডেস্কে বসে বই বিলি করেননি, বরং তাঁর গানের যে জীবনমুখী দর্শন, তারই বাস্তব রূপান্তর ঘটিয়েছেন এই লাইব্রেরির মাধ্যমে।
–তাঁর বিখ্যাত গান ‘Coat of Many Colors’-এ ডলি গেয়েছিলেন কীভাবে তাঁর মা কাপড়ের টুকরো জোড়াতালি দিয়ে তাঁর জন্য একটি রঙিন কোট বানিয়ে দিয়েছিলেন। গানটির মূল কথা ছিল– দারিদ্র্য কেবল একটি অর্থনৈতিক অবস্থা; মানুষের আসল সম্পদ তার মনে এবং পরিবারে থাকে। ইমাজিনেশন লাইব্রেরি ঠিক এই দর্শনেই চলে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে মানসম্মত বই উপহার দিয়ে ডলি প্রমাণ করেছেন যে, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা যেন শিশুর কল্পনার জগৎকে ছোট করতে না পারে। গানের সেই লাইনের মতো– “…That one is only poor/Only if they choose to be”– ডলি শিশুদের বইয়ের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ধনী করে তুলতে চেয়েছিলেন।
–তাঁর ক্ল্যাসিক হিট গান ‘9 to 5’-এ শিল্পী সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রতিদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি ও শোষণের বিরুদ্ধে সুর তুলেছিলেন। ডলি বুঝতে পেরেছিলেন, এই একঘেয়ে খাঁচা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো শিক্ষা আর জ্ঞানের আলো। তাঁর বাবার মতো শ্রমজীবীরা যেন নিরক্ষরতার কারণে পিছিয়ে না পড়েন, তাই তিনি শৈশবেই শিশুদের মনে শিক্ষার বীজ বুনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জ্ঞানই মানুষকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, আর এই সচেতনতার প্রথম ধাপ হলো বই।
–মাইলি সাইরাসের সাথে গাওয়া ডলির ‘Rainbowland’ গানটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায় যেখানে শিল্পীর দৃঢ় উচ্চারণ: “And I smile/’Cause I know if we try, we could really make a difference in this world…”। ইমাজিনেশন লাইব্রেরির বই নির্বাচনে এই দর্শনের প্রতিফলন স্পষ্ট। লাইব্রেরিটি এমন সব বই নির্বাচন করে যা বিভিন্ন সংস্কৃতি, বর্ণ এবং পটভূমির শিশুদের গল্প তুলে ধরে। ডলি বিশ্বাস করতেন, বইয়ের পাতার মাধ্যমেই শিশুরা অন্য সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখে।
–নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর বিদায়ের গান হিসেবে ‘I Will Always Love You’ বিশ্বখ্যাত হলেও ডলির জীবনের মূলমন্ত্র ছিল সবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। ইমাজিনেশন লাইব্রেরির মাধ্যমে পাঠানো প্রতিটি বই ছিল শিশুদের প্রতি তাঁর সেই ভালোবাসারই এক-একটি চিঠি। ডলি তাঁর অগণিত ভক্ত ও শিশুদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী বার্তা দিয়ে গেছেন, বই পড়তে থাকো এবং মনে রেখো– আমি তোমাদের সব সময় ভালোবেসে যাব।
ইমাজিনেশন লাইব্রেরির মূল কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক, সহজ এবং ঘরে ঘরে বিনামূল্যে বইয়ের ডাক সরাসরি শিশুদের কাছে পৌঁছানোর জন্য তৈরি। 
‘জন্ম থেকে পাঁচ বছর’ মডেল
এই কর্মসূচির আওতায় যে কোনো শিশু তার জন্মের পর থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে প্রতি মাসে একটি করে নতুন, মানসম্মত এবং বয়স উপযোগী বই উপহার পায়। ফলে স্কুলে যাওয়ার আগেই তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে প্রায় ৬০টি বইয়ের লাইব্রেরি গড়ে তুলতে পারে।
সরাসরি ডাকযোগে ডেলিভারি 
বইগুলো কোনো লাইব্রেরি বা স্কুলে গিয়ে সংগ্রহ করতে হয় না। প্রতিটি বই সরাসরি শিশুর নিজের নামে ডাকযোগে বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো হয়। ডলি পার্টনের বিশ্বাস ছিল, নিজের নামে একটি চিঠি বা পার্সেল পাওয়ার আনন্দ শিশুদের মনে অনন্য উদ্দীপনা তৈরি করে। যখন শিশু প্রতি মাসে তার নিজের নাম লেখা একটি বইয়ের প্যাকেট খোলে, বইটির প্রতি মালিকানাবোধ এবং আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
বই নির্বাচন কমিটি 
লাইব্রেরির মাধ্যমে যে বইগুলো পাঠানো হয়, সেগুলো এলোমেলোভাবে নির্বাচিত নয়। শিশুসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং শিশু উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘ব্লু রিবন বুক সিলেকশন কমিটি’ প্রতি বছরের জন্য বইগুলো নির্বাচন করে। বিশ্ববিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউসের মাধ্যমে এই বইগুলো মুদ্রিত ও নির্বাচিত হয়। বইগুলোর বিষয়বস্তু এমনভাবে সাজানো হয়, যা শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সাহায্য করে।
শিশুদের মনস্তত্ত্ব ও শিক্ষায় ইমাজিনেশন লাইব্রেরির সুদূরপ্রসারী প্রভাব
স্কুলে যাওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে যেসব শিশু জন্মের পর থেকে ঘরে বইয়ের সান্নিধ্যে বড় হয়, স্কুলে যাওয়ার পর তাদের পড়ার এবং বোঝার ক্ষমতা সাধারণ শিশুদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি থাকে। ইমাজিনেশন লাইব্রেরি শিশুদের শব্দভান্ডার বাড়াতে এবং অক্ষরের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করতে সাহায্য করে, ফলে স্কুলে গিয়ে তারা পড়ালেখাকে বোঝা মনে করে না।
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়করণ 
এই কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হলো, এটি কেবল শিশুদেরই নয়, বরং বাবা-মাকেও বই পড়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে। প্রতি মাসে নতুন বই আসার পর বাবা-মা রাতে ঘুমানোর আগে বা অবসরে শিশুকে বইটি পড়ে শোনান। এর ফলে পরিবারের মধ্যে একটি সুস্থ শিক্ষণীয় পরিবেশ তৈরি হয় এবং বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সমতা প্রতিষ্ঠা
দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের পক্ষে বাজার থেকে দামি বই কিনে পড়া সম্ভব হয় না। ইমাজিনেশন লাইব্রেরি ধনী-দরিদ্রের এই বৈষম্য দূর করেছে। একটি এলাকার ধনী পরিবারের শিশুটি এবং বস্তি বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিশুটি-উভয়ই প্রতি মাসে একই মানের বই হাতে পাচ্ছে। এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক সমতা এনে দিয়েছে। ড. ক্লেয়ার গালিয়ার গবেষণায় দেখা গেছে, এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় ও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া কমিউনিটিগুলোর ওপর।
ডিজিটাল যুগে কাগজের বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা
আজকের বিশ্ব যখন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং ভিডিও গেমসের স্ক্রিন টাইমে বন্দি, তখন ডলি পার্টনের কাগজের বই বিলানোর এই সাহসী জেদ অসাধারণ তাৎপর্য বহন করে। ডলি সব সময় বিশ্বাস করতেন, একটি শারীরিক বইয়ের পাতা উল্টানো, তার গন্ধ নেওয়া এবং রঙিন ছবির ওপর হাত বুলানোর যে অকৃত্রিম আনন্দ– তা কখনও কোনো ডিজিটাল স্ক্রিন দিতে পারে না। ইমাজিনেশন লাইব্রেরি ডিজিটাল যুগের শিশুদের আবার স্পর্শযোগ্য বাস্তব বইয়ের দিকে ফিরিয়ে এনেছে, যা তাদের মনোযোগের গভীরতা এবং সৃজনশীল কল্পনাশক্তি বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
অক্ষরের আলোয় অমরত্ব
ডলি পার্টন একবার বলেছিলেন, “আপনি যদি কখনও কোনো শিশুর মনে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে পারেন, তবে আপনি তাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহারটি দিলেন।” তিনি সুরের ভুবন থেকে যে অর্থ ও সম্মান উপার্জন করেছিলেন, তার সিংহভাগই ঢেলে দিয়েছিলেন শিশুদের এই অক্ষরের ভুবন সাজাতে।
গ্ল্যামার এবং ফ্যাশনের জমকালো দুনিয়ায় থেকেও নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে ডলি পার্টনের চিন্তাভাবনা ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ, গভীর এবং সুদূরপ্রসারী। নিজের সম্পর্কে শিল্পী চমৎকার এক ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন: “১০০ বছর পরে যদি মানুষ আমাকে মনে রাখে, তবে আমি আশা করি, তারা আমাকে আমার লুক বা চেহারার জন্য নয়, বরং বুক বা বইয়ের জন্য স্মরণ করবে।” 
আজ ডলি পার্টন শারীরিক অবয়বে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া সুরের ঝংকার আর লাখ লাখ শিশুর হাতে পৌঁছে যাওয়া বইয়ের পাতাগুলো তাঁকে এই পৃথিবীতে অমর করে রাখবে। তাঁর নামের সাথে জড়িয়ে থাকা ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ প্রতিদিন কোটি কোটি শিশুর মনে বেঁচে থাকবে। ডলির দেওয়া বই পড়ে যে শিশুটি আজ বড় হচ্ছে, আগামী দিনে সে-ই হয়তো বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। সুরের কান্ট্রি কুইন ডলি পার্টন তাঁর এই নিঃস্বার্থ, মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রতিটি বইয়ের পাতায় এবং কোটি শিশুর হাসির মাঝে চিরকালের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর এই অক্ষরের অবিনাশী আলো জ্বেলে যাওয়ার মহাকাব্যিক যাত্রার প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনম্র শ্রদ্ধা। 

আরও পড়ুন

×