ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

খালুইভর্তি হাহাকার

খালুইভর্তি হাহাকার
×
×

অলংকরণ :: সাফায়েত সাগর

রনি রেজা

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাছবাজারের দক্ষিণের ছাউনি ঘুরেটুরে সবেমাত্র পুবের ছাউনিতে পা রাখবে ছমেদ, অমনি পেছন থেকে এক স্যুট পরা সাহেবের ডাক। কিছুটা বিরক্ত হয় ছমেদ। বাজারে নানাজনের আনাগোনা। কতজন কতকিছু জিজ্ঞেস করে। করতেই পারে। এজন্য বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই। স্যুট পরা ভদ্রলোক– এই কেষ্টপুর বাজারে কমই দেখা মেলে। ছোট্ট এই বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই কমবেশি চেনাজানা। হঠাৎ হঠাৎ এমন দুয়েকজন শহুরে ভদ্রলোকের দেখা মেলে। তাদের গ্রামের অতিথি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। সবাই সমীহ করে, আদবকায়দার সাথে কথা বলে। ক্রেতারাও যতটা সম্ভব কম লাভে জিনিস ছাড়ে। হাসিমুখে কথা বলে। সবই লক্ষ্য রাখে– যেন কেষ্টপুর বাজারের সুনাম নষ্ট না হয়। তারা যখন দূর গ্রামে গিয়ে কেষ্টপুরের সুনাম শোনে, মনটা জুড়িয়ে যায়। সারল্যে ভরা গ্রামীণ জীবনে অতটুকুই তাদের প্রাপ্তি। খেয়ে, না খেয়ে থাকলেও বদনামকে তারা ভীষণ ভয় করে। সহজ-সরল মানুষগুলো মানুষের মূল্যায়ন করতে জানে বেশ। ছমেদও ব্যতিক্রম নয়। কতজনকে সে নিজেও সাথে করে নিয়ে পর্যন্ত গন্তব্য দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ ছমেদের মেজাজ তিরিক্ষি। তার ওপর সময়ও নেই। ছোট ছেলেটা কদিন ধরে ইলিশ মাছের ছালুন দিয়ে ভাত খাবে বলে বিরক্ত করছে। শুধু কি ছোট ছেলেটা? ছমেদের মনে কি ইলিশ মাছের ঝোল খাওয়ার ইচ্ছেরা উঁকি দেয়নি? এই মাছটার প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা আছে ছোটবেলা থেকেই। কতজনের তো কত কিছুতে নেশা থাকে। কারও মদ-গাঁজা খাওয়ার নেশা, কারও নেশা জুয়া খেলায়, কারও নারী মানুষে তো কারও টাকাপয়সায়। ছমেদের নেশা ইলিশ মাছে। ছোটবেলা বাবা যেদিন বাজার থেকে ইলিশ মাছ আনতেন সেদিন আর ছমেদ বাড়ির বাইর হতো না। কাটা-ধোয়া থেকে শুরু করে জ্বাল দেওয়া পর্যন্ত থাকত মায়ের পিছে পিছে। চুলার কাছে বসে কোনোরকম জ্বাল হলেই খেতে চাইত। মায়ের ধমকের কাছে যদিও সে বাসনা অপূর্ণ থেকে যেত। পরে ঘরে তুলে রাখলে সেখান থেকে চুরি করে খেতে গিয়ে কতবার মায়ের হাতে মার খেতে হয়েছে, দাবড়ানি খেয়ে কত দুপুর না খেয়ে কাটাতে হয়েছে! খেতে বসে নিজের প্লেটের টুকরা আগেভাগে শেষ করে তাকিয়ে থাকত দাদির প্লেটের দিকে। দাদি তাকে একটু বেশিই আদর করতেন। চুপিচুপি নিজের প্লেটের ইলিশের টুকরা তুলে দিতেন ছমেদের পাতে। আট ভাইবোনের সংসারে পড়ালেখা করতে পারেনি ছমেদ। স্কুলে যাওয়ার বয়সেই বাবার সাথে হাল ধরতে হয়েছে তার। তখন হাটে হাটে এক টাকা, দুই টাকা হাতখরচের জন্য দিতেন বাবা। সেই টাকা জমিয়ে একবার মোটামুটি বড় সাইজের একটা ইলিশ কিনে বাড়িতে হাজির হয়েছিল ছমেদ। সেই কাণ্ড দেখে তো সবাই অবাক। অবশ্য মা তো জানতেনই ছমেদের ইলিশপ্রীতি। বড় সংসারে চাইলেও ছমেদকে আলাদা করে একটুকরা মাছ বেশি দিতে পারতেন না। ওই ঘটনায় মায়ের চোখে জল চলে আসে। রাতে ছমেদের বাবা ফিরলে তার মা ঘটনার বিস্তারিত বললেন। এরপর থেকে তার জন্য একটুকরা মাছ বেশিই বরাদ্দ থাকত। একদিন মামাবাড়িতে বেড়াতে গেলে প্রতিবেশী একজন জিজ্ঞেস করেছিল ‘বড় হয়ে কী করবা?’ ছমেদ উত্তর দিয়েছিল– ‘ইলিশ মাছ কিনমু।’ ছমেদের সেই কথায় হো হো করে হেসেছিল সবাই। বড় হয়ে ঠিকই ছমেদ ইলিশ মাছ কেনে প্রতি মৌসুমে। বর্ষা মৌসুম এলে আগেভাগে ইলিশ চড়ে ছমেদের হাঁড়িতে। বাড়ির আশপাশে হয়তো ছমেদের বাড়ির ইলিশের ঘ্রাণ পেয়েই বুঝতে পারে বাজারে ইলিশ উঠতে শুরু করেছে। এবার হাটে ইলিশ এসেছে অনেক আগেই, ছমেদের এখনও ইলিশের গন্ধ নেওয়া হয়নি। হিসেবি ছমেদ খাওয়াদাওয়ার বেলায় কখনও কার্পণ্য করে না। ইলিশের বেলায় তো নয়-ই। তা ছাড়া বর্ষার মৌসুমে সবাই কমবেশি ইলিশ মাছ খায়। প্রতি হাটে গেরস্তরা পাট বিক্রি করে ইলিশ কিনে বাড়িতে ফেরে। যারা দিন আনে দিন খায় তারাও বছরের এই সময়টা দু-চার দিন ইলিশ কিনে খাওয়ার চেষ্টা করে। ছমেদও প্রতিবছর খায়। হিসেব কষলে একেবারে কম খায় না। গৃহস্থালি কাজ করে ছমেদ। মহাজনের থেকে দাদন নিয়ে জমি চাষ করে। ফসল বিক্রি করে মহাজনকে দেওয়ার পর যা থাকে তা দিয়ে বছর চলে যায়। কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই। এ ছাড়া কারও থেকে ধার করে না, কাউকে ধার দেয়ও না। আসলে দেওয়ার উপায়ও থাকে না। যাকে বলে কাঁটায় কাঁটায় বছর পার। এ বছর ফসল ভালো হয়নি। কৃষকের অভাবে সঠিক সময়ে ধান কাটতে পারেনি। দামও পায়নি তেমন। তার ওপর সবকিছুর যে চড়া দাম, তাতে টিকে থাকাই দায়। ছমেদ তো কখনোই বেহিসেবি ছিল না যে হিসেব করে দু’চার টাকা খরচ কমাবে। সবকিছুর দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। তেল, ডাল, চিনি তো আরও বেশি। বাজারে গেলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। যেখানেই হাত দিক, হতাশ হতে হয়। যেন ছমেদের জন্য কিছুই নেই। এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত কয়েক চক্কর দিয়ে শেষে হয়তো অল্পবিস্তর যা পায় কিনে বাড়িতে ফেরে। কোনো কোনো দিন তো দাম কমার জন্য চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষা করতে হয়। যত বেলা বাড়ে মাছের দাম তত নামতে থাকে। তাই চায়ের দোকানে গল্প করার নামে ছমেদ অপেক্ষা করতে থাকে কখন মাছের দাম কমে আসবে। শেষে মরা, আধগলা কিছু পুঁটি নয়তো পাঙাশ মাছ কিনে বাড়িতে ফিরতে হয়। তবে প্রতিদিনই ইলিশের বাজারে দুয়েকবার ঘুরে আসে সে। দাম জিজ্ঞেস করার সাহস করে না। বখাটে প্রেমিকের মতো নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দেখতে থাকে আড়চোখে। চায়ের দোকানে বসে গল্প করার সময়ও চোখ থাকে কে রাস্তা দিয়ে ইলিশ মাছ নিয়ে যাচ্ছে। হাতে ঝুলিয়ে যে-ই ইলিশ মাছ নিয়ে যাক, দাম জিজ্ঞেস করে ছমেদ। কোনটায় কেমন স্বাদ হবে তা নিয়েও হয়তো দু’চার কথা বলে। সেদিন সবদেল মাতুব্বর মোটামুটি সাইজের দুইটা ইলিশ মাছের কাইলসার মধ্যে সুতলি দিয়ে বেঁধে হাতে ঝুলাতে ঝুলাতে যাচ্ছিল। হাঁক ছেড়ে দাম জিজ্ঞেস করল ছমেদ। পানখাওয়া মিচমিচে কালো দাঁতের ফাঁকে কাঠি ঠেলতে ঠেলতে সবদেল মাতুব্বর দামের সাথে মাছের ওজনও জানাল। অমনি ছমেদ বলল– ‘মাছ দুটোয় ডিম অয় নাই এহনও। স্বাদ অবে মাশাল্লা।’
দোকানদার এনায়েত টিপ্পনী কেটে বলে– ‘ছমেদ কাকা তো ইলিশ বিশেষজ্ঞ হইয়া গ্যালা। তুমি হাল-হালটি বাদ দিয়া ইলিশের কারবার শুরু করো। তা এই বছর তো তুমারে ইলিশ মাছ কিনতে দেখলাম না একদিনও। এই বছর কি ইলিশ খাবা না? নাকি মাইনষ্যের কিনা ইলিশ মাছ দেইহাই স্বাদ মাপবা?’
কথাগুলো কাঁটার মতো বিঁধেছে। সেদিন থেকেই টার্গেটে ছিল কমপক্ষে একটি ইলিশ কেনার। হাতে টাকাকড়িও নেই। গত কয়েকদিন তো বাজারই করতে পারে না। বউ বাড়ির আশপাশ থেকে শাকপাতা খুঁটে এনে ছেলেমেয়েগুলোর পাতে তুলে দিচ্ছে। চালও ফুরিয়ে গেছে। পাট বেচে যা পেয়েছিল হাজি সাহেবের দেনাই শোধ হয়নি। ছবুরন বলেছে কারও থেকে ধারকর্য করে এই বছর চলতে হবে। ছমেদ তাতে নারাজ। ধার সে করবে না। যত কষ্টই হোক। কিন্তু চলতে তো হবে। না খেয়ে তো মরা যাবে না। অন্যের জমিতেও কাজকাম নেই। এই মৌসুমে সবাই প্রায় বেকারই থাকে। নিজের জমি থাকলে টুকটাক কাজ থাকে। তা ছাড়া বাড়তি কামলা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এ অবস্থায় ইলিশের কথা বললে ছবুরন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবে নিশ্চিত। কী করবে বুঝে উঠতে পারে না ছমেদ। পরদিন দুপুরবেলায় খেতে বসে ইলিশ মাছের কথা বলে ছোট ছেলেটা। প্রথমে বড় মেয়ে ফতে বলে– ‘কতদিন হয়ে গেল মাছ খাই না। এভাবে ভাত খাওয়া যায়? আব্বা মাছ কিনবা কবে?’
অমনি ছোট ছেলে ছেন্টু বলে ওঠে– ‘ইলিশ মাছ কিনবা আব্বা। কুটি কাকা আইজক্যা বড় এট্টা ইলিশ মাছ কিনছে। প্যাটভরা ডিম।’ কথা শুনে ছবুরনের মুখের দিকে তাকায় ছমেদ। ছবুরন তাকায় ছমেদের দিকে। শেষে ছেলেমেয়েকে ধমক দিয়ে থামায় ছবুরন– ‘তাড়াতাড়ি খাইয়া ওঠ। খাইতে বইলেই দুইন্যার প্যাঁচাল।’ তখনকার মতো চুপ হয় ওরা। কিন্তু ছোট ছেলেটা এরপর খেতে বসলেই ইলিশ মাছ ইলিশ মাছ করে জ্বালাতন করতে থাকে। ছমেদও একটা সুযোগ পেয়েছে যেন। ছবুরনকে বলে মুড়ি ভাজার জন্য আলাদা করে রাখা ধানগুলো চেয়ে নিয়ে বিক্রি করে। বিক্রি করেছে গতকাল হাটেই। বেচতে বেচতে সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে। ততক্ষণে মাছের বাজার ফাঁকা। তাই আজ সকাল সকাল এসেছে। অনেকদিন পর দাদার কালের সেই খালুইটা নিয়ে বাজারে এসেছে। এই খালুইয়ের একটা ঐতিহ্য আছে। ছমেদের দাদা ছিলেন সৌখিন মানুষ। ঋষিবাড়িতে অর্ডার দিয়ে নিজে নকশা বলে খালুইটা বানিয়ে এনেছিলেন। আশপাশের দশ গ্রামের মানুষ এই খালুই দেখলে চিনে ফেলত। এরপর ছমেদের বাবাও খালুইটি ব্যবহার করত। ব্যবহার করে ছমেদও। তবে সব দিন না। যেদিন বিশেষ বিশেষ ভালো বাজার থাকে সেদিন খালুইটি নিয়ে বাজারে যায় ছমেদ। আগের দিন তো এখন নেই। খালুই ভরে বাজার করতে অনেক টাকা দরকার। ওই টাকায় ছমেদের প্রায় মাস চলে যায়। এখন টুকটাক বাজার আনার জন্য বাড়ি থেকে ব্যাগ না নিলেও হয়। অন্যান্য বছর ইলিশ মাছ কেনার দিনও খালুই ব্যবহার করে না ছমেদ। কিন্তু আজকের ব্যাপারটা ভিন্ন। এ বছর ইলিশ মাছ কেনা হয়নি মোটেও। তা ছাড়া আজকের মতো আয়োজন করে ইলিশ মাছ কেনার জন্য কখনও বাজারে গেছে বলেও ছমেদের মনে পড়ে না। তাই ছবুরনকে বলেই খালুইটা হাতে নিয়ে বাজারের দিকে ছোটে ছমেদ। গিয়ে সোজা মাছের বাজারে ঢুকে পড়ে। চায়ের দোকানে বসে গল্প তো দূরে থাক, ঢুঁ-ও মারেনি। 
ঘণ্টা দুই পার হয়ে গেল, ছমেদ মাছ কিনতে পারল না। দক্ষিণের বাজারের সবগুলো ইলিশ মাছের পেটেই ছমেদের আঙুলের ছোঁয়া পেয়েছে। টিপে টিপে পরখ করে শেষে দামে বনিবনা হয় না। ছোট ছোট মাছ তা-ও কেন আগুনধরা দাম? কয়েক দফা ব্যাপারীর সাথে ঝগড়াও করেছে। দক্ষিণের ছাউনিতেই বেশি ইলিশ মাছ ওঠে। পুবের ছাউনিতে ওঠে অন্যান্য মাছ। তবে পুবের ছাউনিতেও কোনো কোনোদিন ইলিশ পাওয়া যায়। দক্ষিণের ছাউনি থেকে তো কেনা গেল না। পুবের ছাউনিতে যদি মুলামুলি করে একটা মেলানো যায়! এমন সময় পেছন থেকে ওই ভদ্রলোকের ডাক। 
‘চাচা, ফলের দোকান কোন দিকে?’ 
‘এই তো অইইইই...’ বলতে গিয়ে থেমে যায় ছমেদ। ঠিক মনে করতে পারে না। আগে নদীর পারে একচালা ছাউনির নিচে বসে কয়েকজন বিক্রি করত। সেখানে পাকা ঘাটলা বাঁধানোর পর কোনদিকে গেছে ছমেদ জানে না। কয়েকবার এদিক-ওদিক তাকিয়ে চুপ হয়ে যায় ছমেদ। নিজেদের বাজারে, কোথায় ফল বিক্রি হয় বলতে পারে না ছমেদ। লোকটা আবার জিজ্ঞেস করেন– ‘কী চাচা? আপনার বাড়িও কি দূরের কোনো গ্রামে? বলতে পারেন না?’ বলে ছমেদের কাছে ঘেঁষে দাঁড়ান তিনি। এবার জিজ্ঞেস করেন– ‘ময়রার দোকান কোন দিকে? মানে নতুন আত্মীয়র বাড়িতে যাব তো, ফলফলাদি, মিষ্টি মন্ডা না নিয়ে কি যাওয়া যায়?’ 
‘কোন বাড়িতে যাইবেন? কার বাড়ির আত্মীয় আপনে? বলেন, সবার বাড়িই চিনি। এই গ্রামেই আমার বাড়ি।’
‘চাচা, আমি কি আপনাকে বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করেছি? যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেটা বলেন।’ 
এবারও থেমে যায় ছমেদ। ‘মিষ্টির দোকান... মিষ্টির দোকান...’
‘এটাও বলতে পারলেন না? অথচ বলছেন, এই গ্রামেই বাড়ি! সবাইকে আপনি চেনেন।’
‘হ, চিনি তো। কিন্তু বাজান, হইছে কি, গরিব মানুষ তো। বছরেও একবার ফল, মিষ্টি কেনা হয় না।’ 
কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে আর দেরি না করে মাথা নিচু করে ঢুকে পড়ে পুবের ছাউনিতে। গিয়ে একটু ঘোরাঘুরি করে মোটামুটি সাইজের একটা ইলিশ দরদাম করে ঠিকও করে। ব্যাপারীও মাছটা খালুইতে তুলেছে। ছমেদ টাকা দেওয়ার জন্য পকেটে হাত দিয়ে দেখে, পকেট কাটা। পকেটে টাকা নেই। 
বুকের মধ্যে যেন বিশালাকার একটা হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিল কেউ। দরাম করে লুটিয়ে পড়ল ছমেদ। ধরাধরি করে তাকে বাড়িতে নেওয়া হলো। সঙ্গে শূন্য খালুইটা নিতেও ভুল করেনি প্রতিবেশী একজন। 

আরও পড়ুন

×